ওড়িশা–পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের তালসারি সমুদ্রসৈকতে শুটিং চলাকালীন জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তালসারি মেরিন পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, শুটিংয়ের জন্য নেওয়া হয়নি কোনও পুলিশি অনুমতি, এমনকী থানাকেও জানানো হয়নি! ২৯ মার্চ ‘ভোলে বাবা পার করে গা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে অভিনেতার। জানা গিয়েছে, ২৭ মার্চ থেকেই ওই সৈকতে শুটিং চলছিল।এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘ভোলে বাবা পার করে গা’ ধারাবাহিকের প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, চিত্রনাট্যে গভীর জলে নামার কোনো দৃশ্যই ছিল না। দুর্ঘটনার সময় তিনি নিজে সেটে উপস্থিত ছিলেন না, তাই ঠিক কী ঘটেছিল সে বিষয়ে বিস্তারিত বলা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। । উল্লেখ্য, লীনার প্রযোজিত অনেক ধারাবাহিকেই আগে দেখা গিয়েছে রাহুলকে। আজকাল ডট ইন-এর তরফে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়কে একাধিকবার ফোন করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
এহেন আবহে রবিবার সন্ধ্যা থেকেই তোলপাড় নেটমহল। শোকাচ্ছন্ন টলিপাড়া। সোমবার দুপুরে শোকপ্রকাশ করতে রাহুলের বাড়ির সামনে হাজির হয়ে জয় শ্রী রাম ধ্বনি তুলে বিতর্কে জড়ালেন বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী। বিজয়গড়ের বাড়ির সামনে পাপিয়া আসতেই ছড়াল উত্তেজনা। বাড়ির সামনে স্লোগান, পাপিয়ার সঙ্গে থাকা বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে তুমুল বচসা শুরু হয় স্থানীয়দের। শোকের আবহে এমন রাজনৈতিক স্লোগান ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। স্লোগান দেওয়াটা ভুল হয়েছে, এটা স্লোগান দেওয়ার জায়গা না, বলে ক্ষুব্ধ এক স্থানীয় ব্যাক্তি।
রাহুলের নিথর দেহ আসার অপেক্ষায় যখন পরিজনেরা কাতর, তখন বাড়ির সামনে এমন স্লোগানকে ‘অসংবেদনশীল’ বলে তোপ দাগেন স্থানীয়রা। এক ক্ষুব্ধ বাসিন্দা বলেন, “এটা স্লোগান দেওয়ার জায়গা নয়। শোকের দিনে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।” বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে স্থানীয়দের হাতাহাতি ও বচসায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাপিয়া অধিকারী শোকপ্রকাশ করতে এলেও স্লোগান-বিতর্ক সেই আবেগকে ম্লান করে দিয়েছে।
রাহুলের মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এখনও রয়েছে ধোঁয়াশা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন দাবি ঘুরলেও পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সমুদ্র থেকে উদ্ধার করার পর অভিনেতাকে দ্রুত দিঘা সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যা তালসারি থেকে প্রায় ১০–১২ কিলোমিটার দূরে। এরপর সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ১০ নাগাদ চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
চোখের সামনেই পুরো ঘটনাটা ঘটে রাহুলের ড্রাইভার বাবলুর। রাত পোহালেও মেনে নিতে পারছেন না তিনি। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে রাহুলের সারথী তিনি। আজকাল ডট ইন-কে তিনি বললেন, “শুটিংয়ের সময় নায়িকার হাত ধরে জলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সিন ছিল। দাদা তাই-ই করছিলেন। হঠাৎই জলের তোড়ে তলিয়ে যেতে থাকেন। টেকনিশিয়ানরা সবাই ছুটে যায় উদ্ধার করার জন্য। নায়িকাও পড়ে যান। দু'জনকেই উদ্ধার করা হয়। তখনও শরীরে প্রাণ ছিল। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটা জল খেয়ে ফেলেছিলেন দাদা। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ডাক্তার বলেন রাস্তাতেই নাকি সব শেষ হয়ে গিয়েছে।”রবিবার রাতে এ খবর পাওয়া মাত্রই শুটিং ছেড়ে দক্ষিণ কলকাতায় নিজেদের বাড়িতে পৌঁছন প্রিয়াঙ্কা সরকার। এরপর ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথম প্রতিক্রিয়া জানান। প্রিয়াঙ্কা লিখেছেন, “এই সময়টা আমাদের কাছে চরম শোক এবং গভীর হতাশার। দয়া করে আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করুন। একটি শিশু (সহজ), একজন মা এবং গোটা পরিবার এই অপূরণীয় ক্ষতি সামলানোর চেষ্টা করছে।” সংবাদমাধ্যমের কাছেও এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
&t=2069s
















