আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেঙ্গালুরুর পথে দিনদুপুরে পোষ্য কুকুরের অতর্কিত হামলা। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হন এক মহিলা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে চরম বিপত্তি। ঘটনার জেরে শহরের এইচএসআর লেআউট এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৬ জানুয়ারি ভোরে টিচার্স কলোনিতে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছিলেন ৩১ বছর বয়সী ওই যুবতী। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, কোনও প্ররোচনা ছাড়াই একটি পোষ্য কুকুর আচমকা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং সরাসরি ঘাড়ে কামড় বসায়।

যুবতীর চিৎকার শুনে এক প্রতিবেশী তাঁকে বাঁচাতে ছুটে আসেন। কুকুরটি তাঁকেও আক্রমণ করার চেষ্টা করে৷ এরপর তিনি সেটির গলা চেপে ধরে আটকে রাখেন। সেই সুযোগে রক্তাক্ত অবস্থায় কোনওমতে বাড়ির ভেতর ঢুকে প্রাণ বাঁচান ওই ইঞ্জিনিয়ার।

কুকুরের কামড়ে যুবতীর মুখ, হাত ও পা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষত এতটাই গভীর যে হাসপাতালে তাঁর শরীরে ৫০টিরও বেশি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।

কুকুরের মালিকের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ এনে থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন যুবতীর স্বামী। আবাসিক এলাকায় এমন ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

অন্যদিকে, গুজরাটের রাজকোট শহরে সম্প্রতি এক আশ্চর্যজনক ঘটনা সামনে এসেছে। একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, একটি পোষা কুকুর এক প্রতিবেশীকে হঠাৎ আক্রমণ করছে। কিন্তু কুকুরটির মালিক সাহায্য করার বদলে উল্টে সেই আক্রান্ত মহিলাকেই সপাটে চড় মেরেছেন!জানা গিয়েছে, রাজকোটের কোথারিয়া এলাকার 'সুরভি পসিবল ফ্ল্যাটস' আবাসনে এই ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার। ঠিক কী ঘটেছিল? 

স্থানীয় সূত্রে খবর, পোষ্যের মালিকের নাম পায়েল গোস্বামী। ফ্ল্যাটের অন্য এক বাসিন্দা, কিরণ বাঘেলা যখন লিফটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তখনই গোস্বামীর কুকুরটি তাঁর দিকে তেড়ে যায়। কুকুরটি কামড়েছিল কি না, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, এরপর কিরণ বাঘেলা কুকুরের মালিক এবং তাঁর সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তিকে (যিনি কুকুরের চেন ধরে ছিলেন) সাবধান হতে বলছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, সাহায্যের বদলে তিনি খুব রেগে যান এবং কিরণ বাঘেলাকে চড় মেরে বসেন। এরপর দু'জনের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ তুমুল কথা কাটাকাটি হয়।

একটি সংগঠন এই ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছে। ঘটনার জেরে রাজকোট পুলিশের কাছে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ মানুষই বলছেন, কুকুরের আক্রমণের চেয়েও মালিকের এই ব্যবহার অত্যন্ত লজ্জাজনক। একজন লিখেছেন, "কুকুর মানুষকে আক্রমণ করল, আর মালিক উল্টে আক্রান্তকে চড় মারলেন। এ কেমন ঔদ্ধত্য? এমন মানুষদের পোষা প্রাণী রাখা উচিত নয়।" আরেকজনের মতে, "পশু পোষার সঙ্গে দায়িত্ববোধ থাকা দরকার। আহত হলে আগে দায়িত্ব নিতে হয়, মারতে হয় না।"

 অনেকেই বলছেন, " মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হোক। আক্রান্ত কিরণ বাঘেলাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।" এই ঘটনায় বর্তমানে কুকুরের মালিকের এহেন অমানবিক আচরণ নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।