তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর এক সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে অভিনেতা সি জোসেফ বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাজগম’ (টিভিএক)। পর্দার ‘থালাপতি’ এখন বাস্তবের মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এই খুশির আবহেই মেঘ জমেছে বিজয়ের কেরিয়ারের শেষ ছবি ‘জন নায়কন’-কে ঘিরে। ৫০০ কোটি বাজেটের এই মেগা প্রজেক্টটি এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে।

 

ছবিটি কেন সেন্সর বোর্ডের লাল ফিতায় আটকে? কেনই বা সেন্সর হওয়ার আগেই গোটা ছবি অনলাইনে ফাঁস হয়ে গেল? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেন্সর বোর্ডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিকে আঙুল তুলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন ছবির প্রযোজক ভেঙ্কট কে নারায়ণ।

 

 

 

এইচ বিনোদ পরিচালিত এই ছবিটি ২০২৬ নির্বাচনের আগেই মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। প্রযোজক ভেঙ্কট কে নারায়ণ জানান, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরেই তাঁরা ছবিটিকে সার্টিফিকেশনের জন্য জমা দিয়েছিলেন। প্রাথমিক স্ক্রিনিংয়ের পর সেন্সরের এক্সামিনিং কমিটি ছবিটিকে ‘U/A 16+’ সার্টিফিকেট দেওয়ার সুপারিশও করেছিল।

 

কিন্তু বিপত্তি ঘটে জানুয়ারিতে মুক্তির ঠিক আগমুহূর্তে। প্রযোজকের দাবি, “আমরা হঠাৎ একটি ইমেল পাই যেখানে বলা হয়, ছবির বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ায় শংসাপত্র আটকে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি রিভিশন কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। পরে আদালতে আমরা জানতে পারি, অভিযোগকারী বাইরের কেউ নন, বরং এক্সামিনিং কমিটিরই একজন সদস্য— যিনি আগে ছবিটিকে সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন! তাঁর একটি অভিযোগের কারণেই ৫০০ কোটির এই ছবি আজ বিপাকে।”

 

মুক্তির আগেই ‘জন নায়কন’ বড়সড় ধাক্কা খায় যখন গত মাসে গোটা ছবিটি অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায়। শুরুতে মনে করা হয়েছিল কেবল কিছু দৃশ্য লিক হয়েছে, কিন্তু পরে দেখা যায় একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পুরো ছবিটিই জলছাপ সহ ঘুরছে। সেন্সর বিতর্ক এবং পাইরেসি— এই জোড়া ফলায় ছবিটির ব্যবসায়িক সাফল্য এখন প্রশ্নের মুখে।ছবিটি মুক্তি না পেলেও বিজয়ের রাজনৈতিক জয়ে উচ্ছ্বসিত প্রযোজক। তিনি বলেন, “বিজয় স্যার এখন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী, অর্থাৎ আক্ষরিক অর্থেই তিনি এখন ‘জন নায়কন’। হয়তো নিয়তি এটাই চেয়েছিল যে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেই ছবিটি মুক্তি পাক।”

 

কেভিএন প্রোডাকশন জানিয়েছে, সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়া মাত্রই তাঁরা প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি দেবেন। ছবিতে বিজয় ছাড়াও রয়েছেন পূজা হেগড়ে, ববি দেওল, মমতা বাইজু, প্রকাশ রাজ এবং প্রিয়মণি। সংগীত পরিচালনায় রয়েছেন অনিরুদ্ধ রবিচন্দের।