আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাবা-মায়ের বাড়িতেই সর্বনাশ তরুণ ইঞ্জিনিয়ারের। আবাসনের ১৭তলা থেকে ঠাস করে মাটিতে পড়ে মৃত্যু ২৬ বছরের ইঞ্জিনিয়ারের। যে ঘটনায় শোকের ছায়া পরিবারে। ঘটনায় হতবাক প্রতিবেশীরাও।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে। বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, এক আবাসনের ১৭তলা থেকে পড়ে গিয়ে ২৬ বছরের এক ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যু হয়েছে। মৃত তরুণের নাম, নিকশাপ।
ইউরোপে ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে ফিরে এক নামী কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন। তিনি থাকতেন হসরঘাট্টা এলাকার গৌড়ীয় মঠে। বুধবার বেঙ্গালুরুর শেট্টিহাল্লি এলাকায় প্রিন্স টাউন অ্যাপার্টমেন্টে বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেই অ্যাপার্টমেন্টের ১৭তলা থেকে পড়েই তরুণ ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। মামলা রুজু করে শুরু হয়েছে তদন্ত। ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশকে মৃত তরুণের বাবা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছর ধরেই তিনি স্কিৎজোফ্রেনিয়ায় ভুগছিলেন। চিকিৎসাও চলছিল তাঁর। অসুস্থতার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ১৭ তলা থেকে পড়ে গিয়েছিলেন নাকি কেউ ধাক্কা দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ফেলে দিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বর্ষবরণের রাতে এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল নয়ডায়। বর্ষবরণের রাতেই রক্তারক্তি কাণ্ড। বন্ধুর ফ্ল্যাটে হুল্লোড়ের মাঝেই ১৬ তলা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল এক তরুণকে। মাটিতে ঠাস করে পড়েই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড ঘিরে শোরগোল শহরজুড়ে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে নয়ডায়। মঙ্গলবার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সেন্ট্রাল নয়ডায় বিসরাখ এলাকায় বর্ষবরণের পার্টি চলাকালীন ২৮ বছরের এক তরুণকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। আবাসনের ১৬ তলা থেকে তরুণকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে একাধিক যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, আম্রপালি গল্ফ হোমস সোসাইটির টাওয়ার এ-৩ আবাসনের ১৬ তলা থেকে তরুণকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। প্রথমে দুর্ঘটনায় তরুণের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল পুলিশকে। মৃত তরুণের নাম, বীনিত রাজ। তিনি বিহারের সিওয়ান জেলার বাসিন্দা ছিলেন।
বর্ষবরণের সময় গভীর রাতে তাঁকে একদল যুবক তুমুল হেনস্থা করে মারধর করেন। এরপর খুনের উদ্দেশ্যে ১৬ তলা থেকে ধাক্কা দিয়ে তাঁকে ফেলে দেন। পরবর্তীতে এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হয়। ৪ জানুয়ারি বিশাল মিশ্র ও ধীরজ কুমার সিং নামের দুই অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত আরও পাঁচজনের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, মৃত তরুণের বন্ধু আয়ুষের ফ্ল্যাটে সেদিন পার্টি চলছিল। আয়ুষের সঙ্গে অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনের পুরনো বচসা ছিল। সেদিন রাতে আয়ুষ আচমকাই নিজের ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে আরেক বন্ধুর ফ্ল্যাটে যান। সেই সময় ফ্ল্যাটে ছিলেন বীনিত। অভিযুক্তরা আয়ুষের খোঁজ করতে আসেন। সেই সময় বীনিতের সঙ্গে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। তখনই ১৬ তলা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন তাঁকে। থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন আয়ুষ।
