আজকাল ওয়েবডেস্ক: তামিলনাড়ুর কৃষ্ণগিরি জেলার হোসুরের কাছে বেগিলি গ্রামে সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে প্রায় ৯০০ বছরের পুরনো একটি শিবমন্দির, যা পরবর্তী চোল যুগের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। স্থানীয় শিক্ষক ও প্রত্নতত্ত্ব গবেষক জয়লক্ষ্মীর নেতৃত্বে এই গবেষণা পরিচালিত হয়, যেখানে কৃষ্ণগিরি মিউজিয়াম ও ইতিহাস নথিভুক্তকরণ গোষ্ঠীর সহযোগিতা ছিল উল্লেখযোগ্য।


মন্দিরটি একটি ছোট পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ‘বেগিলি’ নামটির অর্থই হল ‘আদিক কারাডু’ বা ‘পাহাড়ের পাদদেশ’। প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি বিশাল বটগাছ পুরো মন্দিরটিকে ঢেকে রেখেছিল, যার ফলে এটি দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল। স্থানীয়রা একে ‘পাণ্ডবগুড়ি’ নামে চিনলেও, জীবিত কোনও গ্রামবাসী এতদিন মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। সাম্প্রতিক পরিষ্কার অভিযানের পরই প্রথমবার মন্দিরের অস্তিত্ব স্পষ্টভাবে সামনে আসে।


প্রত্নতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে জানা গেছে, মন্দিরটি খ্রিস্টীয় একাদশ শতকের এবং চোল সম্রাট কুলোত্তুঙ্গ চোল প্রথমের (১০৭০–১১২২ খ্রি.) শাসনামলের। এর নির্মাণশৈলী ‘কাত্রালি’ বা পাথর কেটে গড়া রীতিতে তৈরি, যা চোল স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। মন্দিরে একটি গর্ভগৃহ ও অর্ধমণ্ডপ রয়েছে। সুস্পষ্ট অধিষ্ঠান ও বোধিকা অলংকরণ থেকে বোঝা যায়, দক্ষ চোল শিল্পীদের হাতেই এর নির্মাণ।


মন্দিরের নিকটে পাওয়া একটি শিলাখোদাইয়ে ত্রিশূল, সূর্য ও চন্দ্রের প্রতীক রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই স্থানটি একসময় রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও ভূমিদানের কেন্দ্র ছিল। তবে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও মানবিক হস্তক্ষেপে মন্দিরটি আজ জীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ধনলোভী লুটেরারা গর্ভগৃহ থেকে মূল শিবলিঙ্গ সরিয়ে ফেলেছে, নন্দী মূর্তিও ভাঙচুরের শিকার। পাশের নীরাঝি মণ্ডপম প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং মূল কাঠামোর একটি অংশ মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে।


বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দা ও গবেষকরা তামিলনাড়ু সরকার ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন এই ঐতিহাসিক মন্দির সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি, মন্দির চত্বরে সম্ভাব্য শিলালিপি উদ্ধার হলে চোল যুগে এই অঞ্চলের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন আলোকপাত সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।