আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে জেলবন্দি ছিলেন ৩০ বছর। দীর্ঘ তিন দশক পর আদালত নির্দোষ ঘোষণা করলেন সেই ব্যক্তিকে। কলঙ্ক মুছলেও, সুখের সময় বেশিক্ষণ টেকেনি। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে মনের আনন্দে বাড়ি ফিরেছিলেন। কয়েক ঘণ্টা পরেই সব শেষ। ৩০ বছর পর জেল থেকে বাড়ি ফিরেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়লেন ওই বৃদ্ধ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটে। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, ২০টি ভিন্ন মামলায় ৩০ বছর জেলবন্দি ছিলেন এক ব্যক্তি। ৩০ বছর পর আদালত তাঁকে নির্দোষ প্রমাণিত করেছে। রায়দানের পরদিনই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন তিনি।
জানা গেছে, বাবুভাই প্রজাপতি পেশায় পুলিশ কনস্টেবল ছিলেন। ৩০ বছর আগে মাত্র ২০ টাকা ঘুষ নেওয়ার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাঁকে। সেই সময় আহমেদাবাদে থাকতেন তিনি। ১৯৯৭ সালে এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করা হয়। ২০০৩ ও ২০০৪ সালে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা শুরু হয়। সেশন কোর্ট তাঁকে চারবছরের কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেয়।
সেশন কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে গুজরাট হাইকোর্টে পাল্টা মামলা করেন বাবুভাই। সেই মামলাই ঝুলেছিল ২২ বছর। চলতি বছর ৪ ফেব্রুয়ারি অবশেষে রায়দান হয় গুজরাট হাইকোর্টে। নির্দোষ প্রমাণিত হন বাবুভাই। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানেও অসংগতি লক্ষ করেন বিচারপতি।
বাবুভাইয়ের আইনজীবী জানিয়েছেন, সন্দেহের বশেই তাঁকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছিল। সুবিচারের অপেক্ষায় থাকলেও, দীর্ঘ কয়েক বছর এই মামলাটির সুরাহা হয়নি। আদালতের নির্দেশে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েই বাবুভাই জানিয়েছিলেন, 'আমার জীবন থেকে এখন কলঙ্ক মুছে গেছে। স্বয়ং ঈশ্বর আমাকে কেড়ে নিলেও, আর কোনও দুঃখ থাকবে না আমার।'
আদালতে রায়দানের পরদিন বাড়ি ফেরেন বাবুভাই। ঠিক পরেদিন বয়সজনিত কারণেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া গোটা গ্রামে। কেউ কেউ বলেছেন, 'উনি আর কয়েকদিন বেঁচে থাকতে পারলে খুশি হতাম। বাবুভাই শান্তিতে কয়েকটা দিন বেঁচে থাকলে, গ্রামের সবাই খুশি হতেন।'
