সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে প্রায় ৩.৯ শতাংশ পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত সোনা হঠাৎ করে এতটা নামায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এই পতনের কারণ কী।
2
12
দাম কি নিচে নেমে যেতে পারে, নাকি আবার ঊর্ধ্বমুখী হবে? বাজার বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ বলছে, এই দরপতনের পেছনে একাধিক বিশ্বের ও আর্থিক কারণ কাজ করছে।
3
12
বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দামের সাম্প্রতিক পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হল মার্কিন ডলারের শক্তিশালী হওয়া। যখন ডলার শক্তিশালী হয়, তখন ডলারে মূল্যায়িত সোনা অন্য দেশের বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলনামূলকভাবে বেশি দামী হয়ে ওঠে।
4
12
এর ফলে চাহিদা কমে এবং দাম চাপের মুখে পড়ে। পাশাপাশি, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন বৃদ্ধি পাওয়াও সোনার জন্য নেতিবাচক। কারণ বন্ডে সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সুদবিহীন সম্পদ যেমন সোনা থেকে অর্থ সরিয়ে উচ্চ রিটার্নের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন।
5
12
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি সংক্রান্ত প্রত্যাশা। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে।
6
12
সুদের হার দীর্ঘদিন বেশি থাকলে সোনার প্রতি আকর্ষণ কমে যায়, কারণ সোনা কোনও সুদ বা ডিভিডেন্ড দেয় না। এর ফলে স্বল্পমেয়াদে সোনার দামে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
7
12
তবে সব বিশ্লেষকই যে অত্যন্ত নেতিবাচক, তা নয়। অনেক বাজার বিশেষজ্ঞের মতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট লেভেল। এই স্তরের কাছাকাছি এসে যদি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ে, তাহলে সোনা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
8
12
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্য বা ইউক্রেন সংক্রান্ত উত্তেজনা, কিংবা বিশ্ব অর্থনীতিতে হঠাৎ কোনও ধাক্কা এলে সোনার চাহিদা দ্রুত বাড়তে পারে। ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে, অনিশ্চয়তার সময়ে বিনিয়োগকারীরা আবার সোনার দিকেই ফিরে আসেন।
9
12
স্বল্পমেয়াদে যদিও সোনার দামে আরও কিছুটা চাপ থাকতে পারে, দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিতে অনেক বিশেষজ্ঞ এখনও সোনাকে একটি শক্তিশালী হেজ হিসেবে দেখছেন।
10
12
মুদ্রাস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা কেনা অব্যাহত থাকা এবং বিশ্বে ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলি দীর্ঘমেয়াদে সোনার পক্ষে সহায়ক হতে পারে।
11
12
তাহলে বিনিয়োগকারীদের এখন কী করা উচিত? বাজার বিশ্লেষকদের পরামর্শ, আতঙ্কে বিক্রি না করে ধৈর্য ধরাই বুদ্ধিমানের। যারা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করেন, তাদের জন্য ধাপে ধাপে বিনিয়োগ বা ‘স্ট্যাগার্ড বাইং’ কৌশল উপযোগী হতে পারে।
12
12
সব মিলিয়ে বলা যায়, সোনার সাম্প্রতিক পতন বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামারই অংশ। সোনার দাম নির্ভর করবে ডলার, সুদের হার এবং বিশ্বের পরিস্থিতির উপর। তবে দীর্ঘমেয়াদে সোনা এখনও বহু বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওতে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ধরে রাখতে পারে।