তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় চমক। গতবারের তুলনায় তারকা প্রার্থীর সংখ্যা চোখে পড়ার মতো কম। কে কোথায় প্রার্থী হলেন দেখে নিন।
ব্যারাকপুরে আবারও প্রার্থী হলেন রাজ চক্রবর্তী। রাজারহাটেও অদিতি মুন্সি থাকলেন বিধায়ক হওয়ার দৌড়ে। তবে উত্তরপাড়া হাতছাড়া হল কাঞ্চন মল্লিকের হাত থেকে।
বরাহনগরে সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধায়ক হওয়ার দৌড়ে আবারও সামিল থাকলেন। করিমপুর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হলেন সোহম চক্রবর্তী। ভাঙ্গর থেকে লাভলি মৈত্র প্রার্থী হলেন। চন্দননগর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে টিকিট পেলেন গায়ক ইন্দ্রনীল সেন।
জল্পনা ছিল এই বার পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় নাকি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেবেন এবং প্রার্থী হবেন, কিন্তু সেটা যে কেবলই রটনা সেটা এদিন স্পষ্ট হয়ে গেল। ইমন চক্রবর্তীও প্রার্থী হলেন না। এমনকী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচার ভিডিওতে অঙ্কুশ হাজরাকে দেখা যাওয়ার পর তাঁরও নাম জল্পনায় ঘোরাফেরা করতে থাকে। কিন্তু তিনিও প্রার্থী হলেন না। সদ্য তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া পার্নো মিত্রও টিকিট পেলেন না।
মঙ্গলবার সকাল থেকে একেরপর এক বিভিন্ন জেলায় যোগদান কর্মসূচি সংগঠিত করেছেন ঘাসফুল শিবির। সকালে পার্থ ভৌমিক, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে যে যোগদান কর্মসূচি শুরু হয়, সেখানেই দুপুরের দিকে হঠাৎই খবর আসে, তৃণমূল সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি পবিত্র কম তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। ২৯৪ কেন্দ্রের প্রার্থী ঘোষণা করে দিল তৃণমূল। অভিষেক ঘোষণা করলেন, ভবানীপুর থেকে লড়বেন মমতা ব্যানার্জি। অর্থাৎ, ২০২১ সালে নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুরে ফের মুখোমুখি হতে চলেছেন শুভেন্দু-মমতা। তৃণমূল সুপ্রিমো এদিন বললেন, ভবানীপুর থেকে সবথেকে বেশি ভোট নিয়ে জিতব। মনে রাখবেন আমার কেন্দ্র শুধু ভবানীপুর নয়, ২৯৪ কেন্দ্রই আমি দেখব। ভবানীপুর সেটার নেতৃত্বে থাকবে।'
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ঢাকে কাঠি তো পড়েই গিয়েছে। মঙ্গলবার তৃণমূল প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করার আগেই ভবানীপুরের বিভিন্ন এলাকায় দেওয়ালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নামে দেওয়াল লিখন সেরে ফেললেন সেখানকার তৃণমূল কর্মীরা।
ইতিমধ্যেই এই কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতার নামে যেখানে দেওয়াল লিখন শুরু হয়ে গিয়েছে সেখানে পিছিয়ে থাকতে নারাজ তৃণমূল কর্মীরাও। এবারে পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল ও দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। ভোট গণনা ৪ মে। ইতিমধ্যে রাজ্যে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছে।
আরও বিপুল সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটের আগেই রাজ্যে চলে আসবে। পাশাপাশি, দ্রুতগতিতে চলছে এসআইআর প্রক্রিয়া। বিচারাধীন ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে সোমবার পর্যন্ত প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের ভাগ্যের নিস্পত্তি হয়েছে।
কমিশনের তরফ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিদিন এক থেকে দেড় লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের যাচাই প্রক্রিয়া চলছে। ফলে দ্রুত এই কাজ শেষ হবে। যদিও রাজ্যের দুই বিরোধী দল, সিপিআইএম এবং বিজেপি দাবি জানিয়ে রেখেছে, এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ না করা পর্যন্ত কোনওভাবেই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে না।
