অসম্ভব স্ট্রাগল করতে হয়েছে। তবুও বলব অনেকের তুলনায় আমার সফরটা সহজ ছিল। 'রাপ্পা রায়' না করতে পারায় আমি কৃতজ্ঞ। 'মন মানে না'-এর হাত ধরে ফের চর্চায় সৌম্য মুখোপাধ্যায়। প্রেম থেকে কাজ নিয়ে অকপট অভিনেতা। শুনলেন শুভস্মিতা কাঞ্জি।
বলিউড থেকে টলিউডে লাভ স্টোরির ছড়াছড়ি, 'মন মানে না' কোথায় আলাদা?
সৌম্য: প্রতিটি লাভ স্টোরির মূল অনুভূতির জায়গাটা কোথাও গিয়ে একই হয়। সেটা বছরের পর বছর ধরে হয়ে আসা যে কোনও ভালবাসার গল্প দেখলেই দেখা যাবে, মোদ্দাকথাটা এক। তার মধ্যে না আছে কোনও টুইস্ট, না আছে থ্রিলার ইলিমেন্ট। যে জিনিসটা আলাদা বলে আমার মনে হয়েছে, সেটা হল এটা একটা খুব ব্যক্তিগত গল্প। রাহুলদা (পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায়) এবং অরিত্র (সেনগুপ্ত), এঁরা অনেকদিন ধরে গল্পটাকে তৈরি করেছেন। সেখানে ব্যক্তিগত আঙ্গিকটাই ছবিটাকে আলাদা করেছে বাকি প্রেমের গল্প থেকে। 'সাইয়ারা', 'তেরে ইশক ম্যায়', বা বিভিন্ন ধরনের লাভ স্টোরি যা আমরা দেখেছি, সে বিদেশে হোক বা এখানে, পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গি এক একটি ছবিকে আরেকটির থেকে আলাদা করে। এই ছবির কাস্টিংটাও খুব অন্য ধরনের করা হয়েছে, সেটা বাকি ছবিগুলোর থেকে এটাকে আলাদা করেছে। কিন্তু প্রাথমিকভাবে এটা রাহুল মুখোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প যা অন্যান্য প্রেমের গল্পের থেকে আলাদা করেছে।
আপনার চরিত্রটা কী?
সৌম্য: আমার চরিত্রের নাম রণজয় রায়চৌধুরী, একটা রোবটিক্স কোম্পানি চালায়। অনেক স্ট্রাগলের মধ্যে দিয়ে এই কোম্পানি তৈরি করেছে। নিজেকে নিজে তৈরি করেছে। আদর্শ রোম্যান্টিক মানুষ, যেটাকে জেন জি 'গ্রিন ফরেস্ট' বলে। যদিও আমি, সৌম্য এই ধরনের ট্যাগগুলোয় বিশ্বাস করি না। চরিত্রে একাধিক লেয়ার্স আছে অবশ্যই। বাকিটা মুক্তি পেলে দর্শক দেখতে পাবে। তবে হ্যাঁ, এতদিন আমি যে ধরনের চরিত্র করে এসেছি, এটা তার থেকে একদম আলাদা। 'প্রেম টেম'-এর 'পাবলো', 'চিনি'র 'স্যামি'র থেকে একদম আলাদা। আমাদের যে একটা ভাবনা আছে, রোম্যান্টিক হিরো মানেই মিষ্টি, চকলেটি বয়, সেটা এর মধ্যে নেই। হি ইজ এ ম্যান। ওর জীবন ওকে এটা বানিয়েছে। ওর কাছে ওই প্রেম করার সময়টা ছিল না। কেন ছিল না, সেটা সিনেমা দেখলে বুঝতে পারবেন। আমায় যখন রাহুলদা চরিত্রটা ব্রিফ করেছিল, বলেছিল, 'এই ছেলেটা বিয়ার বা শ্যাম্পেন না। হুইস্কি অন দ্য রক্স। যত ধীরে সেটাকে পান করবে, তত বেশি নেশা হবে।'
'মন মানে না'-এ ত্রিকোণ প্রেম আছে, নিজে কখনও এমন সম্পর্কে জড়িয়েছ?
