আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার পথেই গ্রেপ্রার 'নতুন' বর। সদ্য বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই উৎসবের আনন্দ বিষাদে পরিণত হল। নতুন বৌকে নিয়ে মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যাওয়ার পথেই পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন অক্ষয় কদম। মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলা থেকে শনিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ডিসেম্বর মাসে উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের একটি হোটেলে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ রয়েছে অক্ষয়ের বিরুদ্ধে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ১৯ ডিসেম্বর বিজেপি নেতা দিবাকর সিংয়ের মালিকানাধীন একটি হোটেলে চড়াও হয় অক্ষয় ও তার দলবল। হোটেলের আসবাবপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি কর্মীদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাঁদের সঙ্গেও অভিযুক্তরা চরম দুর্ব্যবহার করে। এর পরেই অক্ষয়-সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তল্লাশি শুরু হয়। অন্য সঙ্গীরা ধরা পড়লেও অক্ষয় এতদিন বেপাত্তা ছিলেন। তাঁকে ধরার বিনিময়ে ২৫ হাজার টাকার নগদ পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল পুলিশ।

পুলিশ সুপার রাজেশ দ্বিবেদী জানিয়েছেন, অক্ষয় যে মহারাষ্ট্রে লুকিয়ে আছেন, সেই খবর তাঁদের কাছে আগে থেকেই ছিল। সেই মতো উত্তরপ্রদেশ পুলিশের একটি দল ওখানে ঘাঁটি গেড়ে বসে। এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার অক্ষয়ের বিয়ের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ওই বিয়ের আসরে হানা দিলেও সে যাত্রায় পালিয়ে বাঁচেন অক্ষয়।

অবশেষে শনিবার সকালে যখন অক্ষয় তাঁর নববধূর হাত ধরে মধুচন্দ্রিমার উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছিলেন, তখনই তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তকে শাহজাহানপুরে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশের মন্দসৌরে বিজেপি সমর্থিত পুর কাউন্সিলর শাহিদ মেও-র তৃতীয় স্ত্রী খুনের ঘটনায় রহস্যের সমাধান করল পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, শাহিদের প্রথম পক্ষের ছেলে সাহিলই তাঁর সৎ মা রুবিনাকে কুপিয়ে খুন করেছে। বাবার তৃতীয় বিয়ে মেনে নিতে না পেরেই আক্রোশ থেকে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে ওই যুবক।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিনন্দন নগরে নিজের ভাড়াবাড়ির সামনেই আক্রান্ত হন রুবিনা। বাপের বাড়ি থেকে ফিরে অটো থেকে নামার সময় একটি বাইকে চড়ে দুই যুবক এসে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রুবিনার পেট, বুক ও মাথায় একের পর এক ছুরির কোপ বসিয়ে পালিয়ে যায় তারা। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রথমে শাহিদ মেও দাবি করেছিলেন যে, তাঁর কোনও শত্রু নেই এবং কেন এই আক্রমণ হল তা তিনি জানেন না।

তদন্তে নেমে পুলিশ দেখে, ঘটনার সময় এলাকায় লোডশেডিং থাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা কাজ করছিল না। তবে আশপাশের অন্যান্য সোর্স ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে সাহিলকে আটক করা হয়। জেরায় সাহিল কবুল করে, বাবার তৃতীয় বিয়ের পর থেকেই সে রুবিনার ওপর প্রচণ্ড চটে ছিল। এই খুনের কাজে সোহেল নামে এক বন্ধু তাকে সাহায্য করেছিল। পুলিশ দু’জনকেই গ্রেপ্তার করেছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা শাহিদ ও রুবিনার ব্যক্তিগত জীবনের জটিল টানাপড়েনকে সামনে এনে দিয়েছে। জানা গিয়েছে, রুবিনার এটি চতুর্থ বিয়ে ছিল। আগের পক্ষের তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে শাহিদও তিনবার বিয়ে করেছেন। প্রথম পক্ষের তিন সন্তানের একজন হল অভিযুক্ত সাহিল। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার টি এস বাঘেল জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদ ও বাবার নতুন সম্পর্কের প্রতি তীব্র ঘৃণা থেকেই এই খুনের ছক কষা হয়েছিল।