আমেরিকা ভেবেছিল, ইরানের ওপর হামলা হবে 'ঝটিকা সফরের' মতো। অল্প সময়েই কেল্লাফতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের হিসেব ছিল, এই লড়াই হবে সীমাবদ্ধ এবং একতরফা। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষের ১২ দিন কাটার পর দেখা যাচ্ছে, সেই হিসেব কার্যত উল্টে গিয়েছে।
2
8
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, যুদ্ধের ময়দানে ইরান ঠিক কতটা কামড় দিতে পারে, তা বুঝতে চরম ভুল করেছিল হোয়াইট হাউস। যে সামরিক অভিযানকে হাতের মুঠোয় রাখা যাবে বলে ভাবা হয়েছিল, তা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে এক ভয়াবহ আঞ্চলিক সঙ্কটের রূপ নিয়েছে। খোদ আমেরিকার অন্দরেই এখন প্রশ্ন উঠছে- এই যুদ্ধের শেষ কোথায়?
3
8
ইরান ও আমেরিকা-ইজরায়েল যৌথ হামলায় গোটা পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যে রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করেছে, এই যুদ্ধের ময়দানে আমেরিকার কৌশলগত কী ভুল ছিল?
4
8
আমেরিকার সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ইরানকে দুর্বল ভাবা। ট্রাম্প ভেবেছিল, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সাঁড়াশি আক্রমণে তেহরান ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাবে। কিন্তু উল্টে দেখা গেল, মার্কিন ঘাঁটি ও তাদের মিত্র দেশগুলোর ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হানা দিল ইরান। শুধু তাই নয়, মধ্য এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে থাকা নিজেদের সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেও ময়দানে নামিয়ে দিয়েছে তারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই লড়াইকে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছে ইরান, যা আমেরিকার ধারণার বাইরে ছিল।
5
8
মার্কিন প্রশাসনের কর্তারা ভেবেছিলেন, যুদ্ধের শুরুতে তেলের দাম একটু বাড়লেও দ্রুত তা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি তার উল্টো। বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। এর আঁচ পড়ছে খোদ আমেরিকার পেট্রোল পাম্পগুলোতেও। এহেন অশান্তিতে বিশ্ব অর্থনীতি যে কতটা টালমাটাল হতে পারে, তা বুঝতে চরম ভুল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
6
8
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালীর সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে। ইরান এই পথে জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে পারে, এমন সম্ভাবনাকে শুরুতে বিশেষ আমল দেয়নি আমেরিকা। কিন্তু তেহরান পাল্টা হুমকি দিতেই জাহাজ চলাচল কার্যত থমকে গিয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের মেঘ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
7
8
আমেরিকার নীতিনির্ধারকদের একাংশ মনে করেছিলেন, প্রবল সামরিক চাপে ইরানের বর্তমান সরকার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। এমনকী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর পর শাসনব্যবস্থা পতনের আশা করা হয়েছিল। কিন্তু ঘটল ঠিক উল্টো। বাইরের দেশের আক্রমণ ইরানিদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী আবেগকে আরও উস্কে দিয়েছে। ফলে সে দেশের প্রশাসন আরও সংহত হয়েছে।
8
8
এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় খামতি হলো, আমেরিকা যুদ্ধ শুরু করার পরিকল্পনা করলেও তা শেষ করার কোনও নির্দিষ্ট রাস্তা রাখেনি। যুদ্ধের লক্ষ্য কী- তা নিয়ে খোদ প্রশাসনের অন্দরেই দ্বন্দ্ব রয়েছে। কখনও বলা হচ্ছে 'সীমিত লক্ষ্য', কখনও বা 'নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ'। কোনও কূটনৈতিক পথ খোলা না থাকায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের চোরাবালিতে আটকে পড়ার আশঙ্কায় এখন ঘরোয়া চাপের মুখে হোয়াইট হাউস।