গত নয়ের দশকের শুরুর দিকে তাঁর আগমন। এবং এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। সোজা কথা। গান দিয়ে তিনি বাংলা গানের নতুন এক ধারার সৃষ্টি করলেন। গান, বাজনা, কবিতা, লিরিক, সুর, তাল, ছন্দ- সবমিলিয়ে সম্পূর্ণ এক স্বাতন্ত্র্য পথ সৃষ্টি করেলন ‘গানওলা’। কয়েক পশলা মুহূর্তের মধ্যে শ্রোতা-দর্শক আপন করে নিলেন কবীর সুমনকে। তাঁর গানের সুরে সুর মিলিয়ে সমস্বরে বলে উঠলেন ‘তোমাকে চাই’। বাকিটা ইতিহাস! আজও দুরন্ত প্রেমে পড়লে বাঙালি আজও তাঁর গানের পংক্তি নির্দ্বিধায় ভালবাসার মানুষের উদ্দেশ্যে জোরে অথবা অস্ফুটে কিংবা গুনগুন করে গেয়ে ওঠেন তাঁর গাওয়া গান। তিনি, কবীর সুমন। আর এবারে পার্ক স্ট্রিটের রাস্তায় গিটারবাদকের সঙ্গে তিনি যা করলেন, তা দেখে মুগ্ধ নেটপাড়ায়। 

রবিবারের পার্কস্ট্রিটের দুপুর। শীত যাই যাই করেও যাচ্ছে না। আর কিশোরী মেয়ের মতো বসন্ত এদিক ওদিক ছুটে ছুটে বেড়াচ্ছে। আর সেই সময় এক পথশিল্পী গিটার বাজিয়ে গেয়ে চলছিলেন একের পর এক গান। পথেই গানবাজনা করে উপার্জন করেন এই শিল্পী। এমন সময় তাঁর উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে থাকা নামী রেস্তরাঁ থেকে বেরিয়ে এলেন কবীর সুমন। আর বেরিয়েই এই দৃশ্য দেখে দাঁড়িয়ে পড়লেন তিনি। মুখের হাসি একটু একটু করা চওড়া হল। এক হাতে গায়ের চাদরটাকে একটু ঠিক করে লাঠিটা শক্ত করে ধরে এক মনে পথশিল্পীর গান শুনতে লাগলেন। এমনকী তাঁর সঙ্গে মেলালেন গলাও! গিটার বাজিয়ে সেই শিল্পী যখন উদাত্ত গলায় গেয়ে চলেছেন “হ্যায় আপনা দিল তো আওয়ারা”, মাথা নাড়িয়ে তাঁকে ধরতেই দিচ্ছেন ‘গানওলা’! অস্ফুটভাবে তিনিও গেয়ে উঠছেন সেই গানের কলি। 

 

&t=313s

 

এখানেই কিন্তু শেষ নয় ঘটনার। গান শেষে ওই শিল্পী মাথা ঝুঁকিয়ে অভিবাদন জানিয়ে ‘জাতিস্মর’কে যখন বললেন আপনার কষ্ট হচ্ছে...তাঁর কথা শেষ হওয়ার আগেই মাথা ঝাঁকিয়ে বর্ষীয়ান শিল্পী বলে ওঠেন, “না, না। আপনি গান না, আমি শুনছি!” শোনামাত্রই শিল্পী যেন সাহস পেলেন। মুখে ভরে উঠল অনাবিল হাসিতে। খানিক গলা খাঁকড়িয়ে গেয়ে উঠলেন শ্যামল মিত্রের " কী নাম ডেকে বলব তোমাকে..." শোনামাত্রই শিশুর হাসি তখন কবীরের মুখে। আহা, আহা! বলে উঠে শিল্পীকে বাহবাও জানালেন। এবং জানালেন সে যেন পরে তাঁর সঙ্গে অতি অবশ্যই যোগাযোগ করেন। 


আর পার্ক স্ট্রিট? মুহূর্তের জন্য যেন তখন থমকে গিয়েছে। আশেপাশের পথ চলতি মানুষেরা খানিক বিস্ময় মেশানো দৃষ্টিতে দেখছেন কবীরের সুমনোচিত কীর্তি। এক শিল্পীর প্রতি আরেক শিল্পীর সম্মান, ভালবাসা। হোক না সে পথশিল্পী, হোক না তাঁকে প্রথমবারের জন্য দেখা, হোক না তা অল্প সময়ের জন্য। বসন্ত সত্যিই এসে গিয়েছে যে।  

&t=1s


গোটা ঘটনাটা সমাজমাধ্যমের পাতায় পোস্ট করেছেন মনীষা দাশগুপ্ত নামে এক নেটিজেন। তাঁর সঙ্গে পোস্টে লিখেছেন, "রবিবার দুপুরে পার্ক স্ট্রিট যেদিন সত্যিই জমকালো আর কাগজে সত্যিই হেডিং...ভদ্রলোকের নাম রাজ তারা। থাকেন মেটিয়াবুরুজে। ওঁর সঙ্গে দেখা পার্ক স্ট্রিট টুং ফং রেস্টুরেন্টের সামনে। বাকিটা ভিডিওয়।" 

কখনও কখনও খবর হয় না শব্দে। হয় মুহূর্তে। আর পার্ক স্ট্রিটের সেই রবিবার ঠিক তেমনই এক মুহূর্ত উপহার দিল।