আজকাল ওয়েবডেস্ক: একটা ছোট্ট কম্পাস। সাধারণত স্কুলের জ্যামিতি ক্লাসে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু সেই কম্পাসই জীবনরক্ষার অস্ত্র হয়ে উঠল এক কিশোরীর হাতে। ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের থানে জেলার ভিওয়ান্ডির। ৯ জুলাই, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা নাগাদ ঘটে যায় সিনেমাকেও হার মানানো এক বাস্তব কাহিনি। ১৬ বছরের এক স্কুলছাত্রী, যে নিয়মিত অটো করে স্কুলে যায়, সেই দিনও অন্য দিনের মতোই অটোয় উঠেছিল। কিন্তু অটোচালক এবং তার অজ্ঞাতপরিচয় এক সঙ্গীর মন যে ছিল অন্য কিছুতে, তা সে বুঝে যায় তখনই, যখন চালক স্কুলের সামনে গাড়ি না থামিয়ে উলটে গতি বাড়িয়ে দেয়।
প্রথমে সে ভয় পেয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে যেকোনও কিশোরী স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু এই মেয়েটি ছিল আলাদা। আতঙ্কে জমে না গিয়ে সে দ্রুত নিজের স্কুলব্যাগ থেকে জ্যামিতির কম্পাস বের করে চালকের দিকে ছুঁড়ে আক্রমণ করে। চালক ছটফট করতে থাকে। এরপর সে পাশে বসে থাকা পুরুষটিকেও ধাক্কা মেরে দূরে সরিয়ে দেয়। কিছু না ভেবে চলন্ত অটো থেকে লাফ দেয় এবং কাঁদতে কাঁদতে কোনওরকমে নিজের স্কুলে পৌঁছায়।
সেখানে গিয়েই সে তার শিক্ষকদের পুরো ঘটনা জানায়। পরে তার মা এসে মেয়ের কাছ থেকে ঘটনাটি শুনে সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিয়ে চলে যান থানায়। শান্তিনগর থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ ভারতীয় বিচার সংহিতা অনুযায়ী ১৩৭(২) (অপহরণ) এবং ৬২ (গুরুতর অপরাধ করার চেষ্টা) ধারায় মামলা রুজু করেছে। অভিযুক্ত চালক ও তার সঙ্গী এখনও অধরা, তবে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত দ্রুতগতিতে চলছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: গুজরাটের মহিসাগর সেতু বিপর্যয়: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০, দোষী চার ইঞ্জিনিয়ার বরখাস্ত
এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে মেয়েটির সাহসিকতার কথা। রাজ্যের শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন নারী অধিকার সংগঠন মেয়েটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। একাধিক স্কুলে ইতিমধ্যেই বিশেষ ‘সেল্ফ-ডিফেন্স ওয়ার্কশপ’ চালুর দাবি উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, স্কুল পাঠ্যক্রমেই অন্তর্ভুক্ত করা উচিত আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য, যাতে তারা যে কোনও বিপদে রুখে দাঁড়াতে পারে।
নেটমাধ্যমে তো এই কিশোরী এখন ‘হিরো’। কেউ লিখেছেন, “একটা কম্পাস যে জীবন বাঁচাতে পারে, তা আগে জানতাম না।” আর কেউ বলছেন, “এই সাহসটা প্রতিটি মেয়ের থাকা উচিত।” অনেকেই অভিভাবকদের উদ্দেশে লিখেছেন, “শুধু স্কুলে পাঠানো যথেষ্ট নয়, সন্তানদের আত্মরক্ষাও শেখান।”
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মহিলাদের ওপর অপরাধ বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে গণপরিবহণ ব্যবস্থায় অনেকেই নিজেকে নিরাপদ মনে করেন না। ভিওয়ান্ডির এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে আবারও সেই উদ্বেগ প্রকাশ্যে এল। তবে তার সঙ্গে ফুটে উঠল এক কিশোরীর সাহসিকতা, যা এখন বহু নারীর অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুন: ভারতীয় নির্বাচন ব্যবস্থার বিচার: সুপ্রিম কোর্ট, বিহার ভোটার তালিকা এবং ভোটাধিকার জন্য সংগ্রাম
শান্তিনগর থানার এক আধিকারিক বলেন, “ওই মেয়েটির সাহস ও তৎপরতা দৃষ্টান্তমূলক। অনেক বড়দের পক্ষেও এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, খুব দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করব।”
নারী অধিকারকর্মীরা এই ঘটনার পর সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছেন, পাবলিক ট্রান্সপোর্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে শিশুদের, বিশেষ করে কন্যাশিশুদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখানো দরকার।
এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “ওই মেয়েটির সাহস সত্যিই অভাবনীয়। আমরা অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য সব রকম পদক্ষেপ নিচ্ছি।”
