প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার রেশ এখনও কাটেনি। ঠিক তার মধ্যেই কলকাতার মঞ্চে ফের শোনা গেল অরিজিৎ সিংয়ের কণ্ঠ! আর সেই মুহূর্ত ঘিরেই আবেগে ভেসে গেল নেটদুনিয়া।

অনুষ্কা শঙ্করের কনসার্টে অতিথি শিল্পী হিসেবে হাজির ছিলেন অরিজিৎ। মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি কেউ আগাম ঘোষণা দিয়েই রাখেনি, হঠাৎ করেই হাজির হলেন অরিজিৎ। অনুষ্কা যখন দর্শকদের সামনে জিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্রকে আমন্ত্রণ জানান, তখনই গ্যালারি জুড়ে শুরু হয়ে যায় আকাশ ফাটানো চিৎকার! সঙ্গে মুহুর্মুহু হাততালি। সেই মুহূর্তের ভিডিওতে ধরা পড়ে, মঞ্চে উঠে খানিকটা ইতস্তত অরিজিৎ বলছেন, “ এইমুহূর্তে আমি খুব নার্ভাস...আর আমাকে এখানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ।”

 

 

তারপর যা হল, তা নিছক একটি পারফরম্যান্স নয়, একটি আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম। অনুষ্কা শঙ্কর ও তবলাবাদক বিক্রম ঘোষের সঙ্গে অরিজিৎ পরিবেশন করেন ‘মায়া ভরা রাতি’। লক্ষ্মী শঙ্করের গাওয়া এই বাংলা গান, প্রয়াত সেতার-সম্রাট পণ্ডিত রবি শঙ্করের সুরে বাঁধা আর সেই সুরে অরিজিতের কণ্ঠ যেন নতুন করে প্রাণ পেয়ে ওঠে। গান শেষ হতেই দর্শকাসনে ছড়িয়ে পড়ে আবেগের ঢেউ।

শুধু মঞ্চেই নয়, গান শেষে অরিজিৎ আরও জানান, অনুষ্কার বাড়িতে গিয়ে দু’জনে একসঙ্গে নতুন একটি গানও কম্পোজ করেছেন। শিল্পীর এই মন্তব্য থেকেই ইঙ্গিত স্পষ্ট -প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ালেও সঙ্গীত থেকে তিনি কোনওভাবেই দূরে নন।

এই পারফরম্যান্সের ভিডিও ভাইরাল হতেই অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়ায় ভরে ওঠে সমাজমাধ্যম। কেউ লেখেন, “খুশি আর ভাঙা মন -দুটো একসঙ্গে।” কারও মন্তব্য, “অনেকদিন পর ওঁকে লাইভ শুনলাম।” আবার কেউ আবেগে লিখেছেন, “অরিজিৎ! তোমার গলা মিস করছিলাম। এখনও গায়ে কাঁটা দিচ্ছে।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি ইনস্টাগ্রামে অরিজিৎ সিং ঘোষণা করেছিলেন, তিনি আর কোনও নতুন প্লেব্যাক কাজ নেবেন না। শ্রোতাদের উদ্দেশে লেখা সেই বার্তায় তিনি জানান, এত বছরের ভালবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্লেব্যাক গানের অধ্যায় আপাতত বন্ধ করছেন। পরে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে আরও স্পষ্ট করে লেখেন, এই সিদ্ধান্ত কোনও হঠকারিতা নয়, বরং দীর্ঘ ভাবনাচিন্তার ফল।

&t=313s

 

তবু কলকাতার এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ‘মায়া ভরা রাতি’ গেয়ে ওঠা যেন একটাই কথা মনে করিয়ে দিল,  অরিজিৎ সিং হয়তো প্লেব্যাক থেকে সরে গেছেন, কিন্তু তাঁর কণ্ঠ, তাঁর গান, আর শ্রোতার সঙ্গে সেই গভীর সংযোগ যা ছিল তা এখনও অটুট।