এপ্রিলের গোড়ার দিকে হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যান টলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়। তাঁর হদিস পেতে মরিয়া হয়ে ওঠেন তাঁর স্ত্রী। অবশেষে দিল্লি থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়। মৌপিয়া অর্থাৎ উৎসবের স্ত্রী এবং পুলিশ গিয়ে সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করে আনেন। এবার এতদিন পর অবশেষে লাইভে এসে কী ঘটেছিল, তিনি কোথায় ছিলেন, কেন গিয়েছিলেন সবটা জানালেন। 

এদিন সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে উৎসব বলেন, 'গত ২৪ দিনের জন্য আমার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার স্ত্রী মৌপিয়া সাংঘাতিক মানসিক ট্রমার মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। আমি সত্যিই সত্যিই খুব দুঃখিত। আমার মনে হয় নৈতিক ভাবে আমার একটা দায়িত্ব আছে যে কী ঘটেছিল সেটা আপনাদের জানানো।' তাঁর আরও সংযোজন, 'সোশ্যাল মিডিয়াতে আমার স্ত্রী কিছুদিন আগে একটি পোস্ট করেন, আমিও গত বছর অক্টোবর মাসে একটি ভিডিও পোস্ট করে জানিয়েছিলাম, গত ৫-৭ বছর ধরে আমি একটা সাংঘাতিক সাইবার অ্যাটাকের শিকার। কুৎসিত কদর্য ভাষায় আক্রমণ করা হতো। এই জিনিসটা বাড়তে বাড়তে একটা সাংঘাতিক আকার ধারণ করে। আমি এই বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম, কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। এই সাইবার অ্যাটাক বিভিন্ন ভাবে রূপ বদলাতে থাকে।' 

উৎসব জানান বিভিন্ন ফেক প্রোফাইল থেকে তাঁর পোস্টে মন্তব্য করা হতো, কদর্য ভাষায় চলতো আক্রমণ। এমনকী তাঁর প্রোফাইল হ্যাক করে ভুলভাল পোস্ট করা হতো। এই বিষয়ে উৎসব বলেন, 'এই জিনিসটা হতে হতে বিষয়টা এমন জায়গায় দাঁড়ায় যেখানে আমার অনেক বন্ধু এবং সহকর্মীর সঙ্গে আমার মনোমালিন্য হতে আরম্ভ করে। গোটা বিষয়টা আমার উপর একটা সাংঘাতিক মানসিক চাপ তৈরি করতে থাকে। এই চাপের কাছে নতিস্বীকার করে আমি সব কিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করি।' তিনি জানান আড্ডা, সিনেমার প্রিমিয়ার, সোশ্যাল গ্যাদারিং সহ কোথাও যেতেন না। তাঁর কথায়, 'যেখানে গেলে আমার ছবি উঠতে পারে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতে পারে সেখানে আমি যেতাম না।' 

এই গোটা ঘটনায় উৎসবের কাজ ব্যাহত হতে থাকে। নতুন কাজ করতে পারেন। তার মধ্যেই ২০২৫ সালে কয়েক মাসের ব্যবধানে পরিচালক তাঁর বাবা মা, উভয়কে হারান। আরও ভেঙে পড়েন। সেই সময় তাঁর বর্তমান স্ত্রী তাঁর পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ান। তাঁকে আগলে রাখেন। এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁরা বিয়ে করেন। তারপর পুনরায় এই সাইবার আক্রমণ শুরু হয়। তবে এবার টার্গেট আর উৎসব নন, হন তাঁর স্ত্রী। 
উৎসব এদিন ভিডিওতে বলেন, তিনি জানেন এই ঘটনার পিছনে কে আছেন এবং তার উদ্দেশ্য কী। কিন্তু তিনি এটা জানেন না যে সেই ব্যক্তি একাই এই জিনিস করছেন না একটা সংগঠন জড়িত। 

উৎসব এদিন আরও জানান গত ২৪ দিন যখন তিনি নিখোঁজ ছিলেন তাঁর অধিকাংশ সময়টাই তিনি একা ছিলেন। একদম শেষ পর্যায় তিনি তাঁর এক বন্ধুর কাছে গিয়ে ওঠেন। তাঁর সেই দিল্লি নিবাসী বন্ধুই মৌপিয়া এবং পুলিশকে খবর দেন। তখন তাঁরা গিয়ে তাঁকে নিয়ে আসেন। 

উৎসব জানান যা ঘটেছে সেটা তিনি চাপে পড়ে ঘটিয়েছেন। কিন্তু এটার বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করবেন।