আত্মীয়-প্রতিবেশীর গুজবে সম্মান নষ্ট? বদনাম ছড়ালে হতে পারে জেল-জরিমানা! জানুন কী বলছে ভারতীয় আইন
নিজস্ব সংবাদদাতা
৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২০ : ৩৫
শেয়ার করুন
1
9
পাড়ায়-পড়শিতে গসিপ, আত্মীয়দের মধ্যে কানাঘুষো বা কারও নামে মিথ্যা কথা ছড়ানো-এই ধরনের ঘটনা সমাজে নতুন নয়। কিন্তু অনেক সময় এই গুজব বা বদনাম এমন জায়গায় পৌঁছয়, যেখানে মানুষের সম্মান, মানসিক শান্তি ও সামাজিক অবস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
2
9
প্রশ্ন উঠছে, এই ধরনের গসিপের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি? আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
3
9
কখন গসিপ আইনত অপরাধ? আইন অনুযায়ী, সব কথা বা সমালোচনা অপরাধ নয়। কিন্তু যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা কথা ছড়ায়, সেই কথা অন্যদের জানায় বা প্রকাশ করে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মান বা ভাবমূর্তি নষ্ট হয়, তাহলে সেটি মানহানি হিসেবে গণ্য হতে পারে।
4
9
কোন পরিস্থিতিতে মামলা করা যায়? আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গসিপ যদি শুধু ব্যক্তিগত আলাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে মামলা করা কঠিন। কিন্তু যদি তা একাধিক মানুষের মধ্যে ছড়ানো হয়, সমাজমাধ্যম, হোয়াটসঅ্যাপ বা প্রকাশ্যে বলা হয় এবং যার উদ্দেশ্য থাকে কাউকে অপমান করা, তাহলে আইনের চোখে বিষয়টি গুরুতর হয়ে ওঠে।
5
9
কী ধরনের আইনি পথ খোলা রয়েছে? এই ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা দুটি পথে এগোতে পারেন। ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা। ফৌজদারি মামলায় যদি অপমান, হুমকি বা মানহানির প্রমাণ থাকে, তাহলে পুলিশে অভিযোগ জানানো যায়। দোষ প্রমাণ হলে অভিযুক্তের জেল বা জরিমানা হতে পারে।
6
9
অন্যদিকে, ফৌজদারি দেওয়ানি মামলায় গসিপের কারণে যদি মানসিক কষ্ট, সামাজিক ক্ষতি বা আর্থিক লোকসান হয়, তাহলে আদালতে ক্ষতিপূরণ দাবি করা যায়। এতে অভিযুক্তকে টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে আদালত।
7
9
মহিলাদের ক্ষেত্রে আইন আরও কঠোর। কোনও মহিলার চরিত্র, ব্যক্তিগত জীবন বা মর্যাদা নিয়ে কুরুচিকর গসিপ ছড়ানো হলে আইন আরও কঠোর হয়। এই ধরনের ঘটনায় আলাদা ধারা অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে বেশি কঠিন।
8
9
আইনি পথে যাওয়ার আগে কী জরুরি? বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল প্রমাণ সংগ্রহ। যেমন মেসেজ বা চ্যাটের স্ক্রিনশট, অডিও বা ভিডিও রেকর্ড, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য। এক্ষেত্রে প্রমাণ যত শক্তিশালী হবে, মামলা তত মজবুত হবে।
9
9
আইন স্পষ্ট করে বলছে, বদনাম বা গসিপ ‘ছোট বিষয়’ নয়। তবে মামলা করার আগে পরিস্থিতি, প্রমাণ এবং সামাজিক প্রভাব ভালভাবে ভেবে দেখা জরুরি। অনেক সময় আইনি নোটিশেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। তবু যদি সম্মান ও মানসিক শান্তি বিঘ্নিত হয়, তাহলে খোলা রয়েছে আইনি পথ।