হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছে, যাঁদের জনপ্রিয়তা দশক পেরিয়েও ম্লান হয়নি। মাধুরী দীক্ষিত সেই বিরল তালিকার একেবারে শীর্ষে। আশির দশকের শেষভাগ থেকে নয়ের দশক, এই সময়টায় বক্স অফিসে তাঁর আধিপত্য ছিল প্রশ্নাতীত। তবে খ্যাতির আলো যত তীব্র, বিতর্কের ছায়াও ততই দীর্ঘ। মাধুরীর কেরিয়ারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
2
7
১৯৮৪ সালে রাজশ্রীর ব্যানারে তৈরি অবোধ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ মাধুরীর। ছবিটি বাণিজ্যিক ভাবে ব্যর্থ হলেও তাঁর সরল উপস্থিতি নজর কাড়ে। প্রকৃত বড় ব্রেক আসে চার বছর পর, তেজাব-এ। ‘এক দো তিন’ গানে মাধুরীর নাচ তাঁকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দেয়।
3
7
কিন্তু 'তেজাব' মুক্তির ঠিক আগেই মুক্তি পেয়েছিল ফিরোজ খান পরিচালিত ‘দয়াবান’। তামিল ক্লাসিক ‘নায়কান’-এর এই হিন্দি রিমেকে বিনোদ খন্নার বিপরীতে অভিনয় করেন মাধুরী। মাত্র দু’মাসে শুট হওয়া ছবিটি ১৯৮৮ সালের অক্টোবরে মুক্তি পায়। ছবির একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ঘিরেই তৈরি হয় তুমুল বিতর্ক, যা ছবির গল্পকেই ছাপিয়ে যায়।
4
7
পরবর্তীকালে ফিরোজ খান প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন, সেই দৃশ্যটি শুট করা উচিত হয়নি। মাধুরীও এক সাক্ষাৎকারে জানান, দৃশ্যটি তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল এবং তাঁর মনে হয়েছিল, ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি। প্রাথমিকভাবে ভাল ওপেনিং পেলেও তেজাব-এর সাফল্যের সামনে দয়াবান মুখ থুবড়ে পড়ে। বিনোদ খান্নার বয়সী গ্যাংস্টার চরিত্র দর্শক গ্রহণ করেননি বলেই মনে করেন অনেকে।
5
7
এর কিছুদিন পরেই ফের শিরোনামে ফেরেন মাধুরী, তবে এবার সাফল্যের সঙ্গে বিতর্ক হাত ধরাধরি করেই আসে। ১৯৯০ সালে আমির খানের সঙ্গে মুক্তি পায় দিল। জনপ্রিয় গান, পরিচিত প্রেমের গল্প আর জোরালো রসায়নে ছবিটি সুপারহিট হয়। কিন্তু ছবির দু'টি ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে চুম্বন দৃশ্য এবং কিছু গানের কথা নিয়েও আপত্তি ওঠে একাংশ দর্শকের।
6
7
মাধুরী পরে বলেছিলেন, জনপ্রিয়তার সঙ্গে সমালোচনা আসবেই, এটাই বাস্তব। সব বিতর্ক সত্ত্বেও দিল সেই বছরের অন্যতম বড় হিটে পরিণত হয় এবং মাধুরীকে ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করে।
7
7
আজ ‘সাজন’, ‘হম আপকে হ্যায় কৌন’, ‘খলনায়ক’, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ বা ‘দেবদাস’-এর মতো ছবিই মাধুরীর উত্তরাধিকার। তবু ‘দয়াবান’ আর ‘দিল’ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক আজও মনে করিয়ে দেয় স্টারডম মানেই শুধু আলো নয়, কঠিন সিদ্ধান্ত আর চিরন্তন বিচারও। আর সেই ঝড়ের মধ্যেও মাধুরী দীক্ষিত ছিলেন এবং থাকবেন।