‘কমরেড’ হতে নারাজ সিদ্ধান্ত
বেশ কিছুদিন ধরেই চর্চায় সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী ও প্রতিভা রান্তা। শোনা যাচ্ছিল, বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রশ্মিকা মন্দানা অভিনীত তেলুগু ছবি ‘ডিয়ার কমরেড’-এর হিন্দি রিমেকে নাকি মুখ্যভূমিকায় দেখা যেতে পারে সিদ্ধান্ত ও লাপতা লেডিজ -এর এই অভিনেত্রীকে। স্বাভাবিকভাবেই এই সম্ভাব্য নতুন জুটিকে ঘিরে উত্তেজিত হয়ে পড়েন অনুরাগীরা। তবে সমস্ত জল্পনায় দ্রুতই ইতি টানলেন সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী নিজেই।

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে অভিনেতা স্পষ্ট করে দেন, এই ছবির সঙ্গে তিনি কোনওভাবেই যুক্ত নন। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে আর কোনও রিমেক ছবির অংশ হতে চান না বলেও জানিয়ে দেন তিনি।

সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে লেখেন লেখেন, “পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই খবরটি সত্যি নয়। আমি এই ছবির অংশ নই। এখন থেকে আর কোনও রিমেক করব না। যদিও মূল ছবিটি এবং সেখানে অভিনয় করা শিল্পীদের আমি খুব পছন্দ করি, তাঁদের প্রতি আমার সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা ও ভালবাসা রয়েছে।” একইসঙ্গে তিনি যোগ করেন, প্রতিভা রান্তার সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ তাঁর রয়েছে, তবে সেটা কোনও মৌলিক গল্পে। সিদ্ধান্তের কথায়, “অত্যন্ত প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী প্রতিভা রান্তার সঙ্গে কোনও অরিজিনাল প্রজেক্টে কাজ করতে আমি অবশ্যই চাই।”
সুগন্ধে ভরপুর এক জন্মদিন
৫২-তে পা দিয়েও একেবারে নিজের মতো করেই জন্মদিন উদ্যাপন করলেন টুইঙ্কল খান্না। কেক, মোমবাতি বা পার্টির চেনা ছক ভেঙে এবার তাঁর জন্মদিন ছিল গন্ধে গন্ধে স্মৃতি খোঁজা। সুগন্ধির মধ্যেই লুকিয়ে রইল তাঁর এবারের জন্মদিন উদ্যাপন। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে জন্মদিনের সেই বিশেষ মুহূর্তগুলির ঝলক ভাগ করে নিয়েছেন টুইঙ্কল। ভিডিও কোলাজে দেখা যাচ্ছে, পরিবারের সঙ্গে তিনি পৌঁছেছেন মরোক্কোর মুসে দু পার্ফ্যুম-এ—যেখানে মরক্কোর সুগন্ধির ইতিহাস, অ্যারোমাথেরাপির জগৎ এবং নিজের হাতে পার্সোনালাইজড পারফিউম বানানোর সুযোগ রয়েছে। বিশাল এক ঘরে সারি সারি কাঁচের বোতলে সাজানো বিভিন্ন সুগন্ধি। সেই ঘ্রাণের ভিড়েই বসে রয়েছেন টুইঙ্কল, পাশে স্বামী অক্ষয় কুমার। কখনও গন্ধ শুঁকছেন, কখনও আবার নানা এসেন্স মিশিয়ে তৈরি করছেন নিজের জন্য একেবারে আলাদা পারফিউম।