সৌম্য: না। আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি যে তিনজন মানেই ভিড়। তার জন্য আমি যদি দায়ী হয়ে থাকি, আমি সরে এসেছি। আর যদি অন্য কেউ দায়ী হয়ে থাকে সে সরে গেছে। আমি এটা একেবারেই বিশ্বাস করি না। ছবিতেই যে 'ত্রিকোণ ত্রিকোণ' বলা হচ্ছে, সেটা ছবিটা দেখলে আসল ব্যাপারটা বোঝা যাবে।
বর্তমানে সৌম্যর রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস কি? সিঙ্গল নাকি মিঙ্গল?
সৌম্য: ভেরি ভেরি সিঙ্গল। এবং, আমার কাজের সঙ্গে একটা টক্সিক সম্পর্কে রয়েছি। তবে হ্যাঁ, রেডি টু মিঙ্গল। প্রেম করতে কার না ভাল লাগে। (হাসি)

সরস্বতী পুজোর প্রেম নাকি ভ্যালেন্টাইন্স ডে?
সৌম্য: সরস্বতী পুজো। আমার কাছে ভ্যালেন্টাইন্স ডে মানে আর্চিসের দোকান-টোকান ছিল, কার্ড...। ব্যক্তিগত জীবনেও এই দিনটার সুন্দর সুন্দর স্মৃতি আছে। কিন্তু দিনশেষে তো সে-ই বাঙালি। সরস্বতী পুজোর দিন আমি পাঞ্জাবি এবং তিনি যখন শাড়ি পরে আমার সঙ্গে বেরোচ্ছেন, সেই অনুভূতিটা আমার মনে হয় কখনই ভ্যালেন্টাইন্স ডের সঙ্গে ম্যাচ করতে পারবে না। এই যে কিস ডে, চকলেট ডে, ইত্যাদি গোটা সপ্তাহ ধরে চলে সেটা খুব বোকা বোকা লাগে। জানি না, বাকিদের কাছে কী। তবে, সরস্বতী পুজোর মধ্যে একটা সারল্য আছে। আমার স্কুল, ডন বস্কোতে পুজো হতো না। বরং স্কুল থেকেছে কখনও কখনও। ফলে এই জিনিসটা আমি এক্সপিরিয়েন্স করেছি যখন আমি কলেজে উঠেছি। সেই যে স্বাধীনতাটা পেয়েছিলাম, সেটার একটা আলাদা ভাল লাগা ছিল। আমি লাল পাঞ্জাবি পরে আর তিনি হলুদ শাড়ি পরে ডেটে যাচ্ছি, সেটার কোনও তুলনাই হয় না, যত ভ্যালেন্টাইন্স ডে আসুক না কেন।
প্রেমিকার জন্য কখনও দুঃসাহসিক কিছু করেছেন?
সৌম্য: (হেসে ফেলে) করেছি। কিন্তু সেটা বলা যাবে না। সেটা এতটাই দুঃসাহসিক যে...। বরং একটা মিষ্টি অভিজ্ঞতা বলি। একবার আমার প্রেমিকার জন্মদিনের দিন তার জন্য একটা আস্ত আইস্ক্রিম ট্রাক নিয়ে এসেছিলাম। ২০-২৫ টা ফ্লেভর ছিল সেখানে। তারই আগের জন্মদিনে আমার যাবতীয় সোর্স কাজে লাগিয়ে ঘোড়ার গাড়ি এনেছিলাম। তার পছন্দের গান চালিয়ে উইশ করেছিলাম। বাইপাসে ঘোড়ার গাড়িতে তার জন্মদিনে মধ্যরাতে ঘুরেছি। আর অদ্ভুতভাবে এই গোটা ব্যবস্থাটা আমার যে বন্ধু করে দিয়েছিল তারা যে প্লেলিস্ট বানিয়ে এনেছিল, সেখানকার প্রতিটি গান আমাদের দু'জনের খুব পছন্দের ছিল।
তার মানে সৌম্য বেজায় রোম্যান্টিক, তাই তো?
সৌম্য: হ্যাঁ, হ্যাঁ। ছিলাম, একটা সময়।
আজকালকার যুগে সিচুয়েশনশিপ-ন্যানোশিপের মাঝে ভালবাসা আছে?
