কিছুদিন আগেই হিন্দুস্তান পার্কের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয় পরিচালক অনীক দত্তের। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে বলা হয়েছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। যদিও এই বিষয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে। এর মধ্যেই আরও এক মর্মান্তিক খবর উঠে এল টলি পাড়া থেকে। 'পরিণীতা' ধারাবাহিকের পরিচিত মুখ মৌলি দত্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহননের চেষ্টা করেন। এখন কেমন আছেন, কেন এমন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি সেটাই জানালেন আজকাল ডট ইনকে।
নিজেকে শেষ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ কেন নিতে গিয়েছিলেন মৌলি? অভিনেত্রী বলেন, "কাজ নিয়ে বহুদিন ধরে অবসাদে ভুগছিলাম। এখন আমি যে প্রজেক্টটা করি সেখানে আমার তেমন কোনও ডেট ইত্যাদি থাকে না। ফ্ল্যাটের ইএমআই চলে, এছাড়া কলকাতা শহরে থাকার বেসিক একটা খরচ তো থাকেই, সেটা আমাকেই চালাতে হয়। আমার পরিবার কাটোয়ায় থাকে, এখানকার সব খরচ আমাকেই করতে হয়। আজকালকার যা বাজার তাতে পার ডে দিন দিন কমছে, এদিকে জিনিসের দাম বাড়ছে। সেগুলো নিয়েই একটা অবসাদ আমার ছিল। যেখানেই কাজের জন্য বলছি সবাই ওই 'হ্যাঁ দেখছি', 'জানাচ্ছি', 'জানাব' বলছেন। আবার কেউ বলছেন, 'তোর মতো চরিত্র নেই। ফ্যামিলি ক্যারেক্টারের জন্য তুই ঠিক না'। অথচ এতদিন আমি ফ্যামিলি ক্যারেক্টারই করে এসেছি। আমি নিজের মতো করে ভাল থাকতে পছন্দ করি, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাই, যতটা নিজেকে ব্যস্ত রাখা যায় সেটার চেষ্টা করি। কিন্তু ওই কোনও কোনও সময় তো হয় কাছের বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গেও ঝামেলা হয়। এবার সেদিন সব কিছু একসঙ্গে হয়ে গিয়েছিল। এটা বয়ফ্রেন্ডজনিত কোনও কারণ নয়। এমনই কাজ নিয়ে অবসাদ ছিলই, সঙ্গে কাছের বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়ে গিয়েছিল, সবটা মিলিয়ে আমার খুব অভিমান হয়ে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল আমার জন্য কেউ নেই, আমার কথা বলার লোক নেই? আমার জন্য কেউ ভাবে না। সেসব থেকে ওষুধ খেয়ে নিই। আমার এমনই ডিপ্রেশনের চিকিৎসা চলছে, ডাক্তারের দেওয়া ঘুমের ওষুধ ছিলই। যে কটা ছিল পাতাতে সব খেয়ে নিই। তারপর আমার বন্ধুরা এসে আমাকে নিয়ে হাসপাতালে যায়। উদ্ধার করে, পুলিশ নিয়ে আসে। এখন মনে হয় কেন করলাম। কী দরকার ছিল।"
বর্তমানে আগের থেকে সুস্থ আছেন মৌলি। তবে এখনও দুর্বল। নিজের স্বাস্থ্যের আপডেট দিয়ে বলেন, "এখন ঠিক আছি। কাল অবধি ঝিমুনি ভাব ছিল। বন্ডে সই করে আমি চলে এসেছিলাম। হাসপাতালে থাকতে ভাল লাগছিল না। এখন ঠিক আছি। এই সময় বুঝলাম কে আসল বন্ধু, কে নয়, কে পাশে থাকল, কারা নয়। সবটা মিলিয়ে মিশিয়ে দেখা হয়ে গেল। আমরা বন্ধুরা যখন অন্য বন্ধুদের ফোন করছে তারা ভাবছে যদি বডি হয়ে থাকে, তাহলে তো ফেঁসে যাব। এগুলোও দেখলাম।"
তবে মৌলি জানালেন বর্তমানেও তিনি একাই থাকছেন। তাঁর পরিবার কাটোয়ায়। এমনকী প্রথমে তিনি এই ঘটনার কথা বাড়িতে জানাননি। কিন্তু কেন? মৌলির জবাব, "আমার পরিবার যেহেতু দূরে থাকে তাই প্রথমে খবরটা জানাইনি। গতকাল জানিয়েছি। প্রথমে বিশ্বাস করেনি বাড়ির কেউ। তারপর খবরটা রটে যাওয়ায় চিন্তা করছে। কান্নাকাটি করছে। বাড়ি চলে যেতে বলছে, বা এসে নিয়ে যাবে হয়তো। আমি খুব দুর্বল, তাই এখনও এখানেই আছি। যেহেতু বাড়ি যাওয়ার উপায় বলতে লোকাল ট্রেন অথবা ডিরেক্ট গাড়ি করে যাওয়া।"
সুস্থ হওয়ার পর মৌলির একটাই চাহিদা, কাজ। তাঁর কথায়, "আমার এখন একটাই প্রয়োজন, ধারাবাহিক ভাবে একটা কাজ। মূল ডিপ্রেশনের কারণ কাজ। একটা সময় প্রচুর কাজ টানা করে এসেছি, এখন সেটা পড়ে গেছে। স্টারডম পাওয়া সহজ, কিন্তু সেটা ধরে রাখা কঠিন। মানিয়ে নিচ্ছিলাম, কিন্তু মানিয়ে নিতে নিতে একটা সময় দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায়। আমরা তো এখন গিয়ে রিসেপশনিস্ট বা সেলসের কাজ করতে পারব না। করতে হলে এটাই করতে হবে।"
প্রসঙ্গত এমন চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সমাজমাধ্যমে একটি ইঙ্গিতবহ বার্তা লেখেন মৌলি। সেখানে তিনি লেখেন, 'ভাবতেই অবাক লাগে আমি তার প্রথমও হতে পারিনি, শেষও হতে পারিনি। আমার আগেও তার কেউ ছিল, আমার পরেও তার কেউ থাকবে। মাঝখান থেকে আমার জীবন শেষ।' এই পোস্টের পর এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় অনেকে ভেবেছেন প্রেমঘটিত কোনও কারণেই বুঝি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। যদিও আজকাল ডট ইনের কাছে অভিনেত্রী জানালেন সেটা সত্যি নয়।
















