বহুদিনের আইনি লড়াই শেষে অবশেষে মুক্তি পেয়েছে ‘উদয়পুর ফাইলস’। কিন্তু ছবির প্রযোজক অমিত জানির মাথার উপর এখনও মৃত্যুর ভয়ঙ্কর মেঘ জমে আছে। খোদ প্রযোজক দাবি করেছেন, তিনি এখন প্রাণনাশের হুমকির মুখে।

 

শুক্রবার সারা দেশে মুক্তি পায় ছবিটি, ঠিক তার আগেই দিল্লি হাই কোর্ট ছবির রিলিজে স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করে। ২০২২ সালের দর্জি কনহাইয়া লালের নৃশংস হত্যাকাণ্ড অবলম্বনে নির্মিত এই বিতর্কিত সিনেমা প্রথম থেকেই সেন্সর ও আইনি জটিলতায় জর্জরিত ছিল। বিরোধীদের অভিযোগ—এটি নাকি ‘সাম্প্রদায়িক প্রোপাগান্ডা’।

 

শনিবার এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে জানি জানান, একটি অচেনা নম্বর থেকে তাঁকে বারবার ফোন করা হচ্ছে। ফোনের অন্যপ্রান্তে থাকা এক ব্যক্তি তাঁকে হুমকি দিচ্ছে—বোমা মেরে বা গুলি করে তাঁকে খুন করবে! পরিচয় দিয়েছে ‘বিহারের তাবরেজ’ বলে। পোস্টে তিনি অনুরোধ করেছেন—দ্রুত এই তাবরেজের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করে গ্রেফতার করুক পুলিশ। এর সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের আধিকারিকদের, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও রাজ্য সরকারের কর্মকর্তাদের ট্যাগ করেন।

 

গত মাসেই কেন্দ্রীয় সরকার জানিকে দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশে ওয়াই-ক্যাটাগরির সশস্ত্র নিরাপত্তা দেয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে পুলিশি সুরক্ষা চাইতে অনুমতি দেয়, যখন তিনি প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ওয়াই-ক্যাটাগরির নিরাপত্তায় থাকে ৮ থেকে ১১ জন সশস্ত্র কম্যান্ডো, যারা ২৪ ঘণ্টা পাহারা দেয়।

 

প্রথমে ১১ জুলাই মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও সেন্সর ও আইনি জটিলতায় একাধিকবার পিছিয়ে যায় ছবির মুক্তি। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়—ছবির মুক্তির সরকারি অনুমোদনের বিরুদ্ধে করা চ্যালেঞ্জ দ্রুত নিষ্পত্তি করুক দিল্লি হাই কোর্ট।

 

‘উদয়পুর ফাইলস’-এ কনহাইয়া লালের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বিজয় রাজ। ২০২২ সালের জুনে রাজস্থানের উদয়পুরে নিজের দর্জির দোকানে নির্মমভাবে খুন হয়েছিলেন কনহাইয়া লাল। অভিযোগ—সাবেক বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার পক্ষে করা এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই যুবক, মোহাম্মদ রিয়াজ আত্তারি ও ঘৌস মোহাম্মদ, গ্রাহকের ছদ্মবেশে দোকানে ঢুকে তাঁর গলা কেটে ফালা ফালা করে দেয়। হত্যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে নিজেরাই দায় স্বীকার করে নেয় অভিযুক্তরা। এই ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে, বাড়ায় সাম্প্রদায়িক হিংসা ও মৌলবাদ প্রসারের আশঙ্কা।

 

ছবিটি পরিচালনা করেছেন ভারত এস শ্রীনাতে ও জয়ন্ত সিনহা, প্রযোজক অমিত জানি।

 

এই ছবি নিয়ে যথেষ্ট জল ঘোলা হয়েছে। যদিও এই ছবি দেখে মুগ্ধ মৃত দর্জি কানহাইয়া পরিবারের সদস্যরা। ছবি মুক্তির পর তার দুই ছেলেকেও উদয়পুরের সিনেমা হলে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ছবিতে বাবার মৃত্যুর দৃশ্য দেখে দুই ছেলে যথেষ্ট আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তারা বলেন, ২০২২ সালে ২৮ জুন আমার বাবার সঙ্গে ঠিক কি ঘটেছিল সেটা সবার দেখা উচিত। সন্ত্রাসবাদের শিখর যে কতটা সরিয়ে দিয়েছে তা জানার জন্য সকলের কাছে তারা আবেদন করেন ছবিটি লেখার জন্য।

উল্লেখ্য, ছবিটি গত ১১ জুলাই বড় পর্দায় মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে ১০ জুলাই ছবিটি মুক্তির ওপরে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট। পরে তথ্য এবং সম্প্রচার মন্ত্রকের হস্তক্ষেপে এই ছবিটি মুক্তি পেল ৮ আগস্ট।