নির্বাচনে বিপুল জয়লাভের পর আজ ব্রিগেডে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী ত্রমীলা ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠান শেষে নিজের অভিজ্ঞতা এবং আশার কথা জানালেন আজকাল ডট ইন -কে৷
ত্রমীলা বলেন, "ঐতিহাসিক মুহূর্ত, গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল। আমার একটা অদ্ভুত অনুভূতি হল৷ লক্ষ লক্ষ মানুষ দাঁড়িয়ে রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ এই প্রথম এত কাছ থেকে দেখলাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে শপথ নিতে৷"
"বাইরে মেলার মতো ভিড়৷ প্রচুর লোক ঢুকতে পারেননি। এত ভিড় জীবনে দেখিনি৷ প্রায় পাঁচ কিলোমিটার হেঁটেছি৷ কোনও শ্রেণিবিভাজন নেই। ভিআইপি কার্ড অনেকেই পেয়েছেন৷ আমাদের তো সবসময় তো সামনে থেকে কাজ করা সম্ভব হয় না৷ নানারকম বাধা থাকে, বাধা এসেছে৷ সেই নিয়ে এখন আর কথা বলতে চাই না৷" ত্রমীলার সংযোজন৷
নতুন সরকারের কাছে পশ্চিমবঙ্গবাসী হিসাবে আবেদনও করেছেন ত্রমীলা৷ তিনি বলেন, "সরকার জনগণের জন্য কাজ করেন৷ আমি অভিনেত্রী হওয়ার আগে একজন মানুষ৷ দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রত্যেকে যেন প্রত্যেকের দায়িত্ব পালন করেন৷ ঠিক যেভাবে গ্রাসরুট লেভেলেও পৌঁছে গিয়েছে বিজেপি, একজন সাধারণ মানুষও সর্বোচ্চ প্রশাসনের কাছে পৌঁছতে পারবেন, সেটা আজ অনুষ্ঠানের দেখেও বুঝতে পারলাম৷ যাওয়ার রাস্তাটুকুতে সুরক্ষার কড়াকড়ি ছিল৷ সেটা থাকার সঙ্গত কারণ ছিল৷ কয়েকদিন আগেই যে মর্মান্তিক নিন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে৷ কিন্তু অনুষ্ঠানস্থলের ভিতরে সকলেই সমান৷ এটাই তো হয়৷ ধরুন তিরুপতি মন্দিরে গেকেন, প্রচুর টাকার লাড্ডু নিয়ে গেলেন৷ কিন্তু যখন গর্ভগৃহে প্রবেশ করবেন তখন সকলেই সমান৷ ঠিক এই অনুভূতিটাই হল৷ এত মানুষের এনার্জি একসঙ্গে এ এক অতুলনীয় অভিজ্ঞতা৷ এর আগেও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে আমার৷ কখনও বিমানবন্দর থেকে আনতে গিয়েছি, কখনও অন্য কাজে৷ কিন্তু এমন অভিজ্ঞতা আগে হয়নি৷ "

টলিউড নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ত্রমীলা বলেন,"এটা সকলেই জানেন, এতদিন বিজেপিকে সমর্থন করলে অভিনয় জগতে কাজ পেতে সমস্যা হত৷ কাজ পেত না৷ কাজ না পাওয়ার কারণে কেউ প্রকাশ্যে সমর্থন করত না। এটা তো মানুষকে ফাঁপরে ফেলা৷ আমার ক্ষেত্রে অতটা অসুবিধা হয়নি৷ আমি চরিত্র বুঝে কাজ করি৷ আমি কাজ করেছি৷ সামনে থেকে কাজ করিনি৷ দলে যোগদান করিনি কিন্তু কাজ করেছি৷ তবে একটা বিষয়, কোনও পুরস্কারের জন্য আমাকে মনোনীত করা হত না৷ পুরস্কার পাওয়া তো দূর মনোনয়ন জমা নেওয়া হত না। তবে তার জন্য আমার আক্ষেপ নেই, কারণ পুরস্কারের জন্য পক্ষ নিতেই হবে এমনটা আমি মনে করি না৷ মানুষ পর্দায় দেখছেন সেখানেই আমার গুণমান নির্ধারণ হয়৷ ৩০ বছর অভিনয় করছি, টিকে আছি তো৷"
ইম্পা নিয়ে ত্রমীলার বক্তব্য, " এখন আমাদের কাজ অনেকটা কমে গিয়েছে৷ মুষ্টিমেয় কয়েকজনই কাজ করেন৷ সেটা শুধু অভিনেতা অভিনেত্রী নয়, টেকনিশিয়ান বা মেকআপ আর্টিস্ট সকলের ক্ষেত্রেই, একজন হয়তো পাঁচটা প্রজেক্টে কাজ করছেন, কিন্তু ৫০০ জন বসে আছেন৷ উপর থেকে নীচ পর্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্থ৷ মাথায় যাঁরা বসে আছেন তারাও ভাবছেন না যে দায়িত্ব পেয়েছি, আমার উচিৎ কাজ ভাগ করে দেওয়া৷ কিন্তু তাঁরা নিরপেক্ষ না থেকে সুবিধাবাদী হয়ে গিয়েছেন৷ আশা করছি কাজ বাড়বে৷ একচ্ছত্র আধিপত্য চলে যাবে৷















