বাল্কানের নস্ত্রাদামুস নামে পরিচিত বাবা ভাঙ্গা বহু বছর ধরে ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য আলোচিত ও বিতর্কিত। অন্ধ থাকলেও তিনি নাকি ভবিষ্যৎ দেখতেন—এমন বিশ্বাস বহু মানুষের মধ্যে প্রচলিত।
2
13
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা, কিংবা ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের সুনামির মতো ঘটনা নিয়ে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে অনেকে মিল খুঁজে পান। যদিও তিনি বহু বছর আগে মারা গেছেন, আজও তাঁর বহু উক্তি নিয়ে বিতর্ক, আগ্রহ ও কৌতূহল থেকে গেছে। প্রযুক্তি নিয়ে তাঁর কিছু ভবিষ্যদ্বাণীও আজ সত্যি বলে মনে হয়।
3
13
বাবা ভাঙ্গার প্রযুক্তি–সংক্রান্ত উল্লেখযোগ্য ভবিষ্যদ্বাণীগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল একটি “ছোট কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী ডিভাইস”, যা মানুষের জীবন, আচরণ, সম্পর্ক ও মানসিক অবস্থাকে বদলে দেবে। আজকের দিনে আমরা এটিকে স্মার্টফোন বলে জানি। তাঁর সময়ে বিষয়টি অবিশ্বাস্য ছিল, কিন্তু আজ আমরা বলতে পারি—এই ভবিষ্যদ্বাণী যথেষ্টটাই মিল খেয়ে গেছে।
4
13
বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচলিত তথ্যে বলা হয়, বাবা ভাঙ্গা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে মানুষ ছোট ছোট ডিভাইসের ওপর প্রতিদিনের কাজে নির্ভরশীল হয়ে উঠবে এবং এই ডিভাইসগুলো মানুষের পারস্পরিক আচরণ বদলে দেবে।
5
13
বাস্তবে এখন তাই দেখা যাচ্ছে। শিশু থেকে প্রবীণ—সকলেই এখন স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার, টিভি ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করছে। কাজ, বিনোদন, যোগাযোগ, শিক্ষা, সামাজিক সংযোগ—সবই এখন স্ক্রিনের মাধ্যমে হচ্ছে।
6
13
এত ব্যাপক ব্যবহারের ফলে স্ক্রিন টাইম বাড়ছে, যা মানুষের আচরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে। বাবা ভাঙ্গা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে মানুষ ধীরে ধীরে এসব ডিভাইসের ওপর মানসিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়বে এবং বাস্তব জীবনের সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাবে।
7
13
বর্তমান সময়ের মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান ও গবেষণাগুলোও দেখাচ্ছে—এটি অনেকটাই সত্যি। ২০২১ সালে ভারতের “ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রোটেকশন অব চাইল্ড রাইটস” এক গবেষণায় দেখা গেছে—২৩.৮০% শিশুই ঘুমানোর আগে বিছানায় শুয়ে স্মার্টফোন ব্যবহার করে।
8
13
গবেষণায় আরও বলা হয়, স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার মনোসংযোগ কমিয়ে দেয়। যেখানে ৩৭.১৫% শিশুর ক্ষেত্রে এই সমস্যা ‘ঘনঘন’ বা ‘সবসময়’ দেখা যায়।
9
13
শিশুদের শারীরিক নড়াচড়া কমে যাচ্ছে, বাইরের খেলাধুলা কমছে, উদ্বেগ ও বিষণ্নতার মতো সমস্যা বাড়ছে—যা এখন বিশেষজ্ঞরা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।
10
13
স্মার্টফোন মানুষের দূরত্ব কমিয়েছে—কিন্তু একসঙ্গে তৈরি করেছে নতুন দূরত্ব। পরিবারের মধ্যে বসে থেকেও সদস্যরা নিজেদের স্ক্রিনে ডুবে থাকে, ফলে মানসিক বিচ্ছিন্নতা ও একাকিত্ব বাড়ছে।
11
13
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানোর ফলে বাস্তব সম্পর্কের গভীরতা ও আবেগ কমে যাচ্ছে, পরিবারে কথোপকথন কমছে এবং বন্ধন দুর্বল হচ্ছে।
12
13
একদিকে স্মার্টফোন জীবনকে সহজ করেছে—ব্যাংকিং, চিকিৎসা, শিক্ষা, নেভিগেশন, জরুরি যোগাযোগ—সবকিছু হাতের মুঠোয়। অন্যদিকে এর আসক্তি মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে, বিশেষত শিশু ও তরুণদের মধ্যে।
13
13
বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী তাই আজ ভয়ংকরভাবে প্রাসঙ্গিক—প্রযুক্তি শুধু আমাদের জীবন বদলাচ্ছে না, বদলে দিচ্ছে মন, আচরণ ও সম্পর্কের ধরণ।