ভারত আজ তার সুরের সম্রাজ্ঞীকে শেষ বিদায় জানাচ্ছে। ৯২ বছর বয়সে চিরনিদ্রায় আচ্ছন্ন হওয়া আশা ভোঁসলের মরদেহ আজ সকালে তাঁর মুম্বইয়ের বাসভবনে নিয়ে আসা হয়। লতা মঙ্গেশকর, কিশোর কুমারদের সমসাময়িক এই শেষ প্রতিনিধিকে শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় জমিয়েছেন ক্রীড়া থেকে বিনোদন জগতের নক্ষত্ররা। পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তিরঙ্গায় মুড়িয়ে আজ বিকেল ৪টেয় শিবাজী পার্কে সম্পন্ন হবে তাঁর শেষকৃত্য।
সোমবার সকাল থেকেই আশা ভোঁসলের মুম্বইয়ের লোয়ার পারেলের বাসভবনে চাঁদের হাট। প্রিয় ‘আশা তাই’-কে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পৌঁছেছিলেন শচীন তেন্ডুলকর ও তাঁর স্ত্রী অঞ্জলি। ফুলে ঢাকা আশার মরদেহ ভেঙে পড়তে দেখা গেল আশার নাতনি জনাই ভোঁসলেকে। দেখামাত্রই তাঁকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে আসেন অভিনেত্রী তাবু। জনাইকে জড়িয়ে ধরে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। এছাড়া সঅস্কারজয়ী সুরকার এ.আর রহমান, কিংবদন্তি অভিনেত্রী আশা পারেখ-সহ ইন্ডাস্ট্রির বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা জানান।
VIDEO | Mumbai: Actor Tabu gets emotional as she arrives to pay tribute to legendary singer Asha Bhosle at her residence in Grande, Lower Parel. She hugs and consoles Zanai Bhosle, granddaughter of Asha Bhosle.
— Press Trust of India (@PTI_News)
(Full video available on PTI Videos - https://t.co/n147TvrpG7) pic.twitter.com/fdGrYRyvtnTweet by @PTI_News
সকাল থেকেই আশা তাই-এর কফিন সাদা লিলি ফুলে ঢাকা ছিল। ভারতের এই রত্নকে সম্মান জানাতে সেনা জওয়ানরা তাঁর মরদেহ জাতীয় পতাকায় মুড়িয়ে দেন। গান স্যালুটের মাধ্যমে দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় সম্মান। দুপুর ৩টে পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ও বিশিষ্ট জনদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পর পদযাত্রা করে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে দাদারের শিবাজী পার্ক শ্মশানে। সেখানেই সম্পন্ন হবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া।
#WATCH | Maharashtra: Mortal remains of legendary singer Asha Bhosle being wrapped in tricolour as people pay their last respects at her residence in Mumbai.
— ANI (@ANI)
She passed away at the age of 92 yesterday at Breach Candy Hospital in Mumbai. pic.twitter.com/tQWWIwRqkDTweet by @ANI
আশা ভোঁসলের প্রয়াণে উঠে আসছে তাঁর শেষ গানের কথা। ব্রিটিশ ব্যান্ড ‘গোরিলাজ’-এর সঙ্গে তাঁর গাওয়া শেষ গান ‘দ্য শ্যাডোয়ি লাইট’ এখন অনুরাগীদের কাছে এক বেদনার দলিল। গত মার্চ মাসে নিজের শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্টে বারানসী ভ্রমণের একটি ছবি দিয়ে তিনি লিখেছিলেন— “বারাণসী সফর এবং গঙ্গা নদীর তীরে ভ্রমণ করে আমি জীবনের প্রকৃত অর্থ বুঝতে পেরেছি। আমি কে এবং এই পৃথিবীতে আমার কাজ কী ছিল, তা স্পষ্ট হয়েছে।” আজ মনে হচ্ছে, সেই পোস্টেই কি অলক্ষ্যে বিদায়ের সুর বেঁধেছিলেন আশা তাই?
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা এবং মাল্টি-অর্গান ফেলিওরের (অঙ্গ বিকল) কারণেই রবিবার সকালে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা বিশ্ব। সুরের জাদুকরী আর নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া হাজার হাজার গান আগামী বহু শতক ধরে শ্রোতাদের হৃদয়ে অনুরণিত হবে।















