আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লির ভারত মণ্ডপমে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনের ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’। ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সম্মেলন চলার কথা ছিল। কিন্তু মানুষের প্রবল উৎসাহ দেখে একদিন বাড়ানো হয়েছে। সামিটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের ইন্ডিয়াএআই মিশনের অধীনে আয়োজিত এই সম্মেলনচি এই প্রথম কোনও গ্লোবাল সাউথ দেশ দ্বারা আয়োজিত হচ্ছে। ২০২৫ সালে ফ্রান্স এবং ২০২৪ সালে ব্রিটেন এবং ২০২৩ সালে জাপান আয়োজন করেছিল। 

উদ্বোধনের দিন মোদির পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন, ফঁরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, রাষ্ট্রপুঞ্জের সচিব জেনারেল অ্যান্তনিও গুতেরেস। সম্মেলনে ২০ জনেরও বেশি রাষ্ট্রপ্রধান, ৬০ জনেরও বেশি মন্ত্রী এবং ৫০০ জন বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নেতা, ১০০ টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন। প্রযুক্তি শিল্পের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন সুন্দর পিচাই (গুগল), স্যাম অল্টম্যান (ওপেনএআই), দারিও আমোদেই (অ্যানথ্রোপিক), ডেমিস হাসাবিস (গুগল ডিপমাইন্ড) এবং মুকেশ আম্বানি (রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ)। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন বিশ্বব্যাঙ্কেরর সাংবু কিম। ভারতের এই প্রথম ‘এআই সামিট’-এর অভিজ্ঞতা আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে ভাগ করে নিলেন ‘রিসলভ এআই’-এর চিফ ডেটা সায়েন্টিস্ট অভিষেক নন্দী। 

এই উদ্যোগের প্রশংসা করে এবং দেশের এই এআই নিয়ে অগ্রগতির উল্লেখ করে অভিষেক বলেন, “আমাদের দেশে শেষ এক বছরে বিভিন্ন স্টার্ট আপগুলির এআই নিয়ে যে অগ্রগতি হয়েছে, যে নতুন প্রযুক্তির উপর কাজ করেছে সেগুলি বেশ ভাল।” তিনি জানিয়েছেন, সম্মেলনে চোখে পড়েছে ইউপিআই-এর একটি নতুন উদ্যোগ। কোনও শপিং অ্যাপে কেনাকাটা না করে গ্রাহকরা সহজেই ইউপিআই থেকে সরাসরি কেনাকাটা করতে পারবেন। গোটা বিষয়টিকে স্বয়ংক্রিয় করার কাজ চলছে। এর ফলে আরও সুবিধা হবে সাধারণ মানুষের।

আর কী কী চোখে পড়ল সামিটে? অভিষেক জানিয়েছেন, সরকারের কিছু অ্যাপ্লিকেশন বেশ ভাল। জাপানের যে সকল প্রযুক্তি এসেছিল সামিটে সেগুলি বেশ ভাল। ফুজিৎসু কোয়ান্টাম কম্পিউটার নিয়ে এসেছিল। কীভাবে কাজ করে এই কম্পিউটার তা দেখানো হয়েছে সকলকে। কিছু কিছু স্টার্ট আপ এম্বেডেড কম্পিউটার এবং এআই-এর উপর ভাল কাজ করছে। সম্মেলনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল দ্বিতীয় দিনটি। ওই দিন বিদেশী সংস্থার প্যাভেলিয়নগুলি খুলে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি দেশীয় সংস্থার প্যাভেলিয়ন খুলে দেওয়া হয়েছিল। গুগলের মতো সংস্থা বিশেষ সেশনের আয়োজন করেছিল। এছাড়াও নানা সংস্থা নিজেদের মতো করে সেশনের আয়োজন করেছিল। সেখানে আলোচনা করা হয়েছে তারা কীভাবে কাজ করছে, ভারতে কীভাবে তারা কাজ করতে চাইছে।

আজকাল ডট ইন-এর তরফ থেকে অভিষেককে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, ফ্রেশার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়াররা যে চাকরি অভাবের কথা প্রায়শই বলে থাকেন তাঁদের এই দাবি কতটা যুতসই? এআই সামিটে কী তার উত্তর মিলল? 

অভিষেক বলেন, “কিছু কাজ যেগুলি বারবার করা হয়, সেগুলিকে অটোমেশন করা হচ্ছে। যেগুলি এন্ট্রি লেভেল কাজ, যেগুলি ফ্রেশার ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ সেগুলিকে এআই, মেশিন লার্নিং দিয়ে অটোমেশন করে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে কাজের সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। 

এটি কতটা চিন্তাজনক পড়ুয়াদের জন্য বা নতুন ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য?

তাঁর উত্তর, “পড়ুয়ারা যদি তৃতীয় বর্ষ থেকে এই মেশিন লার্নিং, এআই নিয়ে ভাল করে পড়াশোনা করে, প্র্যাকটিক্যাল জ্ঞান ভাল থাকে, কিছু বিশেষ কোর্স যদি করেন (যেগুলি ইউটিউবে বিনামূল্যেই পাওয়া যায়) তাহলে তাঁরা সেরকম চাকরিতে অনায়াসে আবেদন করতে পারবেন। নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। 

সবই যে ভাল তা নয়, অন্য একটি দিকও ছিল এই সম্মেলনের। ভারত মণ্ডপমের বাইরে অনেকেই প্রতিবাদ দেখাচ্ছিলেন এআই-এর অত্যাধিক ব্যবহার নিয়ে। নয়ডার গালগোটিয়া ইউনিভার্সিটি একটি চিনা রোবট কুকুরকে নিজেদের বলে দাবি করায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্মেলনে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাভিলিয়ন। সম্মেলনের বক্তার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের নাম।

১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী মোদীর উদ্বোধন করা ভারত এআই ইমপ্যাক্ট এক্সপোতে ৩০টি দেশের ৩০০ জনেরও বেশি প্রদর্শক ১০টিরও বেশি প্যাভিলিয়নে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সামিটের তিনটি আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্যাভিলিয়নগুলি সাজানো হয়েছিল। সেখানে স্বাস্থ্য পরিষেবা, কৃষি, শিক্ষা এবং টেকসই শিল্পে এআই প্রয়োগগুলি প্রদর্শন করা হয়েছিল।

(সব ছবি সংগৃহীত)