সঙ্গীতশিল্পী দোলা ব্যানার্জির অভিযোগ, সরকারি অনুষ্ঠানে অনৈতিকভাবে তাঁদের গান গাইতে দেওয়া হত না। দোলা বলেন, ২০১৫-১৬ এর আগে পর্যন্ত সুন্দরভাবে কাজ করেছি৷ মাসে তিন চারটে সরকারি অনুষ্ঠান থাকত৷ সরকারি শিল্পী হিসাবে সম্মান ছিল, খুশি ছিলাম৷ কিন্তু ২০১৫-১৬ এর সময় থেকে আমি ধাক্কা খেতে শুরু করি, যখন গিয়ে কাজ পেতাম না।”
কেন কাজ পেতেন না, আজকাল ডট ইন-এর প্রশ্নে দোলা ব্যানার্জি বলেন, “ একটা নেক্সাস কাজ করেছে। একটা বড় চক্র কাজ করেছে। প্রচুর মানুষ যুক্ত আছে। আমাদের প্রতিবাদ সম্পূর্ণভাবেই ইন্দ্রনীল সেন এবং তার যারা নেক্সাস আছে তাঁদের বিরুদ্ধে৷ সমস্ত পরিসরে ভয়ের আবহ তৈরি করেছিল৷ বিভিন্ন বিভাগের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারীরা যুক্ত, অস্থায়ী কর্মচারী, তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের যারা সাধারণ কর্মচারী,ইন্দ্রনীল সেনের হাত ধরে আসা বড় বড় টেন্ডার ডেকে আনা এজেন্ট, মাঠে বা মফস্বলে যত দলীয় নেতা সকলে যুক্ত৷ এজেন্টের সঙ্গে যারা যোগাযোগে থাকত, তারা কিন্তু ডিএম, এডিএম, বিডিও, এসডিও, ডিআইসিও, বিশাল অংকের টাকার ব্যাপার। তার তথ্য আমার কাছে আছে।”
দোলা ব্যনার্জি বলেন, “সরকারি অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে আমরা কাজ পেতাম না৷ বলা হত, এই অনুষ্ঠান আপনাদের জন্য নয়, আমরা অন্য কিছু রেখেছি, এই টাকাটা দিলে এই অনুষ্ঠানটা আপনি পাবেন। ৫ লক্ষ টাকা দিলে তারপর সে ৫০ লক্ষ টাকার অনুষ্ঠান পেয়েছে।”
দোলা ব্যনার্জি বলেন, “ কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদানে যে সব অনুষ্ঠান হত সেখানেও টাকা নেওয়া হত৷ ৫০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা সঙ্গীত মেলাতে দিয়ে গান গেয়েছে, আমাদের চোখের সামনে দেখা। ইন্দ্রনীল সেন এবং তার ওখানে নির্দিষ্ট কিছু এজেন্ট। যারা রবীন্দ্র সদন চত্বরে ঘোরাঘুরি করতেন তাঁরা এসব করতেন৷ প্রতিবাদ করেছিলাম, ফেসবুকে লিখেছিলাম৷ সরাসরি থ্রেট কল আসত৷ রবীন্দ্র সদনে আসবেন না। গান গাইতে হলে বাড়িতে বসে গান বা বাইরে তো যাচ্ছেন, বাড়িতে নাও ফিরতে পারেন।”
সরকারি দপ্তরের চিঠি নিতে গেলেও অভব্য আচরণ করা হত বলে অভিযোগ৷ দোলা ব্যনার্জি বলেন, “ ১৫ সালে আমি অ্যাপসের মেম্বারশিপ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিই। শিবাজী চট্টোপাধ্যায়ের হুমকি নিতে পারছিলাম না৷ সৈকত মিত্র ছিলেন কাঠপুতুলের মতো, আসল কাজটা কিন্তু শিবাজী চট্টোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রনীল সেনই করতেন।”
দোলা ব্যানার্জির সংযোজন, “বাসুদেব ঘোষ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাডেমিতে বসতেন, ওনাকে প্রশ্ন করা যদি হয়, বাংলা একাডেমির উপরের ঘরে কী হত? রবীন্দ্র সদনের গেস্ট রুমে ইন্দ্রনীল সেন কেন বিশ্রাম নিতেন? সন্ধেবেলা হলেই ফিশ ফ্রাইয়ের দরকার পড়ত কেন?আমার মত অজস্র শিল্পী তারা এই ফিশ ফ্রাই খেতে যায়নি। তাঁদেরই কাজ করতে দেওয়া হয়নি।”
এই অন্যায়ের প্রতিবাদে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সাহায্যের আর্জি জানাবেন৷ এমন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন দোলা ব্যানার্জি।















