টলিউড এবং বাংলা সিনেমা মুক্তির হাজার নিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অঙ্কুশ হাজরা৷ 

অঙ্কুশ বলেন," নারী চরিত্র বেজায় জটিল মুক্তির পর আমি একটা ভিডিও বানিয়েছিলাম৷ আমার ২০২৬ এ কোনও ছবি মুক্তি পাচ্ছে না, মনখারাপ হয়েছিল৷ একটা সময় কাজ করতেই আর ইচ্ছা করত না৷ শুটিংয়ের কথা ভাবলেই মনে হত আবার ছবির গল্প নিয়ে ছোটাছুটি করতে হবে৷ কাকে নিয়ে কাজ করব কতদিন করব, কবে রিলিজ করব, রিলিজ করতে দেবে কি না এই নিয়ম সেই নিয়মের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে ভেবে শরীর ছেড়ে দিয়েছিল৷" 

অভিনেতা বলেন, "আমি র‍্যাট রেসে বিশ্বাসী হই৷  এক-দু'বছর ছবি না করলে মানুষ ভুলে যাবে এই ভয়ে যা খুশি বানানোর মানে নেই৷ এখন সিনেমাহলে মানুষ এসে সিনেমা দেখবেন এটা একটা চ্যালেঞ্জিং বিষয়।  তাই গল্প সেরকমই হওয়া প্রয়োজন।" 

 

"আমার আজ রূপাদি'র একটা বক্তব্য খুব ভাল লেগেছে৷ রুপাদি বলেছেন, নাটক নাটকের মতো হবে, যে যাঁর মতো বক্তব্য রাখবেন৷ মনে হচ্ছে যা পরিবর্তন হবে ভালর জন্যই দেবে৷ কোনও না কোনও নিয়ম অবশ্যই থাকবে৷ কিন্তু সেই নিয়ম যেন সিনেমার স্বার্থে হয়৷ সিনেমা বানানোর ক্ষেত্রে যেন কোনও বাধা না থাকে৷" 

"রুদ্রনীল ঘোষের সঙ্গে বহুদিন থেকে আলোচনা হয় এই বিষয়, আমি খুব খুশি, বাংলা ইন্ড্রাস্ট্রির দায়িত্ব যাঁদের কাছে গিয়েছে আমি তাঁদের চিনি, তাঁদের মানসিকতা জানি৷ এরকম মানুষ বাংলা ইন্ড্রাস্ট্রির হাল ধরলে খুব খুশি হব৷" 

"যা অবস্থা হয়েছিল, তাতে ছবি বানানো, ছবির প্রযোজনা করা মুশকিল হয়ে গিয়েছিল৷ এই যে কত কোটি টাকার ছবি হবে, সেই অনুযায়ী ছবির মান নির্ধারণ হয়। অঙ্কটা শুনতে হয়তো ২ কোটি ৩ কোটি, কিন্তু কারও কাছে ২০০ কোটি টাকা আছে সে ২ কোটি টাকা দিয়ে একটা সিনেমা বানাচ্ছে আর কারও কাছে ৫০ লক্ষ টাকা আছে সে ২ কোটি দিয়ে সিনেমা বানাচ্ছে, তখন অনেক পার্থক্য থাকে৷ এবার যাঁর কাছে ২০০ কোটি আছে সে জায়গা পাবে আর যে হয়তো এদিক ওদিক থেকে টাকা জোগাড় করে ছবি করছে সে কি তাহলে জায়গা পাবে না? একটা ছবির মূল্যায়ন বাজেট দিয়ে হয় না৷ প্রযোজকেরা যেন ভালভাবে সিনেমা বানাতে পারে৷ আমি প্রযোজক,  আমি বুঝব কত টাকা লাগবে কীভাবে করব, আর যদি বলেন একটা  ছবির সঙ্গে অন্য ছবিমুক্তির ক্ল্যাশ হওয়া, সেটা ডিস্ট্রিবিউটর বুঝে নেবেন৷ চিরকাল তাই হয়েছে৷ এই নিয়ে সমস্যা হয়নি৷ যাঁর সিনেমায় কোনও টাকা লগ্নি করা নেই, যে সিনেমা বোঝেনা, সে এসে বলে দেবে কত বাজেট কবে রিলিজ হবে, এটা বন্ধ হওয়া উচিত৷ আশা করি বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷"