পৃথিবীর অতীত আবহাওয়া ক্রমশ স্পষ্ট করছে যে ভবিষ্যতে বিশ্বের বহু অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্যাটার্ন উল্লেখযোগ্যভাবে অনিশ্চিত হতে পারে। বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর বরফস্তর, সমুদ্রতল তলানি, প্রবাল প্রাচীর এবং গুহাগুলোর স্ট্যালাগমাইট-মিনারেল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিটি বড় পর্যায়েই বৃষ্টির প্রকৃতি নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে।
2
12
প্রাক-শিল্পযুগ থেকে আরও বহু হাজার বছর আগে যখন পৃথিবী উষ্ণ বা শীতল অবস্থায় প্রবেশ করেছে, তখনই বৃষ্টিপাতের বণ্টন ও সময়সূচিতে শক্তিশালী পরিবর্তন দেখা গেছে।
3
12
উদাহরণস্বরূপ, শেষ বরফযুগের পর গ্লোবাল উষ্ণতা বাড়লে পৃথিবীর বহু অঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিপাত বেড়েছিল, আবার কিছু অঞ্চলে শুষ্কতা নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিল। এই পরিবর্তন প্রমাণ করে যে বৃষ্টি কখনই স্থির নয়—বরং জলবায়ুর প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
4
12
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে যে কারণগুলো বৃষ্টিকে অস্থিতিশীল করেছে—মহাসাগরীয় স্রোত বদল, গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব বাড়া, সৌর বিকিরণ পরিবর্তন ইত্যাদি—সেগুলোর অনেকগুলোই বর্তমানে দ্রুততর হারে ঘটছে। ফলে বৃষ্টির প্যাটার্নেও বড় ঝাঁকুনি দেখা দিতে পারে।
5
12
অতীত গবেষণা বলছে, বৃষ্টির অনিশ্চয়তা পৃথিবীর সব জায়গায় একইভাবে কাজ করে না। কোথাও তা অতিবৃষ্টি আনে, আবার কোথাও তীব্র খরা সৃষ্টি করে।
6
12
ট্রপিক্যাল অঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টি হঠাৎ বেড়ে বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। উপ-উষ্ণমণ্ডলে দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা দিতে পারে। উচ্চ অক্ষাংশে বরফ গলনের ফলে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।
7
12
এই পরিস্থিতি কৃষি-নির্ভর দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। কারণ বপন ও ফসল তোলার সময়সূচি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। একইভাবে শহরাঞ্চলের কাঠামো, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং জলাধার ব্যবস্থা বড় চাপের মুখে পড়বে।
8
12
গবেষণা বলছে, বর্তমান গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের গতি মানবসভ্যতার ইতিহাসে অভূতপূর্ব। যেখানে অতীতে তাপমাত্রা বদল হতে কয়েক হাজার বছর লাগত, এখন তা কয়েক দশকে ঘটে যাচ্ছে। এই দ্রুত পরিবর্তন বৃষ্টির জলচক্রকে অতিরিক্ত চাপে ফেলছে।
9
12
বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ উষ্ণ আবহাওয়ায় বেড়ে যায়, ফলে অতিবৃষ্টি ও ফ্ল্যাশ ফ্লাডের সম্ভাবনা বাড়ে। একই সঙ্গে উচ্চ তাপমাত্রা মাটির আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়, যা খরা বাড়ায়। অর্থাৎ একই বছরে খরা এবং বন্যা—দুই চরম বিপরীত ঘটনাই দেখা দিতে পারে।
10
12
ভবিষ্যতে জল, কৃষি-বিমা নীতি, শহরের কাঠামো, রেইনওয়াটার হারভেস্টিং, জলাধার পুনর্গঠন ও বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বৃষ্টির অনিশ্চয়তা শুধু জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ নয়—এটি খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও বাস্তুতন্ত্রেরও নিরাপত্তা প্রশ্ন।
11
12
ভবিষ্যতে জল, কৃষি-বিমা নীতি, শহরের কাঠামো, রেইনওয়াটার হারভেস্টিং, জলাধার পুনর্গঠন ও বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বৃষ্টির অনিশ্চয়তা শুধু জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ নয়—এটি খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও বাস্তুতন্ত্রেরও নিরাপত্তা প্রশ্ন।
12
12
একারণে অতীতের জলবায়ুকে বোঝা মানে শুধু ইতিহাস জানা নয়। এটি ভবিষ্যৎকে আরও প্রস্তুত ও টেকসই করার উপায়ও বটে।