আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রে বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন সেখানকার উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। বুধবার সকাল ৯ টা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। এরপরই শোকপ্রকাশ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
তিনি নিজের শোকবার্তায় লেখেন, 'আজ সকালে বারামাতিতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার এবং তাঁর সহযাত্রীদের আকস্মিক প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও স্তব্ধ। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাঁদের চলে যাওয়া এক অপূরণীয় ক্ষতি, যা মনকে গভীর বেদনায় ভরিয়ে দিয়েছে। প্রয়াত অজিত পাওয়ারের পরিবারবর্গের প্রতি—বিশেষ করে তাঁর কাকা শরদ পাওয়ারজির প্রতি—এবং তাঁর সকল আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও অনুগামীদের প্রতি আমি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। এই কঠিন সময়ে তাঁদের শোক সহ্য করার শক্তি দিক ঈশ্বর। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার যথাযথ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন, যাতে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটিত হয় এবং ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যায়। প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনা করি। '
Deeply shocked and stunned by the suddden demise of Ajit Pawar! The Deputy Chief Minister of Maharashtra and his co-passengers have died in a disastrous plane crash at Baramati today morning, and I am feeling a deep sense of loss.
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial)
My condolences to his family including his uncle…Tweet by @MamataOfficial
বারামাতি বিমানবন্দরে বিমানটি নামার সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান, যেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দ্রুত পরিস্থিতি বিবেচনা করে জানিয়েছেন যে পূর্ণ তদন্ত করে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয় করা হবে।
এই দুর্ঘটনা মূলত স্থানীয় ও রাজ্যস্তরে একটি বড় খবর হিসেবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অজিত পাওয়ার দীর্ঘদিন ধরে মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে সক্রিয় এবং তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন, বিশেষ করে NCP-র নেতৃত্বে। এই ধরনের বিমান দুর্ঘটনা সাধারণত বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মকানুন মেনে পরিচালিত হলেও, প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার কারণ জানা যায়নি।
অজিত পাওয়ার জেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে বারামাতিতে চারটি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। মুম্বই থেকে চার্টার করা বোম্বার্ডিয়ার লিয়ারজেট ৪৫ বিমানে করে তিনি বারামাতির উদ্দেশে রওনা দেন। তবে অবতরণের আগেই বিমানটি দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে সম্পূর্ণ বিমানটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ঘটনাস্থলের প্রাথমিক দৃশ্যে দেখা যায়, বিমানটি পুরোপুরি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়ে আছে এবং চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ। দুর্ঘটনার পরপরই সেখানে ভয়াবহ আগুন লাগে এবং কালো ধোঁয়া আকাশে উড়তে দেখা যায়। বারামাতি এলাকাজুড়ে মুহূর্তের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। দমকল ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
