আজকাল ওয়েবডেস্ক: আপের অন্দরমহলে বড়সড় রদবদল। দলীয় সূত্রের খবর, রাজ্যসভায় উপনেতার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তরুণ সাংসদ রাঘব চাড্ডাকে। তাঁর পরিবর্তে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়েছে সাংসদ অশোক মিত্তলকে। ইতিমধ্যেই এই পরিবর্তনের বিষয়ে রাজ্যসভা সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে বলেও সূত্রের দাবি।


এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলিতে চাড্ডার নীরবতা এবং অনুপস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। ফলে তাঁর পদচ্যুতি কি শুধুই সাংগঠনিক রদবদল, নাকি এর পিছনে রয়েছে বড় কোনও রাজনৈতিক বার্তা—তা নিয়েই চলছে আলোচনা।


উল্লেখযোগ্যভাবে, দিল্লির বহুল আলোচিত আবগারি নীতি মামলায় বড় স্বস্তি পান আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল, প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মনীষ শিশোদিয়া  সহ একাধিক নেতা। আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়। কিন্তু এত বড় রাজনৈতিক ঘটনার পরেও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি রাঘব চাড্ডা। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তিনি এনিয়ে কোনও পোস্ট করেননি, যা দলীয় অন্দরে ও বাইরে কৌতূহল বাড়িয়েছে।


এছাড়াও, সাম্প্রতিক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তাঁর অনুপস্থিতি নজর কেড়েছে। দলীয় কার্যালয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সাংবাদিক বৈঠক কিংবা জনতার উদ্দেশ্যে ‘জনসভা’—এইসব গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে দেখা যায়নি তাঁকে। বিশেষ করে যন্তরমন্তরে অনুষ্ঠিত জনসভায়, যেখানে কেজরিওয়াল বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন, সেখানেও চাড্ডার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই ঘটনাপ্রবাহ দলীয় অভ্যন্তরে মতভেদের ইঙ্গিত দিতে পারে। যদিও আপ নেতৃত্বের তরফে এবিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে জল্পনা আরও বাড়ছে।


রাঘব চাড্ডা আপের অন্যতম তরুণ এবং পরিচিত মুখ। সংসদে তাঁর সাবলীল বক্তৃতা ও রাজনৈতিক সক্রিয়তার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে হঠাৎ করে তাঁকে এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে, নতুন দায়িত্ব পাওয়া অশোক মিত্তলকে সামনে এনে দল কি নতুন বার্তা দিতে চাইছে, সেটাও এখন দেখার।

 

&t=2s
সব মিলিয়ে, এই রদবদল আপের অন্দর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আগামী দিনে দলীয় অবস্থান ও নেতৃত্বের কৌশলে এর কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।