কুসুমের জীবনে যেন ঝড়ের পর ঝড়। এক মুহূর্তের জন্যও যেন স্বস্তি নেই। একের পর এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে বারবার পরীক্ষায় পড়তে হয় তাকে। কখনও ভালবাসার টান, কখনও পরিবারের দায়িত্ব। এই দ্বন্দ্বেই ক্রমশ ক্ষতবিক্ষত হয়ে ওঠে তার মন। তবু সব আঘাত সামলে লড়াই চালিয়ে যাওয়াই তার নিয়তি।
এই অশান্তির মাঝেও একটাই অনুভূতি অটুট থাকে। আয়ুষ্মানের প্রতি কুসুমের ভালবাসা। কিন্তু সেই সম্পর্কও কি নিরাপদ? সেখানেও জমতে শুরু করেছে মেঘ। ইতিমধ্যেই তাদের জীবনে প্রবেশ করেছে মেঘা। আয়ুষ্মানের মা ইন্দ্রাণীও তাকে পছন্দ করে। সে কথা সকলের সামনে প্রকাশ করতেই ভয়ে কেঁপে উঠেছিল কুসুমের বুক। কারণ কুসুম তো বহু আগেই নিজের মননে আয়ুষ্মানের স্ত্রী হিসাবেই নিজেকে দেখেছে। যদিও আয়ুষ্মানের কাছে সেই বিয়ে ছিল শুধুই একটি বিজ্ঞাপনের শুটিং, বাস্তবের সঙ্গে যার কোনও যোগ নেই।
আয়ুষ্মানের জন্মদিন। ভালবাসার মানুষের এই বিশেষ দিনে কুসুমের একটাই প্রার্থনা। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে যেন সে আয়ুষ্মানের পাশেই থাকতে পারে। তার দু’চোখ ভরে সুখ-দুঃখ, ওঠা-পড়া, সব কিছু একসঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্ন।
কিন্তু সেই স্বপ্নের পথেই এবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মেঘা। আয়ুষ্মানের মা জানাতে চায়, বড় ছেলের জন্য তিনি ইতিমধ্যেই জীবনসঙ্গী ঠিক করে ফেলেছে। ঠিক সেই মুহূর্তেই সেখানে হাজির হয় মেঘা। সে জানায়, আয়ুষ্মানের সঙ্গে সে আলাদা করে কথা বলতে চায়। পরিবারের অন্য সদস্যরাও তাতে কোনও আপত্তি তোলে না।
এরপরেই আয়ুষ্মানের সামনে নিজের মনের সব কথা উজাড় করে দেয় মেঘা। স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সে আয়ুষ্মানকে বিয়ে করতে চায়। এমন প্রস্তাবে মুহূর্তেই হতবাক হয়ে যায় আয়ুষ্মান। আর এই পুরো দৃশ্যটাই দূর থেকে দেখে কুসুম। চোখের সামনে ভেঙে পড়ে তার পৃথিবী। যে মানুষটাকে ঘিরে সে এত স্বপ্ন বুনেছিল, যাকে নিজের ভবিষ্যৎ ভেবেছিল, তাকে হারিয়ে ফেলার আশঙ্কায় মন ভেঙে পড়ে তার। বুকভরা ভালবাসা আর অনিশ্চয়তার ভয়ে সে যেন আর নিজেকে সামলাতে পারে না। নীরবে ভেঙে পড়ে কুসুম।
এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন একটাই। মেঘার আগমন কি কুসুমের স্বপ্নে নতুন করে ঝড় তুলবে? নাকি আয়ুষ্মানের জন্মদিনেই বদলে যেতে চলেছে তিনজনের সম্পর্কের সমীকরণ। ১৭ এবং ১৮ জানুয়ারি সেই প্রশ্নেরই উত্তর পাবে দর্শক।
