ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে যখন অভিযোগ উঠছে, টাকার বিনিময়ে সরকারি অনুষ্ঠানে শিল্পীদের গান গাওয়ার সুযোগ দিতেন সেই সময় বিগত রাজ্য সরকার এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিষোদগার করলেন শিল্পী সমীর আইচ৷
সমীর আইচ বলেন, “নেক্সাস শুধু ইন্দ্রনীল সেনের নয়। প্রতিটি জায়গায় একটা নেক্সাস কাজ করেছে। নেতাদেরই অভিযোগ যে তাদের টাকার একটা অংশ কালীঘাটে যেত। সব মিলিয়ে একটা চক্রান্ত এবং দেশটাকে লুট করার একটা প্রবল ইচ্ছে ছিল এবং করেওছে।”
ব্রাত্য বসুকে আর্ট স্কুল করার জন্য সিলেবাস তৈরি করে দিয়ে বারবার অনুরোধ করলেও কাজ হয়নি এই অভিযোগের প্রসঙ্গে সমীর আইচ বলেন, “কাজ হবে কী করে? মুখ্যমন্ত্রী যিনি ছিলেন উনি বেসিক্যালি অশিক্ষিত ছিলেন। এই ভদ্রমহিলা এমন একটা পদক্ষেপ করেনি যেখানে শিক্ষা বা সংস্কৃতির নিদর্শন আছে। ইন্দ্রনীল সেন নিজে গানটা জানে, মমতা আমার যাবার সময় হল গাইছে, ও দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছে। ভাবা যায়? দিনের পর দিন ভুল ভাল গান করে গিয়েছেন, আবুল বাশারের মত লোক বলছেন বাঙালির ক্ষণজন্মা, উনি যখন চলে যাবেন ওঁর গান ঘরে ঘরে বাজবে। আমি জানিনা কার ঘরে বাজবে হয়তো আবুল বাশারের ঘরে বাজবে, ইন্দ্রনীল সেনের ঘরে বাজবে। আমার ঘরে বা পাড়ায় আমি বাজতে দেব না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি আঁকা প্রসঙ্গে সমীর আইচ বলেন, “ছবি আঁকতেন মাননীয়া, একবার উনি বললেন একটা মঞ্চ থেকে, আমি তিনটে আঁচড় কাটলেই দশ লাখ। আমার এইভাবে সংসার চলে। উনি তিনটে আঁচড় কাটলে নাকি ১০ লাখ টাকা পান। আমরা আর্টিস্টরা তুলি, রং এবং মন, এ দিয়ে আমরা ছবি আঁকি। আঁচড় কাটি না ভাই। আঁচড় কাটে বিভিন্ন কয়েক ধরণের পশু। উনি এতই আঁচড় কাটতেন, আজ কেন কাটেন না? এতই ছবি বিক্রি করেছেন, পিকাসো কলকাতায় যদি জন্মাতেন, পিকাসোর ছবি ওই দামে বিক্রি হতো না। এবং আমার প্রশ্ন উনার আঁকা ছবিগুলো এখন সেই বহুমূল্য ছবিগুলো কোথায়? নিশ্চয়ই কোন আস্তাকুড়ে পড়ে আছে। এবং উনি যেমন এখন পড়ে আছেন, ছবিগুলোরও তাই অবস্থা।
২৬ হাজার চাকরি প্রসঙ্গে সমীর আইচ বলেন, “চাকরি চুরি, ভাবা যায়? আমি তো বেশ কয়েকবার গেছি চাকরি হারা আমাদের ভাই বোনদের কাছে। যে দৃশ্য দেখে এসেছি কলকাতা শহরে রাস্তার উপর, আমাদের রাজ্যের মাননীয়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, আমি মাননীয়া শব্দটা বলছি, ওনাকে সম্মান দেওয়ার জন্য না, আমার নিজের সম্মানটা বাঁচানোর জন্যে। তো... যাতে সমীর দা কেউ না বলে যে সমীর দা মাননীয়া বললেন না... সেই জন্য আমি বলছি, নয়তো বলতাম না। উনি পূজা কার্নিভাল করছেন রেড রোডে। ঠিক তার পাশে ওই শয়ে শয়ে হাজারে ছেলে মেয়েরা বসে আছে। চাকরি থেকে বঞ্চিত। অনেকের চাকরি চুরি হয়েছে, সেই দুর্নীতিকে ঢেকে দিয়ে উনি কার্নিভাল করছেন!”
শিল্পীর সংযোজন, “পার্কস্ট্রিট কাণ্ডে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার বললেন মহিলার নাকি চরিত্রের দোষ ছিল। দময়ন্তী সেনকে সরিয়ে দেওয়া হল। প্রতিবাদ করা আমার অপরাধ৷ ডায়মন্ড হারবারে এক মঞ্চ থেকে উনি পরিষ্কার বললেন, ছবি আঁকিয়েদের আমি শ্রদ্ধা করি, ছবি আঁকার জন্যে। কিন্তু উনি যদি এরকম করেন, তাহলে কি পালে যেদিন বাঘ পড়বে সেদিন কেউ বাঁচাবে না। পালে বাঘ পড়েছে আজকে ওনার এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ওনার কি হয় সেটা দেখার অপেক্ষায় রইলাম।”















