আজকাল ওয়েবডেস্ক: লোকসভার আসন বৃদ্ধি করে মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করতে চেয়েছিল কেন্দ্র। শুক্রবার সেই সংক্রান্ত ভোটাভুটিতে হেরে গিয়েছে কেন্দ্র। বিল পাশ করাতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি এনডিএ সরকার। বিরোধী ঐক্যের কাছে আটকে যেতে হয়েছে। এই ফলাফলে উচ্ছ্বসিত বিরোধী দলগুলি। কেন্দ্রের উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পরেই নরেন্দ্র মোদির সরকারকে খোঁচা দিয়ে এক্স হ্যান্ডলে বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। তাঁর বার্তা, “এনডিএ সরকারের সময় যে ফুরিয়ে আসছে তা স্পষ্ট। নিয়ন্ত্রণের ভ্রম চোখের সামনেই ভেঙে পড়তে শুরু করেছে!”

অভিষেক লিখেছেন, “লোকসভায় সীমানা পুনর্বিন্যাস বিলের পরাজয়ের ফলে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির ফলে বিজেপির অস্বস্তি সকলের সামনে চলে এসেছে। নারীদের জন্য ৩৩% সংরক্ষণ নিশ্চিতকারী আইনটি ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর রয়েছে। এটি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছিল।” 

কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি লিখেছেন, “এনডিএ সরকার যদি আন্তরিক হয়, তবে তাদের অবিলম্বে এক-তৃতীয়াংশ আসনে সংরক্ষণ সংক্রান্ত করার বিলটি আনা উচিত। এখনই করুন! তৃণমূল এই পদক্ষেপকে শুধু সমর্থনই করে তাই নয়, সংসদে ৪১ শতাংশ নারী প্রতিনিধি রয়েছে তাদের।”

অভিষেক আরও লিখেছেন, “২০২৬ সালের সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিলটি ভারত প্রত্যাখ্যান করেছে। লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০-এ সম্প্রসারণ এবং ২০১১ সালের আদমশুমারির উপর ভিত্তি করে সীমানা পুনর্বিন্যাসের প্রচেষ্টাটি ন্যায্যতা ও ভারসাম্য নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এনডিএ সরকারের সময় যে ফুরিয়ে আসছে তা স্পষ্ট এবং নিয়ন্ত্রণের ভ্রম চোখের সামনেই ভেঙে পড়তে শুরু করেছে!”

দু’দিনের তর্ক-বিতর্কের পরে শুক্রবার বিলটি নিয়ে ভোটাভুটি হয়। বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮টি ভোট। বিপক্ষে ২৩০টি। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোটাভুটিতে যোগ দেন। বিলটি পাশ করাতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন ছিল। অর্থাৎ ৩২৬টি ভোট পড়তে হত বিলের পক্ষে। যা পেতে ব্যর্থ হয়েছে মোদি সরকার। শুক্রবারের ভোটাভুটির পরে ফোনালাপ হয় লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং অভিষেকের।

প্রসঙ্গত, সংবিধানের ধারা ৮১ অনুযায়ী, লোকসভার সর্বোচ্চ আসন সংখ্যা ৫৫২ হতে পারে। ৫৩০ জন সাংসদ বিভিন্ন রাজ্যের এবং ২০ জন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের। দু’জন অ্যাংলো-ইন্ডিয়ানকেও মনোনীত করা যেত। ২০১৯ সালে সংশোধনী এনে তা তুলে দেয় মোদি সরকার। ২০২৬–এর সংশোধনীতে ধারা ৮২-কে সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছল। ৮২ নম্বর ধারা অনুযায়ী জনগণনা শেষ হওয়ার পরে সীমানা পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। ২০২৭ সালের জনগণনা সবে শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও সময় লাগবে। বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করেছে যে, কেন্দ্র জনগণনা শেষ হওয়ার আগে ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস করে ৮৫০ করতে চাইছে। বিরোধীদের কাছে আটকে গেল কেন্দ্রের উদ্যোগ।