সপ্তাহের মাঝেই হঠাৎ উত্তাল হয়ে উঠেছিল সোশ্যাল মিডিয়া। কারণ জনপ্রিয় হলিউড অভিনেত্রী জেন্ডায়া ও টম হল্যান্ডকে ঘিরে ফের ছড়িয়ে পড়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুজব। মুহূর্তের মধ্যেই সেই দাবি ছড়িয়ে পড়ে এক প্ল্যাটফর্ম থেকে আরেকটিতে। শুরু হয় আলোচনা, ঠাট্টা, মিম,এমনকী বিভ্রান্তিও। কিন্তু বাস্তব আবারও প্রমাণ করল, নেটপাড়া অনেক সময় সত্যের আগেই রায় দিয়ে বসে।

এই জল্পনার সূত্রপাত একটি পোস্ট থেকে। ৭ ফেব্রুয়ারি এক্স -এ ‘হুপস ক্রেভ ’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট দাবি করে, টম হল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন জেন্ডায়া। বলাই বাহুল্য, পোস্টটি অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে ভাইরাল হয়। অনেকেই সেই খবরটিকে সত্যি ধরে নিয়ে শেয়ার করতে থাকেন। কিন্তু একটু খুঁটিয়ে দেখলেই ধরা পড়ে আসল তথ্য - এই ‘হুপস ক্রেভ ’ আসলে একটি প্যারোডি অ্যাকাউন্ট। অর্থাৎ মজা-রঙ্গব্যঙ্গ করেই তারা বিভিন্ন খবর পরিবেশন করে। কোনও সংবাদ সংস্থার সঙ্গে যাদের যোগ নেই। তাদের বায়োতেই সেই উল্লেখ রয়েছে।  ফলে এই দাবির পক্ষে কোনও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ এখনও পর্যন্ত নেই।  তবে জেন্ডায়ার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর একেবারে জল্পনা বলে পুরোপুরিও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। কেন? সে প্রসঙ্গে আসছি একটু পরেই। 

 

এই ভাইরাল পোস্টের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে অবশ্য দেরি করেননি নেটিজেনদের একাংশ। কেউ লিখেছেন, “মিথ্যে খবর ছড়ানো বন্ধ করুন।” আবার কারও মন্তব্য, “এটা নিশ্চয়ই রসিকতা।” কেউ কেউ পরিস্থিতিকে হালকা করে নিয়ে মজা করে লিখেছেন, মার্ভেল নাকি ইতিমধ্যেই ‘পরের স্পাইডার-ম্যান’ খুঁজে পেয়েছে! এমনকী কয়েকজন এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে তথ্য যাচাই করতেও পিছপা হননি।

প্রসঙ্গত, জেন্ডায়া ও টম হল্যান্ডের বাগদান ইতিমধ্যেই সেরে ফেলেছেন তাঁরা। তবে বিয়ের দিনক্ষণ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও পর্যন্ত নেই। যদিও হলিউড পাড়ার খবর, এই মুহূর্তে কেরিয়ারেই মন দিতে চাইছেন দু’জনেই। ব্যস্ত কাজের মাঝেও ব্যক্তিগত জীবনকে যতটা সম্ভব আড়ালেই রাখতে চান তাঁরা।

তবে জেন্ডায়াকে নিয়ে এহেন খবর কিন্তু প্রথমবার নয়। ২০২২ সাল থেকেই একাধিকবার গর্ভাবস্থার গুজব জেন্ডায়াকে ঘিরে ছড়িয়েছে। কখনও কোনও ছবি, কখনও কোনও পাবলিক অ্যাপিয়ারেন্স...সামান্য কিছু দেখেই নেটদুনিয়া শুরু করে দেয় জল্পনা। সাম্প্রতিক গুজব নতুন করে উসকে দেয় জানুয়ারির মাঝামাঝি তোলা একটি ছবি। লন্ডনে এক অনুরাগীর সঙ্গে তোলা সেই ছবিতে জেন্ডায়া পরেছিলেন লম্বা ধূসর কোট ও শীতের ঢিলেঢালা পোশাক। অভিনেত্রীর ঢিলাঢালা পোশাক পড়া সেই ছবি ঘিরেই ফের শুরু হয় জল্পনা, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে।
এই ধরনের মন্তব্য নিয়ে আগেও কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন জেন্ডায়ার মা ক্লেয়ার স্টোয়ারমার। সাফ বলেছিলেন, “আরও ভালও সোর্স থাকা উচিত আপনাদের।”

এবারও অনুরাগীদের বড় অংশ এই জল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। রেডিটে অনেকেই লিখেছেন, একটি মাত্র ছবি দেখে কোনও নারীর শরীর নিয়ে অনুমান করা অত্যন্ত আপত্তিকর। কেউ কেউ মনে করিয়ে দিয়েছেন, শীতের পোশাক ও লেয়ার্ড জামাকাপড় প্রায়শই ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

কাজের দিক থেকে জেন্ডায়া এখন ভীষণ ব্যস্ত। ইউফোরিয়া-র তৃতীয় সিজন, ডিউন: পার্ট থ্রি,  এবং স্পাইডার ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে-এর মতো একাধিক বড় প্রজেক্টে যুক্ত তিনি। হলিউডে আরও ফিসফাস, এ খবর যদি কোনওভাবে সত্যিও হয় তাহলেও কিন্তু গর্ভাবস্থা বা মাতৃত্বকালীন বিরতির কারণে কোনও জেন্ডায়ার কাজের শিডিউলে পরিবর্তনের খবর নেই।

 

 

হলিউডের বড় প্রোডাকশনে সাধারণত ব্যক্তিগত বা চিকিৎসাজনিত বড় বিষয় আগেভাগেই জানাতে হয়। ফলে গোপনে এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা কার্যত নেই। এখনও পর্যন্ত জেন্ডায়া বা টম হল্যান্ড, কেউই এই গুজব নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। তাঁদের প্রতিনিধিদের তরফেও এমন কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।

সব মিলিয়ে, এই মুহূর্তে একটাই সত্যি আর সেটা জেন্ডায়া অন্তঃসত্ত্বা নন। বাকি সবটাই নেটদুনিয়ার চেনা গুজব বাজারের আরেক অধ্যায়।