'কালা হিরণ' ছবিটি নিয়ে যেন বিতর্ক শেষ হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই ছবির নির্মাতাদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সলমন খান। তারপরও প্রকাশ্যে আনা হয়েছে কালা হিরণ ছবির ট্রেলার। এবার এই ছবির নির্মাতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন ছবির অন্যতম অভিনেতা গোবিন্দ নামদেব।
এদিন এক সাক্ষাৎকারে গোবিন্দ নামদেব 'কালা হিরণ' ছবির নির্মাতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে বলেন, 'আমি ট্রেলারটা দেখা মাত্রই ভিতর থেকে কেঁপে উঠেছি। আমি সঙ্গে সঙ্গে বুঝেছি আমায় যে কারণে শুট করানো হয়েছিল, ব্যাপারটা সেটা থেকে একেবারেই আলাদা। আমায় কখনই বলা হয়নি যে ছবিতে সলমন খানের সঙ্গে মিল আছে এমন কোনও চরিত্রে থাকবে। বা এমন ভুলভাবে গোটা বিষয়টাকে তুলে ধরা হবে। ট্রেলার দেখেই আমি বুঝেছি যে আমায় সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে এখানে ব্যবহার করা হয়েছে।' তাঁর দাবি, 'আমায় যা বলা হয়েছিল, এবং যা বানানো হয়েছে, দুইয়ের মধ্যে আকাশ, পাতালের ফারাক।'
গোবিন্দ আরও জানান, তাঁকে বলা হয়েছিল যে ছবিটির নাম সম্ভাল হতে চলেছে। তাঁর কথায়, 'আমার তখন কোনও আইডিয়া ছিল না যে এরপর গোটা বিষয়টাই অন্য দিকে চলে যাবে। এরপর আমায় বলা হয়, ওরা 'কালা হিরণ' নামের আরও একটি ছবি বানাচ্ছেন। এখানে সলমন খানের সেই কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার বিষয়টির আইনি ব্যাপার দেখানো হবে। কোর্টে কী কী চলেছে, শুধু সেটাই দেখানো হবে। আমায় বলা হয়, কোর্টের লম্বা সিন আছে একটা, আপনাকে ওটা করতে হবে। ওঁরা এটাও বলেছিলেন যে তাঁদের তরফে নতুন কোনও সংযোজন করা হবে না। আদালতে যা ঘটেছিল শুধু সেটাই দেখানো হবে।' অভিনেতার দাবি, আদালত বা রেকর্ড আছে এমন জিনিস দেখানোয় কোনও ক্ষতি নেই, তাই তিনি সে ছবিতে সম্মতি জানান।
গোবিন্দ নামদেবের কথায়, 'আমি আর সলমন খান খুবই ভাল বন্ধু। আমি যদি জানতাম ওঁরা কী বানাচ্ছেন, তাহলে কখনই তাতে সই করতাম না। ওঁরা সম্পূর্ণ আলাদা ভাবে আমায় গল্পটা বলেছিল। এখন মনে হচ্ছে আমি ঠকে গিয়েছি। আমায় ঠকানো হয়েছে।'
সলমন খান এবং কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই -এর মধ্যে বহু বছরের পুরনো শত্রুতার আগুন এবার পর্দায়! এদিন, ১২ই জুন কোনও পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আচমকা মুক্তি পেয়ে গেল সলমনের ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলার ওপর ভিত্তি করে তৈরি বিতর্কিত ক্রাইম-থ্রিলার ও কোর্টরুম ড্রামা ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লেগ্যাসি’! প্রথমে ২০শে জুন ছবির প্রথম ঝলক আসার কথা থাকলেও, ছবির থিয়েটার রিলিজের সঙ্গে মিলিয়ে ১২ই জুন হাড়হিম করা অফিশিয়াল টিজার সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলিজ করেছেন বিতর্কিত ছবি ‘উদয়পুর ফাইলস’ খ্যাত প্রযোজক অমিত জানি এবং পরিচালক ভারত এস শ্রীনাতে। ছবির ফার্স্ট লুক এবং টিজার সামনে আসতেই বলিপাড়ায় তীব্র আইনি এবং উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ছবির নির্মাতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ইতিমধ্যেই সলমন খানের লিগ্যাল টিম এক কড়া আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। জানি ফায়ারফক্স মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড -এর ব্যানারে নির্মিত এই ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলি-অভিনেতা মুকেশ তিওয়ারি। এছাড়াও কাসিফ ইকবাল খান ও খোদ অমিত জানিকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে। উত্তরপ্রদেশের সম্বল ও মোরাদাবাদে শুটিং হওয়া এই ছবির টিজারে যা দেখানো হয়েছে, তা এককথায় বিস্ফোরক!
ছবিতে সরাসরি সলমন খান এবং লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম ব্যবহার না করা হলেও, পোস্টার ও সংলাপে কৃষ্ণসার হরিণ মামলার উল্লেখ থাকায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে সলমনের লিগ্যাল ফার্ম ‘ডিএসকে লিগ্যাল’ । সলমনের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে কাস্টিং ডিরেক্টর অক্ষয় পাণ্ডেকে পাঠানো নোটিশে দাবি করা হয়েছে— এই ছবি সলমন খানের ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিগত অধিকার লঙ্ঘন করছে, ওঁর মানহানি ঘটাচ্ছে এবং রাজস্থান হাইকোর্টে চলমান আইনি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। অবিলম্বে ছবির প্রমোশন বন্ধ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তবে এই আইনি নোটিশে একটুও দমে যাননি প্রযোজক অমিত জানি।















