বলিউডের প্রয়াত কিংবদন্তি নৃত্যপরিচালক সরোজ খান কাজের ক্ষেত্রে কতটা কড়া ‘মাস্টারমশাই’ ছিলেন, তা বলিপাড়ার প্রায় সবারই জানা। মাধুরী দীক্ষিত থেকে শুরু করে ঐশ্বর্য রাই— নিখুঁত নাচের মুদ্রা ফুটিয়ে তুলতে কোনও প্রথম সারির নায়িকাকেই রেয়াত করতেন না তিনি। তবে কঠোর শিক্ষিকা হওয়ার পাশাপাশি নিজের ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সার এবং জুনিয়র টিমকে আগলে রাখার ক্ষেত্রেও ওঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল। নিজের দলের অসম্মান হলে বলিউডের প্রথম সারির তারকাদের মুখোমুখি দাঁড়াতেও দু’বার ভাবতেন না তিনি। সম্প্রতি তেমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার খোলসা করলেন বলিউডের প্রবীণ নৃত্যশিল্পী রুবিনা খান। ওঁর দাবি, নয়ের দশকের হার্টথ্রব করিশ্মা কাপুরের সঙ্গে সরোজ খানের এক মারাত্মক ঝগড়া হয়েছিল, যার পর এই দুই তারকা কেরিয়ারে আর কোনওদিন একসঙ্গে কাজ করেননি।
সম্প্রতি, দেওয়া একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে সরোজ খানের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী রুবিনা সেই পুরনো বিবাদের এক অজানা কাহিনী সামনে এনেছেন।রুবিনা খান জানান, ঘটনাটি ঘটেছিল করিশ্মা কাপুরের একটি গানের শুটিং চলাকালীন। গানের সিক্যুয়েলে একটি দৃশ্য ছিল যেখানে শিল্পীদের দৌড়ে এসে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় থামতে হতো। সেটের সেই জায়গায় একটি গাছ ছিল এবং কোরিওগ্রাফির খাতিরে কয়েকজন জুনিয়র ড্যান্সার ছেলে-মেয়ে সেই গাছের ডালে লুকিয়ে ছিল।শটের মাঝেই আচমকা ঘটে এক দুর্ঘটনা। গাছের একটি ডাল ভেঙে সেখানে লুকিয়ে থাকা একটি ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সার ছেলে সোজা এসে পড়ে করিশ্মা কাপুরের ওপর। আকস্মিক এই ধাক্কায় বেশ চোট পান অভিনেত্রী। এই দুর্ঘটনায় মেজাজ হারান করিশ্মা। তীব্র যন্ত্রণায় ও রাগে তিনি ওই ড্যান্সার ছেলেটির ওপর চিৎকার শুরু করেন।
রুবিনার কথায়, “করিশ্মা ভীষণ রেগে গিয়েছিলেন। তিনি ওই ছেলেটিকে যাচ্ছেতাই বলে গালিগালাজ করতে শুরু করেন এবং ‘ইডিয়ট’ বলেন। এই আচরণ সরোজ খানের একেবারেই পছন্দ হয়নি। কারণ তিনি ওঁর টিমকে সন্তানের মতো ভালবাসতেন। সরোজজি সঙ্গে সঙ্গে এই ঝামেলার মাঝখানে এসে দাঁড়ান এবং করিশ্মাকে স্পষ্ট বলেন যে তিনি ওঁর টিমের কারও সঙ্গে এভাবে দুর্ব্যবহার করতে পারেন না। ছেলেটি ইচ্ছে করে ওঁর ওপর পড়েনি, ডাল ভেঙে পড়ে গিয়েছে এবং সে বারবার ক্ষমাও চাইছে। কিন্তু করিশ্মা রেগে গিয়ে সেদিন শুটিং বন্ধ করে সেট থেকে সোজা বেরিয়ে চলে যান।”
রুবিনার দাবি, করিশ্মার চোট লাগায় ওঁর রাগ হওয়াটা স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু একজন জুনিয়র শিল্পীর সঙ্গে ওঁর অমন রুক্ষ আচরণ মেনে নিতে পারেননি ‘মাস্টারজি’। এই ঘটনার পর সরোজ খান প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে তিনি আর কোনওদিন করিশ্মা কাপুরের কোরিওগ্রাফি করবেন না। এবং বাস্তবেও তাঁদের আর একসঙ্গে কাজ করতে দেখা যায়নি।
সেটে চরম তিক্ততা তৈরি হলেও, ২০২০ সালে যখন সরোজ খানের মৃত্যু হয় তখন অতীতের সমস্ত মন কষাকষি ভুলে শ্রদ্ধায় মাথা নত করেছিলেন করিশ্মা কাপুর। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরোজ খানের একটি ছবি শেয়ার করে আবেগঘন বার্তায় করিশ্মা লিখেছিলেন, “সরোজজি, সত্যম হলে আপনার কাছে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে নাচ আর অভিব্যক্তি শেখার সেই দিনগুলো আমি কোনওদিন ভুলব না। আপনার শিক্ষা আমাকে জীবনে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। শান্তিতে ঘুমান।” সেই সাথে তিনি ‘মাস্টার’, ‘টিচার’ এবং ‘ড্যান্স গুরু’র মতো হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করেছিলেন।
পেশাদার জীবনের কথা বললে, করিশ্মা কাপুরকে শেষবার দেখা গিয়েছিল নেটফ্লিক্স এর ছবি ‘মার্ডার মুবারক’ -এ, যেখানে ওঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল। এর পাশাপাশি ২০২৪ সালে ওড়িশার জনপ্রিয় ড্যান্স রিয়ালিটি শো ‘ইন্ডিয়াজ বেস্ট ড্যান্সার সিজন ৪’-এর বিচারকের আসনেও আলো করে বসেছিলেন ‘লোলো’।














