বর্তমানে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হয়ে উঠেছে সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (এসআইপি)। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, বিনিয়োগকারীদের ছোট ছোট অঙ্কের টাকা দিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে একটি বড় তহবিল গঠন। সাধারণত, এসআইপি-র মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে দীর্ঘ মেয়াদে ১২ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত আনুমানিক রিটার্ন পাওয়া যেতে পারে, যদিও এটি সম্পূর্ণরূপে শেয়ার বাজারের ওঠা-নামার উপর নির্ভরশীল।
2
6
এসআইপি-তে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা হয়। বাজারের ওঠানামার কারণে ইউনিটগুলো কখনও সস্তায় এবং কখনও বেশি দামে পাওয়া যায়, যা দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগের গড় খরচকে ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলে। এই কারণেই এসআইপি-কে বিনিয়োগের একটি সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদ পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
3
6
৩০০০ টাকার এসআইপি দিয়ে ১৫ লক্ষ টাকা জমানোর রহস্য: যদি কোনো বিনিয়োগকারী প্রতি মাসে ৩০০০ টাকার একটি এসআইপি শুরু করেন এবং বার্ষিক গড়ে ১২ শতাংশ রিটার্ন পান, তাহলে প্রায় ১৫ বছরে তার তহবিল প্রায় ১৫ লক্ষ টাকায় পৌঁছাতে পারে। এই সময়ের মধ্যে, বিনিয়োগকারীর মোট জমা করা টাকার পরিমাণ হবে প্রায় ৫,৪০,০০০ টাকা, এবং বাকি টাকা চক্রবৃদ্ধি সুদের মাধ্যমে যুক্ত হবে। এই উদাহরণটি প্রমাণ করে যে, সময় এবং ধৈর্যের সঙ্গে ছোট সঞ্চয়ও বড় ফল দিতে পারে।
4
6
হাইব্রিড মিউচুয়াল ফান্ড কী? হাইব্রিড মিউচুয়াল ফান্ড হল সেইসব বিনিয়োগকারীদের জন্য যারা খুব বেশি ঝুঁকি নিতে চান না। এই ফান্ড ইক্যুইটি এবং ডেট উভয় ক্ষেত্রেই বিনিয়োগ করে, যা ঝুঁকিকে ভারসাম্যপূর্ণ করে। ইক্যুইটি অংশ রিটার্ন বাড়াতে সাহায্য করে, অন্যদিকে ডেট অংশ বিনিয়োগে স্থিতিশীলতা প্রদান করে।
5
6
হাইব্রিড ফান্ড থেকে রিটার্ন: যেহেতু হাইব্রিড ফান্ডে ডেট অংশও থাকে, তাই ইক্যুইটি ফান্ডের মতো উচ্চ রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। তবুও, যারা ঝুঁকি এবং রিটার্নের মধ্যে ভারসাম্য চান, তাদের জন্য এই ফান্ড একটি ভাল বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়।
6
6
আপনার কি হাইব্রিড ফান্ডে বিনিয়োগ করা উচিত? আপনি যদি এমন একটি বিনিয়োগের বিকল্প খুঁজছেন যা একটি পিওর ইক্যুইটি ফান্ডের মতো ঝুঁকিপূর্ণ নয়, তাহলে হাইব্রিড ফান্ড বুদ্ধিমানের পছন্দ হতে পারে। তবে, মিউচুয়াল ফান্ড বেছে নেওয়ার সময় শুধুমাত্র রিটার্নের ওপর ভিত্তি করে আপনার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেবেন না। আপনার আর্থিক পরিস্থিতি, লক্ষ্য এবং সময়সীমা বোঝা অত্যন্ত জরুরি। বিনিয়োগ করার আগে একজন যোগ্য আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়া সর্বদা বাঞ্ছনীয়।