বেতন মাসের খরচ চালায়, কিন্তু দ্বিতীয় আয় আপনাকে বিকল্পের স্বাধীনতা দেয়। আজকের দিনে বহু বেতনভোগী ভারতীয়র কাছেই অতিরিক্ত আয়ের ভাবনা সীমাবদ্ধ থাকে টিউশন, ফ্রিল্যান্সিং বা শেয়ার বাজারের মধ্যেই। অথচ এর বাইরেও এমন কিছু বাস্তবসম্মত সাইড ইনকামের সুযোগ রয়েছে, যেগুলি কম পুঁজিতে শুরু করা যায়, অফিসের পর বা সপ্তাহান্তে সামলানো সম্ভব এবং সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে আয় বাড়ে।
2
9
ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার খরচ, বেতনের ধীর বৃদ্ধি এবং চাকরির অনিশ্চয়তা অনেক পেশাদারকেই নতুনভাবে অর্থ নিয়ে ভাবতে বাধ্য করছে। একমাত্র আয়ের উপর নির্ভরশীল থাকা আজ ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
3
9
এই পরিস্থিতিতে সাইড ইনকাম আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে, কারণ বহু সুযোগই এখন সহজলভ্য—কম মূলধন লাগে, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যায় এবং অনেক ক্ষেত্রেই পেশাদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য প্রযোজ্য প্রিসামটিভ ট্যাক্স স্কিমের সুবিধা পাওয়া যায়।
4
9
ই-ওয়েস্ট দিয়ে টেকসই পণ্য তৈরি: মুম্বই, বেঙ্গালুরুর মতো শহরে বিপুল পরিমাণ ই-ওয়েস্ট তৈরি হয়। পুরনো ফোন কেস, চার্জার বা অ্যাকসেসরিজ অনেক সময় অল্প দামে বা বিনামূল্যেই স্ক্র্যাপ মার্কেটে পাওয়া যায়। সামান্য হিট টুল ব্যবহার করে এগুলো দিয়ে ফোন স্ট্যান্ড, ওয়ালেট বা ডেস্ক অ্যাকসেসরিজ বানানো সম্ভব। পরিবেশ সচেতন ক্রেতারা এই ধরনের পণ্যের জন্য বেশি দাম দিতে রাজি। মাসে ৫০টি ইউনিট বিক্রি করে প্রতি ইউনিটে ৩০০ টাকা লাভ হলে আয় হতে পারে প্রায় ১৫,০০০ টাকা।
5
9
ব্যালকনি বা ছাদে মাইক্রোগ্রিন চাষ: অব্যবহৃত ব্যালকনি বা ছাদ এখন আয় করার জায়গায় পরিণত হচ্ছে। স্টেভিয়া, মরিঙ্গার মতো হার্ব ও মাইক্রোগ্রিন ক্যাফে এবং স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে বেশ চাহিদাসম্পন্ন। প্রায় ৫,০০০ টাকার হাইড্রোপনিক কিটে খুব অল্প জায়গায় চাষ করা যায় এবং ফলনও দ্রুত হয়। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে স্থানীয় ক্যাফেতে সরাসরি অর্ডার নেওয়া যায়। আয় মাসে ১০,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
6
9
লোকাল ভাষায় ভয়েস-ওভার কাজ: হাইপারলোকাল বিজ্ঞাপনের চাহিদা বাড়ছে, বিশেষ করে ইউটিউব ও আঞ্চলিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। হিন্দি, মারাঠি, তেলুগু বা তামিল ভাষায় ছোট ভয়েস ক্লিপের জন্য ব্র্যান্ডের প্রয়োজন বাড়ছে। পেশাদার স্টুডিও ছাড়াই মোবাইল মাইক ও Audacity-এর মতো ফ্রি সফটওয়্যারে কাজ শুরু করা যায়। প্রতি গিগে আয় ২,০০০–৫,০০০ টাকা, মাসে প্রায় ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত সম্ভব।
7
9
পুরনো বোর্ড গেম ভাড়া দেওয়া: নস্টালজিয়ার বাজার বেশ শক্ত। ৯০-এর দশকের বোর্ড গেম, বিশেষ করে পুরনো মনোপলি সেট, এখন পারিবারিক অনুষ্ঠান বা ছোট গ্যাদারিংয়ে ভাড়ায় নেওয়া হচ্ছে। ৫০ টাকায় কেনা গেম দিনে ২০০ টাকায় ভাড়া দেওয়া যায়। OLX বা ইভেন্ট অর্গানাইজারের মাধ্যমে মাসে প্রায় ১২,০০০ টাকা আয় সম্ভব।
8
9
AI প্রম্পট টেমপ্লেট বিক্রি: AI-ভিত্তিক প্রম্পট টেমপ্লেটের চাহিদা বাড়ছে—যেমন পিচ ডেক, মার্কেটিং বা প্রোডাক্টিভিটি সংক্রান্ত প্রম্পট প্যাক। এগুলো ৯৯ টাকায় PDF আকারে বিক্রি করা যায়। মাসে ৮,০০০–১৫,০০০ টাকা আয় হতে পারে।
9
9
এই সাইড ইনকাম আইডিয়াগুলো রাতারাতি ধনী বানাবে না, কিন্তু ধৈর্য ও নিয়মিত প্রচেষ্টায় এগুলো আপনার আর্থিক নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দুটোই বাড়াতে পারে।