সম্প্রতি বলিউডে ধর্মীয় বিভাজনের অভিযোগ তোলেন এ আর রহমান। অস্কারজয়ী সুরকারের দাবি, ধর্মীয় কারণে বিগত কয়েক বছর তিনি কোনও কাজ পাননি। রহমানের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। বলিউড তারকাদের একাংশ যেমন তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন, আবার ধেয়ে এসেছে সমালোচনাও। আর এনিয়েই এবার বার্তা দিলেন ওয়াহিদা রহমান।
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর মতে, কাজ পাওয়া বা না পাওয়ার বিষয়টি জীবনের স্বাভাবিক অংশ। তিনি বলেন, “কখনও কাজ বেশি থাকে, কখনও কম থাকে-এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের পছন্দ বদলায়, নতুন প্রজন্ম আসে।” তাঁর কথায়, “বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের সুযোগ কমে যাওয়া অস্বাভাবিক নয় এবং এটাকে সবসময় কোনও অন্য কারণে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়।”
তিনি আরও বলেন, আমাদের উচিত শান্তিতে থাকা এবং অহেতুক বিতর্কে না জড়ানো। ওয়াহিদার কথায়, “এটা আমাদের দেশ। এখানে আমাদের শান্তিতে থাকা উচিত, সুখে থাকা উচিত।” তাঁর মতে, অযথা বিতর্ক মানুষকে মানসিকভাবে অশান্ত করে তোলে, যা কোনও দিক থেকেই ভালো নয়।
প্রসঙ্গত, এক সাক্ষাৎকারে এ আর রহমান জানিয়েছিলেন, আগের মতো এখন আর তিনি বলিউডে নিয়মিত কাজ পাচ্ছেন না। এর পিছনে কিছুটা সাম্প্রদায়িক মানসিকতা কাজ করতে পারে, তাঁর বক্তব্যে খানিকটা এমনই ইঙ্গিত ছিল। সরকার মনে করেন, বর্তমানে বলিউডে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গিয়েছে। ফলে সৃজনশীল কাজের বদলে অন্য বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি কারও নাম করে অভিযোগ করেননি। পরে রহমান নিজেই স্পষ্ট করেন, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে এবং তিনি কোনও বিভেদ বা অশান্তি ছড়াতে চান না। স্পষ্ট জানান যে তিনি সবসময় ভারতের ঐক্য ও সংস্কৃতির পক্ষে।
এই এই বিতর্কের মাঝেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন ওয়াহিদা রহমান। খুব শান্ত ও সংযত ভঙ্গিতে তিনি নিজের মত প্রকাশ করেন। জানান, তিনি এই ধরনের বিতর্কে বিশেষ আগ্রহী নন এবং এ নিয়ে বেশি কথা বলতে চান না।
ওয়াহিদা রহমান এবং এ আর রহমান দু’জনেই নিজেদের ক্ষেত্রে কিংবদন্তি। অতীতে তাঁরা একসঙ্গে কাজও করেছেন। তাই রহমানের ধর্মীয় বিভাজনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর বক্তব্যকে অনেকেই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। ওয়াহিদার প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই দর্শক ও অনুরাগীদের নজর কেড়েছে।
