রাজ এবং ডিকে-র ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’ সিরিজে শ্রীকান্ত তিওয়ারির ছায়াসঙ্গী ‘জে কে তলপড়ে’র চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিত। তিনি, শারিব হাসমি। পর্দার সেই মজার মানুষটি যে বাস্তবেও এক অদম্য লড়াইয়ের কাণ্ডারি, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। অভিনেতা হাসমি এবং তাঁর স্ত্রী নাসরিন হাসমির তিন দশকের দাম্পত্যের গল্প এখন নেটপাড়ার অনুপ্রেরণা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে উঠে এল নাসরিনের মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই এবং শারিভের অটল সাহচর্যের কথা।

 

২০১৮ সালে প্রথমবার মুখে ক্যানসার ধরা পড়ে নাসরিনের। এরপর একে একে পাঁচবার অস্ত্রোপচার হয়েছে তাঁর। কিন্তু লড়াই থামেনি। সাক্ষাৎকারে শারিব বলেন, “নাসরিন এখন পর্যন্ত পাঁচবার অস্ত্রোপচার করিয়েছে। পাঁচ বার ক্যানসার জয়ী হয়েছে সে। এবং এবার ষষ্ঠবারের মতো এটি শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ওর ক্যানসারটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক প্রকৃতির, তাই বারবার ফিরে ফিরে আসে। কিন্তু ও যেভাবে হাসিমুখে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে, তা আমাদের সবাইকে নতুন করে সাহস যোগায়।”

 

অসুস্থতার দিনগুলোতে শারিব যে কেবল একজন স্বামী নন, বরং একজন অতন্দ্র প্রহরীর মতো পাশে থেকেছেন, তা আবেগজড়িত কণ্ঠে শোনালেন নাসরিন। তিনি জানান, বড় তারকা হওয়ার পরেও শুটিংয়ের ফাঁকে বা কাজ সেরে সোজা হাসপাতালে ছুটে আসতেন শারিব। ডিসচার্জ হওয়ার আগে পর্যন্ত ব্যাগ গুছিয়ে হাসপাতালের কেবিনে বসেই কাটিয়ে দিতেন দিনের পর দিন। নাসরিনের কথায়, “ওর উপস্থিতিটাই আমাকে শান্তি দেয়। ও যে আমার জন্য আছে, এটাই আমার সবথেকে বড় শক্তি।”

 

 

শারিব এবং নাসরিনের সম্পর্কের শুরুটা সেই কিশোর বয়স থেকে। ২০০৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একে অপরের হাত ধরে আছেন এই জুটি। তাঁদের সংসারে রয়েছে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে।

 

শাহরুখ খানের ‘জব তক হ্যায় জান’ দিয়ে বড়পর্দায় পা রাখলেও, শারিব নজর কেড়েছিলেন ‘ফিল্মিস্তান’ ছবিতে। তবে ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’ সিরিজটি তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয়তা এনে দেয়। সম্প্রতি হুমা কুরেশির সঙ্গে ‘তরলা’ ছবিতে তরলা দালালের স্বামীর চরিত্রে তাঁর সাবলীল অভিনয় দর্শকমহলে দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়াও ‘জারা হাটকে জারা বাচকে’ ছবিতে একটি ছোট চরিত্রে দেখা গিয়েছে তাঁকে।

 

বাস্তব জীবনের এই ‘ফ্যামিলি ম্যান’ প্রমাণ করে দিলেন যে, পর্দার হিরো হওয়া সহজ, কিন্তু জীবনের কঠিন যুদ্ধে প্রিয়তমার হাতটা শক্ত করে ধরে রাখাই আসল বীরত্ব।