আজকাল ওয়েবডেস্ক: এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স দুর্ঘটনায় নিহত সাত জনের মধ্যে থাকা নিহত রোগীর চিকিৎসার জন্য আট লক্ষ টাকার ঋণ নিয়েছিল পরিবার।
উন্নত চিকিৎসার জন্য নয়াদিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার পথে ঝাড়খণ্ডের চাত্রা জেলায় বিমানটি ভেঙে পড়লে রোগী-সহ সকলেরই মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মৃত সঞ্জয় কুমার ছিলেন গুরুতর ভাবে অগ্নিদগ্ধ। তাঁর চিকিৎসার জন্য পরিবার এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করতে ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি বন্ধু ও আত্মীয়দের কাছ থেকেও টাকা ধার করেছিল। সঞ্জয়ের ভাই অজয় জানিয়েছেন, প্রয়োজনে পরিবারের জমি-সম্পত্তি বিক্রি করার কথাও ভাবা হয়েছিল।
গত সোমবার চান্দওয়া এলাকায় তাঁর ছোট হোটেলে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে। সেই সময় কর্মরত অবস্থায় সঞ্জয় গুরুতর ভাবে আহত হন।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হওয়ায় তাঁর অবস্থা ক্রমশ সংকটজনক হয়ে ওঠে। স্থানীয় চিকিৎসায় সাড়া না পাওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সোমবার রাঁচি থেকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে রওনা দেন সঞ্জয়, তাঁর স্ত্রী অর্চনা দেবী এবং আত্মীয় ধ্রুব কুমার। বিমানটি ছিল রেডবার্ড এয়ারওয়েজের।
উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই চাত্রা জেলায় বিমানটি ভেঙে পড়ে। এতে পাইলট, চিকিৎসক, প্যারামেডিক-সহ মোট সাতজনের কেউই বেঁচে যাননি।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পাইলট-ইন-কমান্ড ক্যাপ্টেন বিবেক বিকাশ ভগত, সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন সাভরাজদীপ সিং, রোগী সঞ্জয় কুমার, তাঁর স্ত্রী অর্চনা দেবী, আত্মীয় ধ্রুব কুমার, চিকিৎসক ডা. বিকাশ কুমার গুপ্ত এবং প্যারামেডিক সচিন কুমার মিশ্র।
এদিকে, সঞ্জয়ের বাড়ি লাতেহারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা সেখানে ভিড় জমিয়েছেন।
ঝাড়খণ্ডের চাত্রা জেলার সিমারিয়া এলাকার কাছে সোমবার সন্ধ্যায় এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স ভেঙে পড়ে। ভয়াবহ এই ঘটনায় প্রথমে একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা গিয়েছিল।
কিন্তু পরে ওই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে থাকা প্রত্যেক যাত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে রাজ্যের এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার তরফে। চাত্রার ডেপুটি কমিশনার কীর্তিশ্রী জি সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, ‘এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা সাতজনই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। বিমানটি রাঁচি থেকে দিল্লি যাচ্ছিল।’
জানা গিয়েছে, রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড পরিচালিত বিমানটি সন্ধ্যা ৭.১১ মিনিটে রাঁচি বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে।
ডেপুটি কমিশনার জানান, প্রায় ৭.৩০ মিনিট নাগাদ বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে সিমারিয়ার ঘন জঙ্গলে ঘেরা বারিয়াতু পঞ্চায়েত এলাকায় সেটি ভেঙে পড়ে।
তথ্য, ওই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স উড়ে যাচ্ছিল ঝাড়খণ্ড থেকে দিল্লির উদ্দেশে। রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড পরিচালিত একটি বিচক্রাফ্ট সি৯০ ওই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স উড়ান শুরু করে সোমবার সন্ধে সাতটা এগারো মিনিট নাগাদ।
প্রথম কয়েকমিনিট সব ঠিক থাকলেও, সন্ধে ৭:৩৪ মিনিটে কলকাতার সঙ্গে রাডারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাঁচি থেকে উড়ান শুরু করা ওই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভেঙে পড়ে ঝাড়খণ্ডের ছত্রা জেলায়।
তথ্য, ওই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের পাইলট-ইন-কমান্ড ছিলেন ক্যাপ্টেন বিবেক বিকাশ ভগত এবং সহ-পাইলট হিসেবে ক্যাপ্টেন সভরাজদীপ সিং।
যাত্রীদের তালিকায় ছিলেন- সঞ্জয় কুমার, তিনিই অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ছিলেন অর্চনা দেবী (অ্যাটেনডেন্ট), ধুরু কুমার (অ্যাটেনডেন্ট), ডাঃ বিকাশ কুমার গুপ্ত (চিকিৎসক) এবং শচীন কুমার মিশ্র (প্যারামেডিক)।
