আজকাল ওয়েবডেস্ক: কটকে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড। সোমবার ভোরে ওড়িশার কটকের এসসিবি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১০ জন রোগী নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন। জানা গিয়েছে, হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার বিভাগে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিক অনুমান, আইসিইউ-এর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র কিংবা কোনও চিকিৎসা সরঞ্জামে শর্ট সার্কিটের ফলেই এই আগুন লেগেছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খুঁজতে উচ্চ-পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী- ভোর তিনটে নাগাদ ট্রমা কেয়ার ইউনিটের এক তলায় আগুন লাগে। ওই সময় সেখানে ২৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি আরও জানান, উদ্ধার অভিযান শুরুর আগেই ট্রমা ওয়ার্ডের ভেতরে আগুনে পুড়ে প্রাথমিকভাবে সাতজনের মৃত্যু হয়, পরবর্তীতে ধোঁয়ায় শ্বারুদ্ধ হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই আইসিইউ ওয়ার্ডটি ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, ফলে সেখানে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য হাসপাতালের কর্মী এবং দমকল বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও, ঘন ধোঁয়া এবং আগুনের তীব্রতার কারণে আগে থেকেই সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকা বেশ কয়েকজন রোগীর মৃত্যু ঘটে।
তিনটি দমকল ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। অবশেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে বহু মানুষকে উদ্ধার করে হাসপাতালের অন্য একটি ওয়ার্ডে সরানো হয়। যেখানে তাদের জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা সহায়তা (লাইফ সাপোর্ট) পরিষেবা অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনার পরপরই মুখ্যমন্ত্রী মাঝি পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান। নিহতদের পরিবারের সদস্য ও আহত রোগীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তিনি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেন।
সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী মাঝি বলেন, "ওয়ার্ডটিতে মোট ২৩ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। উদ্ধার অভিযান শুরুর আগেই ওয়ার্ডের ভেতরে আগুনে পুড়ে প্রাথমিকভাবে সাতজনের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে ধোঁয়ায় পর দম বন্ধ হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া অন্তত পাঁচজন রোগী এবং হাসপাতালের দু'জন কর্মী আহত হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।"
ওড়িশার স্বাস্থ্য সচিব অশ্বথী এস, কটকের জেলা প্রশাসক (ডিসি) দত্তাত্রেয় ভাউসাহেব শিন্ডে এবং কটকের ডিসিপি ঋষিকেশ খিলারিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রমের তদারকি করেন।
ধারণা করা হচ্ছে, আইসিইউ-এর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কিংবা কোনও চিকিৎসা সরঞ্জামে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের ফলেই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ নির্ণয় এবং অগ্নিনিরাপত্তা বিধিতে সম্ভাব্য ত্রুটিগুলো খতিয়ে দেখার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এসসিবি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। এটি ওড়িশার বৃহত্তম রেফারেল হাসপাতাল। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত-সহ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো থেকে আসা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের এই হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়।
