তামিল চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম প্রবীণ এবং স্পষ্টবক্তা ব্যক্তিত্ব, প্রযোজক-পরিচালক কে রাজন চেন্নাইয়ের আদিয়ার নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সিনেমার ট্রেলার ও অডিও লঞ্চ অনুষ্ঠানে তাঁর নির্ভীক ও বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তিনি সংবাদ শিরোনামে থাকতেন। তাঁর এই আকস্মিক ও মর্মান্তিকভাবে চলে যাওয়ায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

সামাজিক মাধ্যমে প্রবীণ এই প্রযোজকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তামিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির তারকা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ খুশবু সুন্দর তাঁর ‘এক্স’  হ্যান্ডেলে শোকপ্রকাশ করে লেখেন, “ভয়াবহ খবর। আমাদের প্রিয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব, প্রযোজক কে রাজন স্যারের প্রয়াণের খবর শুনে গভীরভাবে মর্মাহত। ওঁর এভাবে আত্মহত্যা করার বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় একজন মানুষ ছিলেন, যিনি কোনও রাখঢাক না করে সরাসরি সত্য কথা বলতে দ্বিধা করতেন না। ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।”

 

 

অভিনেতা বিশাল শোকপ্রকাশ করে লিখেছেন, “কে রাজন স্যারের প্রয়াণের খবর মাত্রই শুনলাম। উনি আত্মহত্যা করেছেন শুনে স্তব্ধ হয়ে গেলাম। এক নির্ভীক বক্তা ছিলেন তিনি। ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। বড্ড দুঃখজনক খবর।”

অন্য দিকে, প্রবীণ অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ আর শরৎকুমার রাজনের অবদানকে স্মরণ করে লিখেছেন, “১৯৮০-র দশক থেকে তামিল সিনেমায় নিজের জায়গা পাকা করা এই বর্ষীয়ান প্রযোজকের এমন আকস্মিক ও বেদনাদায়ক পরিণতি তামিল চলচ্চিত্র জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। শোকসন্তপ্ত পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল।” একই সাথে পরিচালক সেনু রামাস্বামীও রাজনের প্রয়াণকে ‘এক নির্ভীক কণ্ঠস্বরের অবসান’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

 


১৯৮৩ সালে সুরেশ অভিনীত তামিল ছবি ‘ব্রহ্মচারীগল’ -এর মাধ্যমে প্রযোজক হিসেবে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন কে রাজন। শুধু প্রযোজনা নয়, ১৯৯১ সালে নিজালগাল রবি এবং শরৎকুমার অভিনীত ‘নাম্মা উরু মারিয়াম্মা’ ছবিটি পরিচালনাও করেছিলেন তিনি। ওঁর প্রযোজিত ও পরিচালিত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ডাবলস’, ‘আভাল পাভাম’ এবং ‘নিনাইক্কাথা নালিল্লাই’। দীর্ঘ চার দশকের কেরিয়ারে তিনি বেশ কিছু ছবিতে অভিনয়ও করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর পুত্র প্রভুকাণ্থ একজন তামিল অভিনেতা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঠিক কী কারণে ৮৫ বছর বয়সী এই প্রবীণ ব্যক্তিত্ব এমন চরম পথ বেছে নিলেন, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হয়েছে।