সৌম্য: একেবারেই আছে। হিয়ার থেকে শুনলাম 'বেঞ্চিং' বলেও একটা বিষয় আছে। আমি জানি না এত শব্দ আছে বলে। কিন্তু আমার মনে হয় ভালবাসা একই রয়ে গিয়েছে। অনেকের মধ্যে একটা ব্যাপার থাকে যে আজকালকার ছেলে মেয়েরা ভালবাসায় বিশ্বাস করে না। সিচুয়েশনশিপ, এটা-ওটা চলে এসেছে। আমাদের প্রজন্ম অনেক বেশি ম্যাচিওর। আমরা ভালবাসাকে তো ভাল রাখছিই। তাছাড়া আমরা জিনিসটাকে খুব ম্যাচিওর ভাবে দেখতে শিখেছি। আমাদের পরের প্রজন্মও সেটাকে ভীষণ ম্যাচিওর ভাবেই দেখে। সেটাকে কোনও প্রিটেন্ড করা বা মেকি ব্যাপার নেই। হ্যাঁ হয়তো ভালবাসা প্রকাশ করার পদ্ধতি বদলে গিয়েছে। আমরা চিঠি লিখতাম, মিসড কল দিতাম। এখন হোয়াটসঅ্যাপে স্টেটাস দেয়, স্টোরিতে মেনশন করে বা রিল আদানপ্রদান চলে। ধরন বদলালেও, ভালবাসা এক আছে।

হিয়া-ঋত্বিকের সঙ্গে কতটা ভাব হল?
সৌম্য: হিয়ার সঙ্গে তো সাংঘাতিক বন্ধুত্ব জমেছে। আমরা প্রচণ্ড ক্লোজ হয়ে গিয়েছি। প্রচণ্ড ঝগড়াও করেছি। আমরা অর্ধেক টাইম ঝগড়া করেছি। অর্ধেক টাইম গভীর আলোচনা করেছি। আমরা একে অন্যের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনেক কিছু জানি। তবে, আমাদের বন্ধুত্বের শুরুটা খুব অদ্ভুত ভাবে হয়েছিল। ও বাইকে চড়তে ভয় পায়। শুটিংয়ের অনেক আগে থেকে ও আমায় বারবার বলছিল যে এটা আমি তোমার সঙ্গে প্র্যাকটিস করতে চাই। আমি ওকে বলেছিলাম, যে আমি তো বাইক চালাতে পারি, খুবই ভাল চালাই। তাও ও বারবার বলছিল। তো আমি তারপর একদিন আমাদের শুটিংয়ে যে বাইক দেয় তার থেকে আমি বাইক নিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম ১০-১৫ মিনিট চালিয়ে ওকে একটু কমফোর্টেবল করে দেব। প্রোডাকশন থেকেও বলেছিল, যে 'হ্যাঁ ওকে কমফোর্টেবল করিয়ে দাও, যাতে ওর পাহাড়ে চড়তে অসুবিধা না হয়।' আমরা সেদিন ১০-১৫ মিনিটের কথা ভেবে বেরিয়ে দেড় ঘণ্টা ঘুরেছিলাম। যখন ফেরত এসেছি যে বাইক দিয়েছিল সে ভাবছে যে কীসের ফোবিয়া? এরা তো নিজেরা ঘুরতে গিয়েছিল। সে তো একদম অবাক। আবার আমরাই তাকে বলি আমাদের ছবি তুলে দেওয়ার জন্য। সেদিনের পর থেকে লোকটা আমার আর ফোন ধরেনি। আর হৃতিকের সঙ্গে আমার শুটিংয়ের এক-দু'দিন আগে একটা ওয়ার্কশপ হয়েছিল সেখানে আলাপ হয়। ভীষণ গুণী মানুষ। ক্যামেরার পিছনে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে, একটা নাচের দলের সঙ্গে যুক্ত, ফলে ওর মধ্যে একটা পরিচালক সত্ত্বা আছে, সেটা এক্সপ্লোর করা উচিত। এটা ওকেও বলেছি। অভিনয় তো আমরা দেখেছি, তাছাড়াও ও সবাইকে সুন্দর গাইড করতে পারে। শিল্পের উপর ওর দখল দারুণ। সেটে আমরা অনেক ইয়ার্কি, ফাজলামি করেছিলাম। আরেকজনের ব্যাপারে আমি উল্লেখ করতে চাই,....
হ্যাঁ, বলুন।
সৌম্য: খরাজ মুখার্জি স্যার। এই প্রথম আমি ওঁর সঙ্গে কাজ করলাম। উনি সেটে আদতেই আমার বাবার মতো ছিলেন। ভীষণ গাইড করেছেন। সান বাংলার একটি রিয়েলিটি শোতে এসে উনি বলেছিলেন যে আমার অভিনয়ের প্রেমে পড়ে গিয়েছেন। আমি সেটা শুনে রাহুলদাকে বলেছিলাম আমার কোনও পুরস্কার চাই না, পেয়ে গিয়েছি আমার পুরস্কার। দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা ওঁর সঙ্গে কাজ করা।
মন না মানলে কী করেন সৌম্য?
সৌম্য: আগে অরিজিৎ সিংয়ের গান শুনত। এখন তো উনি বলেছেন যে আর প্লেব্যাক করবেন না। তাই চিন্তায় আছি। আর হ্যাঁ, আমি ঘুরতে যাই। আমি ভীষণ ভালবাসি ঘুরতে। বিশেষ করে পাহাড়ে। আমার বাড়ির কাছে কিছু ক্যাফে আছে যেখানে কেউ যায় না, আমি একা একা সেখানে যাই। আমার বিশেষ ভিড়ভাট্টা ভাল লাগে না। নির্দিষ্ট ওই এক-দুটো ক্যাফেতে যাই, গান শুনি, কফি খাই।
কাকে সম্প্রতি মন মানে না বলেছেন?
সৌম্য: (একটু ভেবে) রাহুলদাকে। কারণ আমাদের আস্তে আস্তে প্রচার শেষ হচ্ছিল। হয়েও এসেছে প্রায়। তাই বলেছিলাম যে মন মানছে না এই টিমটাকে ছেড়ে যেতে।
আজকাল তো বড়পর্দা থেকে ছোটপর্দায় ফেরা ট্রেন্ড, আপনার এমন পরিকল্পনা আছে?
সৌম্য: এই মুহূর্তে নেই। তবে হয়তো কখনও অবশ্যই ফিরব। আমার কাজের অভিজ্ঞতা খুবই ভাল ছিল ছোটপর্দায়। লীনা ম্যাম (লীনা গঙ্গোপাধ্যায়), শৈবাল স্যারের (শৈবাল গঙ্গোপাধ্যায়) হাউজে কাজ করেছিলাম, সেটা একটা দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা। আমার সহঅভিনেতা হিসেবে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় ম্যাম, বিশ্বনাথদা (বিশ্বনাথ বসু), চন্দনদা (চন্দন সেন), সন্তু জেঠু (সন্তু মুখোপাধ্যায়), ছিলেন। এক ঝাঁক তারকার মধ্যে গিয়ে আমার প্রথম ছোটপর্দায় কাজ। অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করেছি, এটা সবথেকে বড় পাওনা ছিল। অনেক কিছু শিখেছিলাম। ছোটপর্দার যে জনপ্রিয়তা, যে রিচ আমায় এই জায়গা দিয়েছে সেট অস্বীকার করা যাবে না। কখন ওখানে কাজ করতাম সাউথ আফ্রিকা, বাংলাদেশ, ত্রিপুরা, ইত্যাদির থেকে মন্তব্য আসত। বহু মানুষ দেখেন। সেটার জন্যই হয়তো ফেরত যাব। আমরা সবাই চাই আমাদের কাজ বৃহত্তর মানুষের কাছে পৌঁছে যাক। টিভি যেখানে আছে, সিনেমা ওটিটি সেখানে পৌঁছে পারছে না।
কোনও গডফাদার ছাড়া এই জায়গা তৈরি করেছেন। কতটা স্ট্রাগল করতে হয়েছে?
সৌম্য: সাংঘাতিক স্ট্রাগল ফেস করতে হয়েছে। আমি জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে শুরু করেছিলাম। প্রথম কাজ এখনও মনে আছে। একজন কাস্টিং কো-অর্ডিনটর আমাদের বলেছিলেন একটা ছবি হচ্ছে, তাতে তোমাদের লাগবে। ৫০০ টাকা পাবে। আমি এটা ভেবে গিয়েছিলাম, আমার ওখানে গিয়ে কিছু করার আছে। বলা হয়েছিল আমায় সাংবাদিকের চরিত্র করতে হবে। টেকনিশিয়ান স্টুডিওর সামনে থেকে গাড়িতে চাপাচাপি করে অনেকে মিলে গিয়েছিলাম। শটটাও দিয়েছিলাম ভাল করে। ৭-৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করে দ্বিতীয় শট দিয়েছিলাম। কিন্তু যখন বড়পর্দায় ছবিটা দেখতে যাই, দেখি আমি আউট অফ ফোকাসে। তখন বুঝতে পারি 'ক্রাউড আর্টিস্ট' মানে কী। সেই থেকে আমি ঠিক করি কাউকে জুনিয়র আর্টিস্ট বলব না, 'টার্শিয়ারি অভিনেতা' বলব। তবে হ্যাঁ, অভিজ্ঞতা খুবই ভাল ছিল। সেই অভিজ্ঞতা ভাল না হলে হয়তো আজ অভিনেতা হতাম না। তবে এটাও ঠিক, খুব স্ট্রাগল ফেস করতে হয়েছে। প্রচুর দরজা বন্ধ থাকে। গডফাদার না থাকলে সেই দরজাগুলো খোলানো খুব কঠিন। ধাক্কা দিয়ে দিয়ে....। এমনও লোক দেখেছি, যাঁদের ৫০ বছর বয়স, অভিনেতা হিসেবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবেন, অভিনেতা হিসেবে হাল ছেড়ে দিতে বসেছেন, সেখানে আমি তো কোন ছাড়! এমন অনেক অভিনেতা, অভিনেত্রীদের চিনি যাঁরা থিয়েটার করেন, দুর্দান্ত অভিনেতা, অথচ এখনও তাঁদের সেই প্রাপ্য সম্মান পাননি। সেটার তুলনায় হয়তো আমার স্ট্রাগল কম। এসভিএফ আমায় সেখানে একটা ছবি, একটা সিরিজ দিয়েছে। কিন্তু কখনও কখনও মন ভেঙে যায়, লড়াই করার ইচ্ছে চলে যায়। এছাড়া আরও একটা সমস্যা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি পোস্ট করলে 'ওভারএক্সপোজড হয়ে গেছ' বলে বলা হয়। আর কম পোস্ট করলে ফলোয়ার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে, আমি আমার প্রথম ছবি, ওয়েব সিরিজ সম্পূর্ণ অডিশন দিয়েই পেয়েছিলাম। ওয়েব সিরিজের সময় আমায় একটা নাটক এবং একটি বিজ্ঞাপন থেকে স্পট করা হয়েছিল। অনীক দত্তর সঙ্গেও যখন কাজ করেছি, তখন তিনিও আমায় একটা বিজ্ঞাপন থেকে দেখে, সেই বিজ্ঞাপনের পরিচালকের থেকে নম্বর নিয়ে যোগাযোগ করেছিলেন। এইটা ছিল ৫ বছর আগের ছবি। এখনও প্রাথমিক বিষয়টা তাই। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে, মূলত সেকেন্ডারি কোনও চরিত্রের সময় সোশ্যাল মিডিয়ার ফলোয়ার, ইত্যাদি দেখা হয়, যেটা সত্যিই ভীষণ রকম সমস্যাজনক। যদিও আমি নিশ্চিত ভাবে জানি না, আমার ধারণা এটা। সমস্যাটা আরও এক জায়গায়, সে হয়তো প্রচুর কিছু পোস্ট করছে, ফলোয়ার বাড়ছে, তারপর তাকে বলা হচ্ছে, 'ভাই তুমি ওভার এক্সপোজড।' তবে হ্যাঁ, আমি ডিপ্লোম্যাটিক হওয়ার জন্য বলছি না, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি কোনও বড় পরিচালক, প্রযোজক, লেখক কেউ কিন্তু এভাবে কাজ করেন না। এটাও সত্যি, কলকাতা, বম্বে সর্বত্রর জন্য সত্যি। ইন্ডিপেন্ডেন্ট কাজের ক্ষেত্রে মূলত এটা দেখা যাচ্ছে।

ইন্ডাস্ট্রিতে কোনও বন্ধু হয়েছে?
সৌম্য: হিয়ার সঙ্গে হয়েছে। ওর সঙ্গে অনেক কিছু ভাগ করি। তবে হ্যাঁ, ইন্ডাস্ট্রিতে যতই বন্ধুত্ব হোক, কলেজ বা স্কুলের বন্ধুত্বের মতো কোনও বন্ধুত্ব হবে না। আমি খুব ভাগ্যবান যে আমার কিছু স্কুলের বন্ধু এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছে। সোহম, তানিকা, অনুষা। ক্লাস ৬ থেকে সোহমকে চিনি। আমি আর ও একই স্কুলে পড়তাম। তানিকা, অনুষা আমার নাটক করার সময়ের বন্ধু। এছাড়াও ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর বন্ধু আছে। যেমন বললাম খরাজদার থেকে খুব সাহায্য পেয়েছি। তারপর 'মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে' শুটিং করছি যখন কোভিড লকডাউন চলছে তখন। বিদেশে অনির্বাণ ভট্টাচার্যর সঙ্গে একমাস ছিলাম। উনি তো তারকা, কিন্তু সেটা একটা বারের জন্যও মনে করাননি। উল্টে বড় দাদার মতো গাইড করেছেন। এমনকী আমি যেদিন ফিরছি, একা ফিরছিলাম। দিল্লিতে আমার একটা ছোট্ট লেওভার ছিল, তখন উনি আমায় মেসেজ করে জিজ্ঞেস করেছেন নেমেছি কিনা বা 'সাবধানে যেও' লিখেছেন। এগুলোও আমি দেখেছি। এগুলো আমার কাছে অনেকখানি। কলেজ বা স্কুলের বন্ধুত্বের থেকে কিছু অংশে কম না।
বলিউড না টলিউড, কোথায় কাজ করার অভিজ্ঞতা ভাল? ফারাক কোথায়?
