গত রবিবার তালসারিতে ধারাবাহিক 'ভোলেবাবা পার কারেগা'র শুটিং করতে গিয়ে জলে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির। অভিনেতার মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন গোটা টলিউড ইন্ডাস্ট্রি। শোকাহত ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসও। অভিনেতার মৃত্যুতে যে প্রশ্ন উঠে আসছে তা নিয়ে নিজেও চিন্তায় স্বরূপ বিশ্বাস। কারণ, এই ঘটনা কলাকুশলীদের সঙ্গেও হতে পারত। আজকাল ডট ইন-কে আক্ষেপের স্বরে স্বরূপ বিশ্বাস বললেন, "ব্যবস্থাপনার তো অবশ্যই গাফিলতি ছিল। নাহলে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল কী করে? একটা শুটিং ফ্লোর থেকে কেন অর্ধেকের বেশি টেকনিশিয়ানকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হল? তার খেসারত দিতে হল বাংলা ইন্ডাস্ট্রির একজন প্রতিভাবান অভিনেতাকে। টেকনিশিয়ানরা থাকলে তো তাঁদের বাঁচানো যেত।"
স্বরূপ বিশ্বাসের কথায়, "সমুদ্রে শুটিং হচ্ছে হুলিয়া নেই কোনও! এটা কী করে সম্ভব? প্রযোজক,লেখিকা লীনা গাঙ্গুলি বলছেন যে নাকি স্ক্রিপ্টে এমনটা ছিলই না। স্ক্রিপ্টে যদি না থাকে তাহলে পরিচালক কি নিজে নিজে স্ক্রিপ্ট সাজিয়েছেন? এটা কি হওয়া সম্ভব? তাহলে তো পরিচালককে বলতে হবে যে তিনি স্ক্রিপ্টের বাইরে গিয়ে শুটিং করেছেন। যেটা করেছেন তাহলে সেটা নিজের দায়িত্বে করেছেন। অত্যন্ত অব্যবস্থার মধ্যে শুটিং হয়েছে সেটা বোঝাই যাচ্ছে।"
স্বরূপ বিশ্বাস আরও বলেন, "আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যদের এই বিষয়টা গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। ফোরাম যদি আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চান তাহলে আমরা রাজি আছি।"
অন্যদিকে, আর্টিস্ট ফোরামের সহ সভাপতি ভরত কল এবং সহকারী সম্পাদক দেবদূত ঘোষ আজকাল ডট ইন-কে জানিয়েছেন যে, মঙ্গলবার ফোরামের সদস্যরা একটা ব্যক্তিগত মিটিং-এর আয়োজন করেছেন। সেখানে রাহুলের অকাল প্রয়াণ নিয়ে আলোচনা হবে। পরবর্তীতে কি পদক্ষেপ করা যায় এই বিষয়ে সেটা নিয়েও আলোচনা চলবে বলে জানা যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, জলে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে রাহুলের। বেশি পরিমাণে বালি ঢুকে যাওয়ার অভিনেতার ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় জলের তলায় ছিলেন রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ফুসফুসে প্রচুর পরিমাণ জল এবং বালির উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ যে সময় তিনি ডুবে গিয়েছিলেন প্রচুর পরিমাণ জল এবং বালি তাঁর ফুসফুসে চলে যায়। এর ফলেই ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ হয়ে যায়। খাদ্যনালী এবং শ্বাসনালীর মধ্যেও বালি এবং জলের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। রিপোর্টে আরও জানা যাচ্ছে যে অল্প সময় জলে ডুবে থাকলে এমন হয় না। বেশ কিছুক্ষণ জলে থাকলে এমনটা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তমলুক থেকে সোমবার কলকাতায় পল্লীশ্রীর বাড়িতে নিয়ে আসা হয় অভিনেতার মৃতদেহ। তাঁকে শেষ দেখা দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন টলিউডের বহু তারকা, বামফ্রন্টের বহু কর্মী ও অনুরাগীরা। সেদিন কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় রাহুলের।
সমাজমাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে, পুলিশের অনুমতি না নিয়ে কীভাবে শুটিং করা হল? প্রোডাকশন ম্যানেজারের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।















