আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নতুন খসড়া বিধি প্রকাশ করল আয়কর দপ্তর। শনিবার জানানো হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৫-এর অধীনে তৈরি এই খসড়া আয়কর বিধি ও ফর্মগুলির বিষয়ে সাধারণ মানুষ এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত চাওয়া হচ্ছে।
2
14
আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই খসড়ার উপর মতামত জমা দেওয়া যাবে। উল্লেখ্য, ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে চলেছে নতুন আয়কর আইন, ২০২৫। এর ফলে ছয় দশকেরও বেশি পুরনো আয়কর আইন, ১৯৬১ বাতিল হয়ে যাবে।
3
14
নতুন আইন প্রণয়নের সময় যে সরলীকরণের নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল, বিধি তৈরির ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়কর দফতর।
4
14
বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত খসড়া বিধিতে প্রক্রিয়া প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ‘স্মার্ট ফর্ম’-এর মাধ্যমে আয়কর ফর্মের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমানো হয়েছে।
5
14
আগে যেখানে আয়কর বিধিতে মোট ৫১১টি নিয়ম ও ৩৯৯টি ফর্ম ছিল, নতুন খসড়া আয়কর বিধি, ২০২৬-এ তা কমে দাঁড়াচ্ছে ৩৩৩টি নিয়ম এবং ১৯০টি ফর্মে।
6
14
আয়কর বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অপ্রয়োজনীয় পুনরুক্তি বাদ দিয়ে এবং একাধিক নিয়মকে একত্রিত করে এই সরলীকরণ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে বিধির ভাষা সহজ ও বোধগম্য করা হয়েছে।
7
14
যেখানে প্রয়োজন, সেখানে সূত্র ও সারণির ব্যবহার করা হয়েছে যাতে করদাতারা সহজে নিয়ম বুঝতে পারেন। যদিও নীতিগত কাঠামো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, নতুন আয়কর আইন, ২০২৫-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
8
14
খসড়া বিধির অংশ হিসেবে থাকা ফর্মগুলিও ব্যাপকভাবে সহজ করা হয়েছে। বিভিন্ন ফর্মে সাধারণ তথ্যের মানকরণ করা হয়েছে যাতে করদাতাদের উপর কমপ্লায়েন্সের চাপ কমে।
9
14
নতুন স্মার্ট ফর্মগুলি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রি-ফিলড তথ্য ব্যবহার করা যায় এবং তথ্য মিলিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। এর ফলে রিটার্ন দাখিল আরও সহজ, স্বতঃস্ফূর্ত এবং কম ভুলভ্রান্তিপূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
10
14
এই স্মার্ট ফর্মগুলি কেন্দ্রীয়ভাবে রিটার্ন প্রক্রিয়াকরণ ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করবে, যার ফলে করদাতারা আরও উন্নত পরিষেবা পাবেন।
11
14
ফর্মের ভাষাও সহজ করা হয়েছে যাতে কোনও প্রশাসনিক, কার্যকরী বা আইনি অস্পষ্টতা না থাকে। ফর্মের সঙ্গে থাকা নোটগুলিও সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট করা হয়েছে।
12
14
এই পরিবর্তনগুলির ফলে কর ব্যবস্থার সরলীকরণ হবে এবং সাধারণ নাগরিকদের ‘ইজ অফ লিভিং’ ও ব্যবসায়ীদের ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ বাড়বে। প্রযুক্তির ব্যবহার ও সহজ ফর্ম করদাতাদের জন্য উল্লেখযোগ্য স্বস্তি আনবে বলে দাবি করা হয়েছে।
13
14
নতুন বিধিগুলি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে সব ধরনের করদাতার পক্ষে তা মানা সহজ হয়। সারণির ব্যবহার নিয়ম বোঝাকে আরও সহজ করবে। প্রি-ফিলড ও রিকনসাইলড ফর্মের ফলে কমপ্লায়েন্সে সময় কম লাগবে এবং অনিচ্ছাকৃত ভুলও কমবে।
14
14
বাস্তবায়নের সময় যাতে কোনও প্রাথমিক সমস্যা না হয় এবং সহজ রূপান্তর সম্ভব হয়, তার জন্য সব অংশীজনের মতামত দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।