সৌম্য: দু'জায়গাতেই কাজ করার একই রকম অভিজ্ঞতা। ওখানে আমায় কাস্ট করেছিল এখানকার একটা কাজ দেখেই। 'প্রেম টেম' দেখেই নিয়েছিল, যে কারণে দু'টো চরিত্রের লুক অনেকটা এক ছিল। একটাই জায়গায় ফারাক, টাকা। ওদের অনেক বেশি টাকা। এমনকী, একটা কাজ করেছিলাম সম্পূর্ণ ইন্ডিপেন্ডেন্ট, সেখানেও যে পরিমাণে খরচ বা ইনভেস্টমেন্ট থাকে সেটা আমরা কল্পনাও করতে পারব না। একটা স্বাধীন কাজের বাজেট হয়তো আমাদের দু'টো ছবির বাজেট।
'রাপ্পা রায়' নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল....
সৌম্য: আমার কোনও বক্তব্য নেই। ওটা থেকে আমি সরে এসেছি।
মন খারাপ হয়নি?
সৌম্য: আসলে না। সত্যি বলছি। কারণ আমি নিজে কোথাও গিয়ে কাজটা করতে চাইনি। আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ এবং খুশি যে ফাইনালি ছবিটা দু'তরফে কাজ করেনি। ওই সময় আমি অন্য দু'টো ছবির প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিলাম। আশা করছি, আরেকটা ছবির ব্যাপারেও আমি শীঘ্রই দর্শকদের বলতে পারব।
আগামীতে কী কী কাজ আসছে?
সৌম্য: প্রথমত, আমি প্রচণ্ড কৃতজ্ঞ যে উইন্ডোজের একটা কাজ করলাম, 'ফুলপিসি এবং এডওয়ার্ড' শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং নন্দিতা ম্যামের পরিচালনায়। শোলাঙ্কির সঙ্গে একটা ছবি করলাম 'টেক কেয়ার ভালবাসা' বলে। ওটাও একটা ভরপুর প্রেমের ছবি। ওখানে আবার আমায় কিউট, মিষ্টি ছেলের চরিত্রে দেখা যাবে। ওর সঙ্গে কাজ করে আমি খুব মজা পেয়েছি। এটা সৌম্যজিত আদকের ছবি। এটা ছাড়া নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের 'রেকর্ড' গল্প অবলম্বনে একটা ছবিতে কাজ করলাম। সেখানেও শোলাঙ্কির সঙ্গে কাজ করেছি। অন্যরকমের একটা গল্প। এছাড়া 'কফি হাউজের সেই আড্ডা'টা বলে একটা ছবি করলাম, আইকনিক গানটার উপর বেস করে ছবিটা তৈরি করা। যার সঙ্গে 'পারিয়া' করেছিলাম মানে তথাগত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে অনেক বছর আগে একটা ছবি করেছিলাম, 'গোপনে মদ ছাড়ান' বলে। সেখানে আমার সঙ্গে ঋষভদা, সোহম আছে। সেটার ব্যাপারে সবাই জানে, ওটা একটা ওয়ান শট ফিল্ম। রিলিজের জন্য আটকে ছিল, সেই ছবিটাও শুনছি মুক্তি পাবে। খুবই উত্তেজিত সেই ছবিতে সকলকে দেখানোর জন্য। ব্লটিং পেপার প্রযোজনার সঙ্গে মৈনাক ভৌমিকের পরিচালনায় 'মেড ইন কলকাতা'য় কাজ করেছি। ওটারও শুটিং হয়ে গিয়েছে।
