আজকাল ওয়েবডেস্ক: গুরুগ্রামের একটি হোটেলে এক আইটি ইঞ্জিনিয়ারের রহস্যমৃত্যু। বৃহস্পতিবার হোটেলের শৌচাগার থেকে ৩৮ বছর বয়সি ওই যুবকের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক অনুমান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছে, মৃতের নাম বিজয় স্বরূপ। পুলিশ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার অফিসের কাজে আরও নয় সহকর্মীর সঙ্গে গুরুগ্রামে এসেছিলেন তিনি। সেক্টর ২৯-এর ‘ক্রাউন প্লাজা’ হোটেলে উঠেছিলেন তাঁরা। প্রত্যেকের জন্য আলাদা ঘর বুক করা ছিল। বুধবার কয়েকজন সহকর্মী ফিরে গেলেও বিজয় হোটেলেই থেকে যান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজয়ের হোটেল ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ তাঁর কোনও সাড়াশব্দ না মেলায় সন্দেহ হয় সহকর্মীদের। বারবার ফোন করেও তাঁকে না পেয়ে শেষমেশ পুলিশে খবর দেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ। পুলিশ এসে ঘরের দরজা খুলে দেখে, শৌচাগারের কমোডের ওপর অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন বিজয়। পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

পুলিশ ইতিমধ্যেই দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ওই ঘর থেকে প্রয়োজনীয় নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে ওই যুবকের মৃত্যু হল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে, উত্তরাখণ্ডের দেহরাদুনে এক কাশ্মীরি শাল বিক্রেতাকে নৃশংসভাবে মারধর করা হল। এই ঘটনায় রীতিমত উত্তাল পরিস্থিতি রাজ্যজুড়ে। অভিযোগে ৫০ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। পলাতক আরও এক অভিযুক্তের খোঁজে বর্তমানে তল্লাশি চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার দেহরাদুনের বিকাশনগর এলাকায় শাল বিক্রি করতে গিয়েছিলেন দানিশ (১৮) ও তাঁর ভাই তবিজ (১৭)। অভিযোগ, সেই সময় তাঁদের পথ আটকে পরিচয় জানতে চাওয়া হয় এবং আচমকাই চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। লোহার রড দিয়ে দানিশকে বেধড়ক মারা হয়েছে বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দেহরাদুনের পুলিশ সুপার অজয় সিং জানিয়েছেন, অভিযুক্তের নাম সঞ্জয় যাদব। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কাশ্মীরি ছাত্র সংগঠনগুলি। সংগঠনের প্রতিনিধি নাসির খুয়ামি জানান, লোহার রডের আঘাতে দানিশের বাঁ হাত ভেঙে গিয়েছে এবং মাথায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উত্তরাখণ্ডের পুলিশ মহানির্দেশকের সঙ্গেও কথা বলেছেন তাঁরা।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে আসরে নেমেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তিনি ফোন করেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামিকে। ফোনে ওই যুবকের ওপর হামলার ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ওমর। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীও তাঁকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, অপরাধীদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না এবং সেখানে থাকা কাশ্মীরিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে তাঁর সরকার।