একটা সময় ছিল, যখন ভোটের প্রচারের অনেকটা জুড়ে থাকত দেওয়াল লিখন, ফেস্টুন, পোস্টার। মজার মজার সব ছড়া, কার্টুন আঁকা হতো বিভিন্ন বাড়ির দেওয়ালে। আসা যাওয়ার পথে সেসব ছড়া কার্টুন দেখে কেউ মুচকি হাসতেন, কেউ আবার মজা নিয়ে পড়তেন। কিন্তু সেসব দিন এখন অতীত। এখন ডিজিটাল যুগ। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলেছে নির্বাচনী প্রচারের ধরন। না না, এখনও দেওয়াল লিখন, র‍্যালি, ইত্যাদি আছে। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে এসবের পাশাপাশি জায়গা করে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া। তবে এবারের চমক এআই। 

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে বিজ্ঞান। আর সেই বিজ্ঞানের দানকে দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি চুটিয়ে ব্যবহার করা হল এবারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে। ফল? 'আসছে কলতান', 'শওকত মাছ চোর' -এর মতো একাধিক হিট গান। 

পানিহাটির বাম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্তের প্রচার সঙ্গীত 'আসছে কলতান' গানটিতে উঠে এসেছে প্রতিপক্ষ অভয়ার মায়ের প্রসঙ্গ থেকে চাকরির প্রসঙ্গ, মন্দির, মসজিদের কথা। গানটির সুরে মুগ্ধ ৮ থেকে ৮০। বামেদের এই গানের সুর নজর কেড়েছে অন্যান্য দলেরও। বর্তমানে সুপারহিট গানটি। ইউটিউবে ১৯৫ হাজারের বেশি ভিউ। ফেসবুকেও ঘুরছে এই ভিডিও। হচ্ছে রিলস বানানো। গানটির কথা থেকে সুর সবই এআই দিয়ে বানানো।

অন্যদিকে 'আসছে কলতান' -কেও ছাপিয়ে গিয়েছে 'শওকত মাছ চোর' গানটি। এই গানটিকেও এআইয়ের সাহায্যে বানানো হয়েছে। গানের কথা থেকে সুরে মাতোয়ারা নেটপাড়া। অনেকে তো আবার এটিকে মজা করে রিং টোন বানিয়ে ফেলেছেন। কেউ আবার গুনগুন করে চলেছেন। ইউটিউব থেকে ফেসবুকে রীতিমত ভাইরাল গানটি। অনেকে আবার মিম বানিয়েছেন এই গান নিয়ে। 

ফলে যে কোনও রাজনৈতিক দল হোক না কেন, সবার এবারের প্রচারে যে এআই জায়গা করে নিয়েছে সেটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। 

এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, অতীতেও কখনও 'খেলা হবে', কখনও 'টুম্পা সোনা' নির্বাচনী প্রচারে জায়গা করে নিয়েছে। সাড়া ফেলেছে। কিন্তু এবার এই প্রথমবারের জন্য এআইয়ের এই ব্যবহার নির্বাচনী প্রচারে বিরল। আর প্রথমবারেই যে এটি দারুণ সাফল্য পেল সে নিঃসন্দেহে বলা যায়। কী মত আপনার এই বিষয়ে?