পোস্টের ক্যাপশনে টুইঙ্কল লিখেছেন, “এবার কেকের মোমবাতি নেভানোর বদলে জন্মদিনটা কাটল নাক দিয়ে অনেক কিছু অনুভব করে। পরিবার আমাকে নিয়ে গেল মুসে দু পার্ফ্যুম-এ। সেখানে ভেটিভার, ক্যারামেল, উড, অ্যাম্বারের মতো ৫০টিরও বেশি সুগন্ধির কাঁচের বোতলের সঙ্গে আমাদের পরিচয় হল।”
সেই অভিজ্ঞতা শুধু দেখা বা শেখাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। টুইঙ্কল আরও জানান, পরিবারের প্রত্যেকেই নিজের পছন্দের ঘ্রাণ মিলিয়ে একটি করে আলাদা পারফিউম বানিয়েছেন। তাঁর তৈরি সুগন্ধির নাম রেখেছেন ‘বার্থডে নোট’। টুইঙ্কলের কথায়, “গন্ধের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে স্মৃতি। এই সুগন্ধিটা আমাকে বারবার ফিরিয়ে নিয়ে যাবে বিমানবন্দরে, পুরনো সোয়েটারের ভাঁজে, আর সেই সব দিনে যখন মারাকেশে কাটানো আমার জন্মদিনটা মনে করতে চাইব।”
থামছেই না ‘ধুরন্ধর’-গর্জন
মুক্তির এক মাস পেরিয়েও বক্স অফিসে একছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে রণবীর সিংয়ের ‘ধুরন্ধর’। পঞ্চম সপ্তাহে পা দিয়েও আদিত্য ধর পরিচালিত এই অ্যাকশন স্পাই থ্রিলার ভাঙছে একের পর এক রেকর্ড। শুধু তাই নয়, বিশ্বজুড়ে হিন্দি ছবির ইতিহাসে সর্বাধিক আয়কারী ছবির তালিকায় এখন শীর্ষে উঠে এসেছে ‘ধুরন্ধর’। স্যাকনিল্কের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, ছবিটি পঞ্চম শনিবারেও নজরকাড়া যায় করেছে। ৩০তম দিনে বক্স অফিসে ১১.৭৫ কোটি টাকা আয় করেছে ‘ধুরন্ধর’। এর ফলে ভারতের ঘরোয়া বাজারে ছবিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৭৫৯.৫০ কোটি টাকা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মুক্তির পর থেকে টানা ২৮ দিন ধরে দেশের বক্স অফিসে প্রতিদিন ১০ কোটি টাকার বেশি আয় করার বিরল নজির গড়েছিল ‘ধুরন্ধর’। সেই ধারাবাহিকতা ভেঙেছিল শুক্রবার, যখন ছবির আয় নেমে আসে ৮.৭৫ কোটি টাকাতে। তবে সপ্তাহান্তের শুরুতেই ফের ডাবল ডিজিটে ফিরল রণবীর সিংয়ের এই ছবি, যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, দর্শকের আগ্রহ এখনও একচুলও কমেনি। অ্যাকশন, থ্রিল ও জিও-পলিটিক্যাল প্রেক্ষাপটের ককটেলে তৈরি ‘ধুরন্ধর’-এ রণবীর সিংয়ের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন সঞ্জয় দত্ত, অর্জুন রামপাল, রাকেশ বেদি ও মানব গোহিল। ছবির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে এক ভারতীয় গুপ্তচরকে কেন্দ্র করে, যাকে পাকিস্তানের লিয়ারিতে পাঠানো হয় একটি শক্তিশালী বালোচ গ্যাংয়ে অনুপ্রবেশ করার জন্য।
ছবিতে রণবীর সিং অভিনয় করেছেন ভারতীয় গুপ্তচর হামজা আলি মাজারি ওরফে জসকিরত সিং রাঙ্গি চরিত্রে। তাঁর বিপরীতে গ্যাং লিডার রহমান ডাকাত–এর ভূমিকায় দেখা গেছে অক্ষয় খান্নাকে, যাঁর অভিনয় ইতিমধ্যেই দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, পঞ্চম সপ্তাহেও যে গতিতে ‘ধুরন্ধর’ বক্স অফিসে দাপট দেখাচ্ছে, তাতে করে এই ছবির সামনে আরও একাধিক রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত রণবীর সিংয়ের এই স্পাই থ্রিলার কোথায় গিয়ে থামায় তার বক্স অফিস যাত্রা।
