মহাকুম্ভ মেলায় রুদ্রাক্ষের মালা বিক্রি করতে গিয়ে হঠাৎ করেই আলোচনায় উঠে এসেছিলেন তরুণী মোনালিসা ভোঁসলে। উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে আয়োজিত সেই বিশাল ধর্মীয় মেলায় তাঁর চেহারা ও ব্যক্তিত্ব সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। রাতারাতি জনপ্রিয়তা পেয়ে যান তিনি, আর এরপরই সিনেমা ও বিজ্ঞাপনের বিভিন্ন প্রস্তাবও আসতে শুরু করে। সেই মোনালিসাই এবার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন—প্রেমিক ফারমান খানকে বিয়ে করে।
2
9
বুধবার সন্ধ্যায় কেরালার তিরুবনন্তপুরমের কাছে পুভারের আরুমানুর এলাকার নয়নার মন্দিরে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এই বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন কেরালার সাধারণ শিক্ষা মন্ত্রী ভি শিবনকুট্টি, সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক এম ভি গোবিন্দন, রাজ্যসভা সাংসদ এ এ রহিমসহ বামপন্থী দলের কয়েকজন নেতা।
3
9
ফারমান খান উত্তরপ্রদেশের বাঘপত জেলার বাসিন্দা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি একজন অভিনেতা ও মডেল হিসেবে কাজ করেন। বিয়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মোনালিসা জানান, প্রায় ছয় মাস ধরে তাঁদের সম্পর্ক ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রথমে বন্ধুত্ব, পরে একটি সিনেমার শুটিং সেটে তাঁদের সরাসরি দেখা হয়।
4
9
ফারমান খান তাঁদের প্রেমের গল্পকে বর্ণনা করে বলেন, “এই ছয় মাস যেন ষাট বছরের ভালোবাসার মতো। তাই আমরা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা একটি সিনেমার শুটিংয়ে একসঙ্গে কাজ করছিলাম, সেখানেই আলাপ হয়।” তিনি আরও জানান, প্রথমে মোনালিসাই তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। তবে শুরুতে তিনি রাজি হননি। পরে মোনালিসার জোরাজুরিতেই তিনি সম্পর্কের বিষয়ে সম্মত হন।
5
9
বিয়ের পর মোনালিসা স্পষ্টভাবে বলেন, তিনি সব ধর্মকেই সম্মান করেন এবং তাঁদের সম্পর্ককে ‘লাভ জিহাদ’ বলে দেখার কোনও কারণ নেই। তিনি জানান, হিন্দু রীতি মেনেই তাঁদের বিয়ে হয়েছে এবং ফারমান কখনও তাঁকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জন্য চাপ দেননি। একটি সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁরা মোনালিসার জন্মসনদও দেখান, যেখানে উল্লেখ রয়েছে যে তিনি ২০০৮ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন।
6
9
বুধবার সকালে মোনালিসা ও ফারমান তিরুবনন্তপুরমের থাম্পানুর থানায় যান। তাঁদের সঙ্গে সেই ছবির শুটিং ইউনিটের সদস্যরাও ছিলেন। সেখানে মোনালিসা অভিযোগ করেন, তাঁর বাবা জোর করে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইছেন। তাঁর দাবি, পরিবারের সদস্যরা ধর্মের কারণে এই সম্পর্কের বিরোধিতা করছেন এবং তাঁকে খালাতো ভাইকে বিয়ে করতে চাপ দিচ্ছেন।
7
9
এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “মোনালিসা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি বাবার সঙ্গে ফিরবেন না এবং নিজের পছন্দের মানুষকেই বিয়ে করবেন। তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁর আছে।”
8
9
যদিও মোনালিসার বাবা কেরালায় উপস্থিত ছিলেন, তবু তিনি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। বিয়ের পর মোনালিসা বলেন, “আমার পরিবার চেয়েছিল আমি অন্য কাউকে বিয়ে করি। আমি সেটা চাইনি। তাই রাজি হইনি। এখন ফারমানকে বিয়ে করে আমি খুবই খুশি।”
9
9
নতুন জীবনের পরিকল্পনাও জানিয়ে দিয়েছেন মোনালিসা। তিনি বলেছেন, দক্ষিণ ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাস করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর এবং ভবিষ্যতে মালয়ালম সিনেমায় অভিনয় করার সুযোগ পেলে তা গ্রহণ করতে চান। এই বিয়ে ও তাঁদের প্রেমের গল্প ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।