গরমের ছুটি মানেই বিনোদন দুনিয়ার পাখির নজর আট থেকে আঠেরো। লম্বা অবকাশে পড়ার ফাঁকে ছবি দেখার ছুটি এসময়ে একটু বেশি। কিন্তু এবারের গরমে কচিকাঁচারাও মহা বিপদে। তাদের হাতছানি দিচ্ছে ফেলুদা, দাবাড়ু সূর্যশেখর গঙ্গোপাধ্যায়। ১০ মে মুক্তি পাচ্ছে দুটো হেভিওয়েট ছবি সন্দীপ রায়ের ‘নয়ন রহস্য’, পথিকৃৎ বসুর ‘দাবাড়ু’। প্রথমটির প্রযোজক সুরিন্দর ফিল্মস। দ্বিতীয়টি এক এবং অদ্বিতীয় নন্দিতা রায়-শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। প্রতি বছরের গরমের ছুটি রঙিন যাঁদের ছবি দিয়ে। সদ্য মুক্তি পেয়েছে দ্বিতীয় ছবির আরও একটি গান ‘যতন কইরা রাখবি আপন জমিন’। এদিকে ফেলুদার টানটান ট্রেলারও যথেষ্ট আকর্ষণীয় ছোটদের কাছে। কাকে ছেড়ে কার দল ভারী করবে তারা? নন্দিতা-শিবু কি প্রতি বছরের মতো এবছরেও শেষ হাসি হাসবেন?

ট্রেলারমুক্তির সময় আজকাল ডট ইন এই প্রশ্ন রেখেছিল সত্যজিৎ রায়ের ছেলে সন্দীপের কাছে। তিনি জানিয়েছিলেন, এসব নিয়ে তিনি ভাবছেন না। বরং আশাবাদী, হত্যাপুরী দেখে নতুন ফেলুদা অ্যান্ড কোংকে দর্শক পাশ মার্ক দিয়েছে। তাই ‘নয়ন রহস্য’-এ টিম আরও পরিশ্রম করেছে। ছবির গল্প ভাল। প্রচুর চরিত্র। ফেলুদার মাথা খাটানোর সুযোগ বেশি। চেন্নাইয়ের আকর্ষণীয় পটভূমিকা। এবং ম্যাজিক। সব মিলিয়ে দর্শক টানার সমস্ত ক্ষমতাই ছবিটির রয়েছে।
একই প্রশ্ন রাখা হয়েছিল উইন্ডোজ প্রযোজনা সংস্থার দুই কর্ণধারের কাছেও। কী বলছেন তাঁরা?

নন্দিতা বরাবরের কম কথার মানুষ। কিন্তু তাঁর আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। তিনি বলেছেন, ‘‘এই গরমের দিনে আমরা অনেক ছবি এনেছি। যেমন, ‘রামধনু’, ‘বেলাশেষে’, ‘হামি’, ‘প্রাক্তন’, ‘বেলাশুরু’, ‘পোস্ত’, ‘কণ্ঠ’। অসংখ্য মানুষ হল ভরিয়ে দেখেছেন সেই ছবি। আর আমাদের উৎসাহিত করেছেন। সেই উৎসাহের অন্যতম ফসল পথিকৃৎ বসু পরিচালিত ছবি "দাবাড়ু"। কলকাতায় যাঁরা দাবা খেলেন এরকম মানুষের সংখ্যা প্রচুর। কোভিড-পরবর্তী সময়ে সেই সংখ্যা অনেক বেড়েছে। লকডাউনের সময় অনেক মা-বাবারা বাচ্চাদের দাবা শিখিয়েছেন। এই ছবির ভাবনা সেখান থেকেই। বাংলার গর্ব গ্র্যান্ডমাস্টার সূর্যশেখর গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত এই ছবি দর্শকের মনে জায়গা করে নেবে বলে আমার বিশ্বাস।’’



শিবপ্রসাদ নন্দিতার যোগ্য সহকর্মী। তাঁর কথায়, ‘‘প্রথম যখন দিদি (নন্দিতা রায়) আর আমি ছবি পরিচালনা আরম্ভ করি, তখন আমরা কোনও বড় উৎসবের দিনে ছবির মুক্তির কথা ভাবতেই পারতাম না। তাই গরমের ছুটিটা বেছে নিই আমাদের ছবির জন্য। এই গরমের ছুটিতেই প্রচুর মানুষ হল ভরিয়ে দেখেছেন আমাদের ছবি। শুধু আমাদের পরিচালিত নয়, আমাদের প্রযোজিত ছবি ‘ফাটাফাটি’ মুক্তি পেয়েছিল গত বছর গ্রীষ্মে। সেই ছবিও ভালবাসা পেয়েছিল অসংখ্য দর্শকের। তাই এইবারও আবার সাহস করে আমরা আমাদের প্রযোজনায় পথিকৃৎ বসু পরিচালিত ছবি "দাবাড়ু" নিয়ে আসছি। গ্র্যান্ডমাস্টার সূর্যশেখর গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত এই ছবিকেও দর্শক সমান ভাবে ভালোবাসা দেবেন এমনই আশা করি।’’

শেষে দুই প্রযোজনা সংস্থাই সহাবস্থানে জোর দিয়েছে। তাদের আন্তরিক চাওয়া, দুটো ছবিই সব বয়সের দর্শক দেখুক। প্রেক্ষাগৃহে হাউজফুল বোর্ড ঝুলুক। বাণিজ্যে লক্ষ্মী আনুক। কারণ, রহস্য সমাধান বলুন বা দাবাখেলা, জেতার একটাই অস্ত্র— মগজাস্ত্র!