বলিউড সুন্দরী অনুষ্কা শর্মাকে শেষবার বড়পর্দায় দেখা গিয়েছিল ২০১৮ সালে, ‘জিরো’ ছবিতে। এরপর গঙ্গা ও পদ্মা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। বিরাট কোহলির ঘরণী এখন দুই সন্তানের জননী, ঘর বেঁধেছেন সুদূর লন্ডনে। সম্প্রতি একটি বিজ্ঞাপনী প্রচারে তাঁকে দেখা যেতেই অনুরাগীমহলে আবেগের জোয়ার বয়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে একটাই— যে অভিনেত্রী একসময় পর্দার দাপুটে নায়িকা ছিলেন, তিনি কেন আজ সিনেমা থেকে যোজন যোজন দূরে? কেনই বা দু’বছর আগে শুটিং শেষ হওয়া ‘চাকদহ এক্সপ্রেস’ আলোর মুখ দেখছে না?
২০১৭ সালে বিরাট কোহলির সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়ার পর থেকেই অনুষ্কার কেরিয়ারের গ্রাফ কিছুটা মন্থর হয়। ২০২১-এ মেয়ে ভামিকা এবং ২০২৪-এর ফেব্রুয়ারিতে ছেলে অকায়ের জন্মের পর বিরাট-অনুষ্কা পাকাপাকিভাবে লন্ডনে থাকতে শুরু করেন। যদিও এই দম্পতি তাঁদের দেশ ছাড়ার কারণ স্পষ্ট করেননি, তবে মাধুরী দিক্ষিতের স্বামী ডঃ শ্রীরাম নেনে একবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ভারতে অতিরিক্ত প্রচারের আলো থেকে সন্তানদের দূরে রাখতেই তাঁরা বিদেশের মাটিতে নিরিবিলি জীবন বেছে নিয়েছেন। সম্ভবত এই প্রবাস জীবনের কারণেই অনুষ্কা নতুন কোনো চিত্রনাট্যে সই করছেন না।
অনুষ্কার এই দূরত্ব কি তবে পরিকল্পিত? বহু বছর আগে সিমি গারেওয়ালের টক শো-তে অনুষ্কা জানিয়েছিলেন যে, তাঁর কাছে বিয়ে এবং সন্তান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছিলেন, “আমি বিয়ে করতে চাই, সন্তান চাই। এবং সম্ভবত বিয়ের পর আমি আর কাজ করতে চাইব না।”
আজকের প্রেক্ষাপটে অনুষ্কার সেই পুরনো কথাগুলোই যেন সত্যি হয়ে ধরা দিচ্ছে। কেরিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় সংসারের টানে কাজ কমিয়ে দেওয়া বিরল হলেও অনুষ্কা সেই পথেই হাঁটছেন বলে মনে করছেন অনেকে।
ঝুলন গোস্বামীর বায়োপিক ‘চাকদহ এক্সপ্রেস’-এর জন্য অনুষ্কা হাড়ভাঙা খাটনি খেটেছিলেন। ২০২২ সালেই ছবির শ্যুটিং শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নেটফ্লিক্সের ড্রয়ারেই বন্দি হয়ে আছে এই প্রজেক্ট। কেন এই দেরি?
বাজেট সমস্যা: শোনা যাচ্ছে, প্রোডাকশন হাউজ নির্ধারিত বাজেটের চেয়ে অনেক বেশি খরচ করে ফেলেছে।
নেটফ্লিক্সের অসন্তোষ: বলিপাড়ার ছবির চূড়ান্ত রূপ দেখে নাকি খুশি হতে পারেননি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কর্তারা। তাঁদের মনে হয়েছে ছবিটির মান আশানুরূপ হয়নি।
যদিও ছবির ঘনিষ্ঠ সূত্রেরা দাবি করেছেন এটি একটি দুর্দান্ত কাজ হয়েছে, কিন্তু আইনি বা প্রযুক্তিগত জটিলতায় আজও এর মুক্তির দিনক্ষণ অনিশ্চিত।
অনুষ্কা শর্মার কামব্যাকের আশায় প্রহর গুনছেন লক্ষ লক্ষ ভক্ত। কিন্তু ঘরনি ও জননী হিসেবে তিনি যেভাবে নিজের জগত গুছিয়ে নিয়েছেন, তাতে রূপালি পর্দায় তাঁর ফেরা এখন কেবল সময়ের নয়, বরং তাঁর ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।















