ভ্যালেন্টাইনস উইক মানেই শুধু গোলাপ আর চকোলেট নয়। এই সপ্তাহ আসলে ভালবাসার ছোট ছোট স্বীকারোক্তির, নির্ভেজাল হাসির আর নীরব বোঝাপড়ার গল্প বলে। ঠিক এই সময়েই যেন আরও একটু আলাদা করে ধরা দেয় সইফ আলি খান ও করিনা কাপুরের সম্পর্ক, যেখানে প্রেম মানে কে আগে ‘আমি তোমাকে ভালবাসি’ বলেছিল সেই খুনসুটি, আবার কে জম্বি অ্যাপোক্যালিপ্সে টিকে যাবে তা নিয়ে হালকা ঠাট্টাও। ভ্যালেন্টাইনের আবহে তাঁদের এই খোলামেলা কথোপকথন মনে করিয়ে দেয়, দীর্ঘদিনের সম্পর্কেও ভালবাসা আসলে বেঁচে থাকে বন্ধুত্বে, রসিকতায় আর একে অপরের ওপর নিঃশর্ত ভরসায়।আর এই ভালবাসার মুডেই জুটিতে এক সাক্ষাৎকারে নিজেদের সম্পর্কের নানা অজানা দিক তুলে ধরলেন করিনা ও সইফ। যেমন কে আগে প্রেমের কথা বলেছিলেন, কে পরিবারের ‘ফুড এক্সপার্ট’, আর জম্বি-দুনিয়ায় বাঁচার লড়াইয়ে কার পাল্লা ভারী -সব মিলিয়ে তারকা দম্পতির সম্পর্কের সেই ব্যক্তিগত ছবিটাই সামনে এল, যা ভ্যালেন্টাইনস উইকের গল্পের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মিশে যায়।

সইফ-করিনার মধ্যে কে আগে বলেছিলেন ‘আমি তোমাকে ভালবাসি’? পৃথিবীতে জম্বি অ্যাপোক্যালিপ্স হলে কে টিকে যাবেন? প্রেম, রসিকতা আর পারিবারিক রসায়নের এমন খোলামেলা আড্ডা সচরাচর দেখা যায় না। সদ্য দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এরকম এক মজার খেলায় সেসব প্রশ্নেরই অকপট উত্তর দিলেন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় এই তারকা দম্পতি।
‘ট্রুথ অর ডেয়ার’-ধাঁচের এই খেলায় একে অপরকে নিয়ে একের পর এক প্রশ্নের মুখোমুখি হন সইফ-করিনা। গয়না কেনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই করিনা জানালেন, জন্মদিন ও বিবাহবার্ষিকীতেই সাধারণত সইফের কাছ থেকে উপহার পান তিনি। সইফ অবশ্য যোগ করেন, “শুধু দিনক্ষণ নয়, ব্যক্তিগত কোনও বড় প্রাপ্তির মুহূর্তকে উদযাপন করতেও আমি ওকে গয়না উপহার দিই।”
এরপরই আসে সবচেয়ে মজার প্রশ্ন, পৃথিবীতে জম্বিরা যদি কব্জা করে নেয়, তাহলে তাদের সঙ্গে লড়াইয়ে কে টিকে যাবেন? এক মুহূর্ত না ভেবে সইফের উত্তর, “আমি তো জম্বি অ্যাপোক্যালিপ্স নিয়ে সিনেমা করেছি। তাই বাঁচব আমিই।” সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য যোগ করেন, “তবে পরিবারকে ছেড়ে নয়, ওদের সবাইকেই সাহায্য করব।” পাশে দাঁড়িয়ে করিনার হেসে উত্তর, “হ্যাঁ, এটা তো আশা করতেই পারি!”
সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্ন ছিল, সইফ-করিনার প্রেমপর্বে কে আগে বলেছিলেন ‘আমি তোমাকে ভালবাসি’? সইফ ঝটপট বলে ওঠেন, " আমার না ঠিক মনে নেই। " তবে খানিক ভেবে করিনার জবাব, “সম্ভবত আমিই। ও এখন সবার সামনে আমাকে লজ্জায় ফেলতে চায় না, তাই মনে নেই বলছে।” এই উত্তরে সইফের প্রতিক্রিয়া ছিল আরও মিষ্টি। তিনি জানান, সত্যিই তাঁর মনে নেই কে আগে বলেছিলেন, আর সেটাই নাকি সবচেয়ে সুন্দর বিষয়। রসিকতা করা নিয়েও কম খুনসুটি হয়নি। কার রসবোধ সবচেয়ে ‘প্রখর’? সঙ্গে সঙ্গে করিনা সাফ জানালেন -সইফ! আবার খাবার অর্ডার দেওয়ার দায়িত্ব কার, জানতে চাইলে সইফ বললেন, “ও বিভিন্ন রান্নার এক্সপার্ট। টেবিলের অর্ডার ও-ই সামলায়।”
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে গাঁটছড়া বাঁধেন সইফ ও করিনা। ২০০৮ সালে ‘তাশান’ ছবির সেটে তাঁদের প্রেমের শুরু। এই তারকা দম্পতির দুই সন্তান তৈমুর (২০১৬) ও জেহ (২০২১)। করিনার সঙ্গে সম্পর্কের আগে সইফের বিয়ে হয়েছিল অমৃতা সিংয়ের সঙ্গে, যাঁদের সন্তান সারা আলি খান ও ইব্রাহিম আলি খান।
&t=313s
কেরিয়ারের দিক থেকেও দু’জনেই ব্যস্ত। করিনাকে আগামী দিনে দেখা যাবে মেঘনা গুলজার পরিচালিত ইনভেস্টিগেটিভ ক্রাইম থ্রিলার ‘দায়রা’-তে, যেখানে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করছেন পৃথ্বিরাজ সুকুমারন। ছবিটি ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা। অন্যদিকে সইফ অভিনীত অ্যাকশন-থ্রিলার ‘কর্তব্য’ মুক্তি পাবে নেটফ্লিক্স ইন্ডিয়ায়।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও সইফ-করিনার সম্পর্কে রসায়ন, বন্ধুত্ব আর রোম্যান্স ঠিক ততটাই জীবন্ত, যতটা ছিল প্রথম ‘আমি তোমাকে ভালবাসি’ বলার দিনে।
